ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত, গ্রেপ্তার-2

অপু দাস,স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:২৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৪ বার পঠিত
অপু দাস,স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়ে গেলেও পরে পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী রাজকীয় পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস অতিরিক্ত গতিতে চলতে গিয়ে পুঠিয়াগামী একটি অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলামসহ তিনজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর বাসচালক দ্রুত বাসটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খবর পেয়ে বেলপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে একটি গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে পুলিশ ঘাতক বাসচালককে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। এই গুজবকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও স্থানীয় জনতার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তেজিত জনতা নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতে বাধা প্রদান করে। একপর্যায়ে তারা বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং একজন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) জিম্মি করে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। এমনকি ওই এসআইকে কান ধরতে বাধ্য করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক বাসচালককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম একযোগে অভিযান শুরু করে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় গতকাল কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এলাকা থেকে ঘাতক বাসচালক সাইফুল ইসলাম (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নাটোর সদর উপজেলার কানাইখালী গ্রামের দক্ষিণ পটুয়াপাড়া এলাকার দিয়ানতুল্লাহ প্রামাণিকের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত বাসচালককে আজ বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
পুলিশ আরও জানায়, দুর্ঘটনার দিন রাতেই রাজকীয় পরিবহনের সংশ্লিষ্ট বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ সদস্যদের হেনস্থার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তের একপর্যায়ে গুজব ছড়িয়ে পুলিশকে হেনস্থা ও সরকারি কাজে বাধা প্রদানের মূল হোতা হিসেবে হাসানুর রহমান ওরফে তুহিন (২৬)কে শনাক্ত করা হয়। পরে গতকাল বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার বড় বনগ্রাম চকপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত তুহিনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত, গ্রেপ্তার-2

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:২৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
অপু দাস,স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়ে গেলেও পরে পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী রাজকীয় পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস অতিরিক্ত গতিতে চলতে গিয়ে পুঠিয়াগামী একটি অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলামসহ তিনজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর বাসচালক দ্রুত বাসটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খবর পেয়ে বেলপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে একটি গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে পুলিশ ঘাতক বাসচালককে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। এই গুজবকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও স্থানীয় জনতার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তেজিত জনতা নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতে বাধা প্রদান করে। একপর্যায়ে তারা বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং একজন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) জিম্মি করে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। এমনকি ওই এসআইকে কান ধরতে বাধ্য করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক বাসচালককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম একযোগে অভিযান শুরু করে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় গতকাল কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এলাকা থেকে ঘাতক বাসচালক সাইফুল ইসলাম (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নাটোর সদর উপজেলার কানাইখালী গ্রামের দক্ষিণ পটুয়াপাড়া এলাকার দিয়ানতুল্লাহ প্রামাণিকের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত বাসচালককে আজ বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
পুলিশ আরও জানায়, দুর্ঘটনার দিন রাতেই রাজকীয় পরিবহনের সংশ্লিষ্ট বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ সদস্যদের হেনস্থার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তের একপর্যায়ে গুজব ছড়িয়ে পুলিশকে হেনস্থা ও সরকারি কাজে বাধা প্রদানের মূল হোতা হিসেবে হাসানুর রহমান ওরফে তুহিন (২৬)কে শনাক্ত করা হয়। পরে গতকাল বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার বড় বনগ্রাম চকপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত তুহিনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।