সর্বশেষ পরিমার্জন:
০৪:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
/
৭২
বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। চলতি শীত মৌসুমে মঙ্গলবার ভোরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পড়ায় স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।
সকালের শুরু থেকেই রাজশাহীতে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। কুয়াশার কারণে সকালবেলা সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে করে সড়ক যোগাযোগে ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক স্থানে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। পাশাপাশি নদীপথ ও রেল যোগাযোগেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দেশ এখনও ‘কুয়াশা বেল্ট’-এর প্রভাবে রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুপুরের আগ পর্যন্ত সূর্যের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকতে পারে।
বিডব্লিউওটির তথ্য অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় দুপুরের আগেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদের দেখা মিলতে পারে। তবে বরিশাল, ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বহু এলাকায় সারাদিনই আকাশ কুয়াশায় ঢাকা থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার, যেখানে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে নেমে আসতে পারে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এছাড়া এক থেকে দুইটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার, যেখানে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার আশঙ্কা রয়েছে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা গভীর নিম্নচাপের সম্ভাবনা নেই। তবে স্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।