ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

সিসিটিভি বন্ধ করে বিদ্যালয়ের রড-দরজা চুরি: কুষ্টিয়ায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ

রাজ্জাক বিশ্বাস কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা বন্ধ রেখে নিজ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০ মণ রড ও একটি লোহার দরজা চুরির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক আলাউদ্দিন নগর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে এ নোটিশ প্রদান করেন।

শোকজ নোটিশে যা বলা হয়েছে
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়:

“আপনি (প্রধান শিক্ষক) আপনার প্রতিষ্ঠানের পুরাতন রড রাতের আঁধারে বিক্রি করেছেন। এভাবে সরকারি মালামাল বিক্রি করা বিধিসম্মত নয়। বিধায় আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন সুপারিশ করা হবে না—তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, গত ২১ জুলাই রাত ৮টার দিকে প্রায় আধা ঘণ্টার জন্য বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ওই সময়েই প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান এবং নৈশপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমান পুরাতন রড ও লোহার দরজা ভ্যানে করে নিয়ে যান।
রাহাত নামের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানান, “আমরা নিয়মিত বিদ্যালয়ের ওয়াইফাই ব্যবহার করি। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে হেড স্যার এসে নেট বন্ধের কথা বলে আমাদের চলে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর দেখি ভ্যান ভরে রড নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর স্যার আবার নেট চালু করে আমাদের চালাতে বলেন। বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক আমিনুর রহমান রোকন জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে প্রধান শিক্ষক, নাইটগার্ড ও একজন ভ্যানচালক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছেন। ঠিক এর পরপরই সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায় এবং ৩০ মিনিট পর ভ্যানে করে মালামাল নিয়ে যেতে দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের গুদামঘরসংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দা মো. হাবিব জানান, রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান বিদ্যালয়ের লাইট বন্ধ এবং প্রধান শিক্ষক ও নাইটগার্ড গুদামঘর থেকে রড বের করে ভ্যানে সাজাচ্ছেন। এর আগেও তারা এভাবে রাতের আঁধারে মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। প্রধান শিক্ষকের অস্বীকার শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান, চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি নির্ধারিত তিন কার্যদিবসের মধ্যেই শোকজের লিখিত জবাব দেবেন।
শিক্ষা কর্মকর্তার হুঁশিয়ারি: কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, রাতের আঁধারে মালামাল বিক্রির অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নাশকতা ঠেকাতে রূপগঞ্জে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

19 September 2026

কক্সবাজারে জলসীমা থেকে বিপুল ইউরিয়া সার ও নিত্যপণ্যসামগ্রীসহ ১০-পাচারকারী আটক

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

সিসিটিভি বন্ধ করে বিদ্যালয়ের রড-দরজা চুরি: কুষ্টিয়ায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:০৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রাজ্জাক বিশ্বাস কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা বন্ধ রেখে নিজ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০ মণ রড ও একটি লোহার দরজা চুরির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক আলাউদ্দিন নগর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে এ নোটিশ প্রদান করেন।

শোকজ নোটিশে যা বলা হয়েছে
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়:

“আপনি (প্রধান শিক্ষক) আপনার প্রতিষ্ঠানের পুরাতন রড রাতের আঁধারে বিক্রি করেছেন। এভাবে সরকারি মালামাল বিক্রি করা বিধিসম্মত নয়। বিধায় আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন সুপারিশ করা হবে না—তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, গত ২১ জুলাই রাত ৮টার দিকে প্রায় আধা ঘণ্টার জন্য বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ওই সময়েই প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান এবং নৈশপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমান পুরাতন রড ও লোহার দরজা ভ্যানে করে নিয়ে যান।
রাহাত নামের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানান, “আমরা নিয়মিত বিদ্যালয়ের ওয়াইফাই ব্যবহার করি। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে হেড স্যার এসে নেট বন্ধের কথা বলে আমাদের চলে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর দেখি ভ্যান ভরে রড নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর স্যার আবার নেট চালু করে আমাদের চালাতে বলেন। বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক আমিনুর রহমান রোকন জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে প্রধান শিক্ষক, নাইটগার্ড ও একজন ভ্যানচালক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছেন। ঠিক এর পরপরই সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায় এবং ৩০ মিনিট পর ভ্যানে করে মালামাল নিয়ে যেতে দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের গুদামঘরসংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দা মো. হাবিব জানান, রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান বিদ্যালয়ের লাইট বন্ধ এবং প্রধান শিক্ষক ও নাইটগার্ড গুদামঘর থেকে রড বের করে ভ্যানে সাজাচ্ছেন। এর আগেও তারা এভাবে রাতের আঁধারে মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। প্রধান শিক্ষকের অস্বীকার শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান, চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি নির্ধারিত তিন কার্যদিবসের মধ্যেই শোকজের লিখিত জবাব দেবেন।
শিক্ষা কর্মকর্তার হুঁশিয়ারি: কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, রাতের আঁধারে মালামাল বিক্রির অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card