ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
র‍্যাব পরিচয়ে সাইবার প্রতারণা

শীতবস্ত্র বিতরণের নামে অর্থ আত্মসাৎ,মারুফ গ্রেপ্তার

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:২৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৭ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) পরিচয় ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. মারুফ হোসেন (২৯)। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোপালপুর বাইপাস রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র‍্যাব সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমন, সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে এই এলিট বাহিনী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. ইসমাইল চৌধুরী রাসেল (৩৭) পেশায় একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। তার পিতা আমিনুল হক চৌধুরী এবং তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার বলাইখা এলাকায়। গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেকে র‍্যাবের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়।
ফোনালাপে ওই ব্যক্তি জানায়, র‍্যাবের পক্ষ থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় একটি বাহিনীর নাম ব্যবহার করায় বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান খান প্রতারকের দেওয়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা পাঠান।
পরবর্তীতে ওই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হলে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল চৌধুরী রাসেল বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ০৫ এবং এতে দণ্ডবিধির ১৭০, ৪২০, ৪০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলা দায়েরের পর র‍্যাব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৫, সদর কোম্পানি, রাজশাহী এবং র‍্যাব-১১, সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জের যৌথ সমন্বয়ে একটি বিশেষ অপারেশন দল গঠন করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানাধীন গোপালপুর বাইপাস রোড এলাকা থেকে প্রতারণা চক্রের মূলহোতা মো. মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মারুফ হোসেনের পিতা রফিকুল ইসলাম। তার বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষ্ণবাটি, বোগদামারী এলাকায়।
র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি র‍্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। সে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে গোদাগাড়ী থানায় জিডি মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

র‍্যাব পরিচয়ে সাইবার প্রতারণা

শীতবস্ত্র বিতরণের নামে অর্থ আত্মসাৎ,মারুফ গ্রেপ্তার

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:২৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) পরিচয় ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. মারুফ হোসেন (২৯)। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোপালপুর বাইপাস রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র‍্যাব সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমন, সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে এই এলিট বাহিনী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. ইসমাইল চৌধুরী রাসেল (৩৭) পেশায় একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। তার পিতা আমিনুল হক চৌধুরী এবং তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার বলাইখা এলাকায়। গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেকে র‍্যাবের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়।
ফোনালাপে ওই ব্যক্তি জানায়, র‍্যাবের পক্ষ থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় একটি বাহিনীর নাম ব্যবহার করায় বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান খান প্রতারকের দেওয়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা পাঠান।
পরবর্তীতে ওই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হলে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল চৌধুরী রাসেল বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ০৫ এবং এতে দণ্ডবিধির ১৭০, ৪২০, ৪০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলা দায়েরের পর র‍্যাব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৫, সদর কোম্পানি, রাজশাহী এবং র‍্যাব-১১, সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জের যৌথ সমন্বয়ে একটি বিশেষ অপারেশন দল গঠন করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানাধীন গোপালপুর বাইপাস রোড এলাকা থেকে প্রতারণা চক্রের মূলহোতা মো. মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মারুফ হোসেনের পিতা রফিকুল ইসলাম। তার বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষ্ণবাটি, বোগদামারী এলাকায়।
র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি র‍্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। সে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে গোদাগাড়ী থানায় জিডি মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত