ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
শিশুশ্রম নিরসনে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

অপু দাস
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৭ বার পঠিত

অপু দাস : শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে রাজশাহীতে একটি বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালাটি বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহীর ন্যাশনাল অকুপেশনাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শক ওমর মো. ইমরুল মহসিন। সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানওয়ার জাহান ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. এ.এন.এম. বজলুর রশীদ।
কর্মশালায় শিশুশ্রম প্রতিরোধে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, বিদ্যমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি শিশুশ্রম মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিশুশ্রমের সঙ্গে মানবপাচার, মাদক কারবার ও অন্যান্য অপরাধ জড়িয়ে থাকে। এসব অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের উদ্ধার করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী অঞ্চলে শিশুশ্রমের বাস্তব চিত্র ও নির্মূলের কৌশল তুলে ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ফখরুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্য, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব এবং শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়াই শিশুশ্রম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং শিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।

শিশুশ্রম নিরসনে অর্জন ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মোসা. জুলিয়া জেসমিন। তিনি শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি ও আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিআইএফই মহাপরিদর্শক ওমর মো. ইমরুল মহসিন বলেন, শিশুশ্রম শুধু শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ। এই সমস্যা সমাধানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. এ.এন.এম. বজলুর রশীদ বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা যদি বিদ্যালয়ে ফিরে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানওয়ার জাহান ভূইয়া বলেন, শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল এবং অন্যান্য খাতে শিশুশ্রম পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে কার্যকর নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কর্মশালায় জাতীয় পর্যায়ে শিশুশ্রম পরিস্থিতি ও এ বিষয়ে আইএলও’র সহযোগিতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশ-এর জাতীয় পরামর্শক হালিমা আক্তার। এছাড়া শিশুশ্রম নিরসন ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে ইউসেপ বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরেন সংস্থাটির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. শাহিনুল ইসলাম। প্লেনারি আলোচনায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম, উপসচিব মো. আবদুল ওয়াদুদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় ভবিষ্যতে শিশুশ্রম নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা এবং টেকসই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনা শেষে কর্মশালার সমাপনী অধিবেশন ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, কর্মশালাটি ‘টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ অন ডিসেন্ট ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে এবং ডেনমার্ক ও সুইডেন দূতাবাসের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
অপু দাস


















