ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত শান্তিরক্ষী সদস্য

শামীম বাড়ি ফিরলেন তবে জীবিত নয় নিথর দেহ 

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী :
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৪০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৮২ বার পঠিত
 উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে সামরিক মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে সোয়া নয়টার দিকে নিহত শান্তিরক্ষীদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর ৬ জন সেনা সদস্যের মরদেহ তাদের নিজ এলাকায় সেনাবাহিনীর সামরিক হেলিকপ্টারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে রাজবাড়ীর নিহত শামীম রেজা।
তার বাড়ি জেলার কালুখালি উপজেলার হোগলাডাঙ্গী গ্রামের আলমগীর ফকিরের বড় ছেলে।
সেনা সদস্য শামীম রেজার মরা দেহ বহনকারী সামরিক বিমান কালুখালির মিনি স্টেডিয়াম মাঠে দুপুর দুইটার দিকে ল্যান্ড করে। এ সময় মরা দেহটি সেনা সদস্যরা রিসিভ করে ফ্রিজ বাহি গাড়ি যোগে শামীম রেজা নিজ এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আবার পুনরায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেনা সদস্যরা গার্ড অফ অনার প্রদান করেন। এরপরে পারিবারিক কবরস্থানে শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে,-স্থানীয় হোগলাডাঙ্গী কামিল মাদরাসার ছাত্র ছিলেন শামীম রেজা। শামীম এই মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করেন। পরে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দিয়েছিলেন এবং সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল বগুরা সেনানিবাসে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শামীম সবার বড়। মেজ ভাই সোহেল ফকির সৌদি আরব প্রবাসী, সেজ ভাই সোহান বেকার অবস্থায় বাড়িতেই রয়েছেন এবং একমাত্র বোন মরিয়ম খাতুন হাফেজিয়া মাদরাসায় পড়ালেখা করেন। তার বাবা  আলমগীর ফকির স্থানীয় একটি মসজিদের মোয়াজ্জেম। গত দেড় বছর আগে বিয়ে করেন শামীম। প্রায় ৮ বছরের ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তিনি।
নিহত শামীম রেজার দাদা ইসহাক আলী জানান, শামীম রেজা খুব ভদ্র ছেলে। ওর মতো ভদ্র ছেলে আর হয় না। শামীম রেজা ওদের পরিবারের বড় ছেলে। শামীম রেজার ইনকাম দিয়ে চলত ওদের পরিবার। শামীম রেজার মৃত্যুর খবরে আমরা মর্মাহত।
নিহত শামীম রাজের কাকা তুহিন হাসান জানান, নিহত শামীম রেজা আমার ভাতিজা। শেষ সুদানের ড্রোন হামলায় নিহত হয়। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন সে যেন বেহেস্তবাসী হয়। সে সাথে আরো যারা রয়েছেন তারাও যেন বেহেস্তবাসী হন।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাফজুরুর রহমান জানান,
শামীম রেজা সুদানে ড্রন হামলায় নিহত হয়েছেন। আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি সে যেন শহীদের মর্যাদা পান।
নিহত শামীম রেজার বাবা আলমগীর ফকির জানান, আমার ছেলে শেষ হয়ে গেছে। আমার মনির জন্য দেশবাসী দোয়া করো
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত শান্তিরক্ষী সদস্য

শামীম বাড়ি ফিরলেন তবে জীবিত নয় নিথর দেহ 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৪০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
 উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে সামরিক মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে সোয়া নয়টার দিকে নিহত শান্তিরক্ষীদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর ৬ জন সেনা সদস্যের মরদেহ তাদের নিজ এলাকায় সেনাবাহিনীর সামরিক হেলিকপ্টারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে রাজবাড়ীর নিহত শামীম রেজা।
তার বাড়ি জেলার কালুখালি উপজেলার হোগলাডাঙ্গী গ্রামের আলমগীর ফকিরের বড় ছেলে।
সেনা সদস্য শামীম রেজার মরা দেহ বহনকারী সামরিক বিমান কালুখালির মিনি স্টেডিয়াম মাঠে দুপুর দুইটার দিকে ল্যান্ড করে। এ সময় মরা দেহটি সেনা সদস্যরা রিসিভ করে ফ্রিজ বাহি গাড়ি যোগে শামীম রেজা নিজ এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আবার পুনরায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেনা সদস্যরা গার্ড অফ অনার প্রদান করেন। এরপরে পারিবারিক কবরস্থানে শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে,-স্থানীয় হোগলাডাঙ্গী কামিল মাদরাসার ছাত্র ছিলেন শামীম রেজা। শামীম এই মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করেন। পরে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দিয়েছিলেন এবং সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল বগুরা সেনানিবাসে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শামীম সবার বড়। মেজ ভাই সোহেল ফকির সৌদি আরব প্রবাসী, সেজ ভাই সোহান বেকার অবস্থায় বাড়িতেই রয়েছেন এবং একমাত্র বোন মরিয়ম খাতুন হাফেজিয়া মাদরাসায় পড়ালেখা করেন। তার বাবা  আলমগীর ফকির স্থানীয় একটি মসজিদের মোয়াজ্জেম। গত দেড় বছর আগে বিয়ে করেন শামীম। প্রায় ৮ বছরের ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তিনি।
নিহত শামীম রেজার দাদা ইসহাক আলী জানান, শামীম রেজা খুব ভদ্র ছেলে। ওর মতো ভদ্র ছেলে আর হয় না। শামীম রেজা ওদের পরিবারের বড় ছেলে। শামীম রেজার ইনকাম দিয়ে চলত ওদের পরিবার। শামীম রেজার মৃত্যুর খবরে আমরা মর্মাহত।
নিহত শামীম রাজের কাকা তুহিন হাসান জানান, নিহত শামীম রেজা আমার ভাতিজা। শেষ সুদানের ড্রোন হামলায় নিহত হয়। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন সে যেন বেহেস্তবাসী হয়। সে সাথে আরো যারা রয়েছেন তারাও যেন বেহেস্তবাসী হন।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাফজুরুর রহমান জানান,
শামীম রেজা সুদানে ড্রন হামলায় নিহত হয়েছেন। আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি সে যেন শহীদের মর্যাদা পান।
নিহত শামীম রেজার বাবা আলমগীর ফকির জানান, আমার ছেলে শেষ হয়ে গেছে। আমার মনির জন্য দেশবাসী দোয়া করো