
মোঃ মাসুদ রেজা,সিরাজগঞ্জ :
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নম্বর সায়দাবাদ ইউনিয়নে ১১ দলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পর তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা শাহিনুর আলম, জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা আমির অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ দলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ চলাকালে সায়দাবাদ এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী উসকানিমূলক ও আপত্তিকর স্লোগান দিলে জামায়াত নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে সায়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুস সবুর গুরুতর আহত হন বলে তারা দাবি করেন। ওই ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও হামলা ও মামলা দায়েরের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
জামায়াত নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর এজাহারভুক্ত আসামিরা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে ‘নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’ হয়েছেন। নিজেদের কর্মকাণ্ড আড়াল করতে তারা দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ছাত্রদলের ইউনিয়ন সেক্রেটারি পারভেজ সরকার ফেসবুক লাইভে রাত ১১টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে জামায়াত নেতাকর্মীরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তবে জামায়াত নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তারা প্রশ্ন তোলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলে পুলিশ এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দিয়েছে কি না, কিংবা ঘটনার সময় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না। তাদের দাবি, এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘সাজানো ঘটনা’কে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি ‘বানোয়াট ও মিথ্যা’ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের কেউই ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলেও তারা দাবি করেন।
বিবৃতিতে তারা আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি এবং পূর্বের ঘটনার দায় আড়াল করার উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে তারা বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান। পাশাপাশি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনারও আহ্বান জানান তারা।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 


















