ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের এএসপিদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৪ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষে একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমকপূর্ণ প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার সকালে আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৮৭ জন নবীন কর্মকর্তা ছাড়াও ২৮, ৩৫, ৩৬, ৩৭ ও ৪০তম বিসিএসের কয়েকজন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় কোনো প্রার্থী, এজেন্ট কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের কাছ থেকে অর্থ, উপহার অথবা খাবার গ্রহণ করা যাবে না। তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব, সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা গেলে এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে একটি গ্রহণযোগ্য ও উদাহরণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ এমন পুলিশ বাহিনী প্রত্যাশা করে যারা মানুষের পাশে দাঁড়াবে, সেবা দেবে এবং মানবিক আচরণ করবে। ভয়ভীতি প্রদর্শন নয়, বরং জনবান্ধব মনোভাবই পুলিশের মূল শক্তি হওয়া উচিত। দুর্নীতিকে রাষ্ট্র ও সমাজের বড় শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সব ধরনের বেআইনি আদেশ, অনৈতিক প্রভাব এবং স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সামগ্রিক মূল্যায়নে ‘বেস্ট প্রবেশনার’ হিসেবে নির্বাচিত হন এএসপি মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।
এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করার পর নবীন সহকারী পুলিশ সুপাররা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসব্যাপী মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পেশাদার দায়িত্ব পালনের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের এএসপিদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষে একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমকপূর্ণ প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার সকালে আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৮৭ জন নবীন কর্মকর্তা ছাড়াও ২৮, ৩৫, ৩৬, ৩৭ ও ৪০তম বিসিএসের কয়েকজন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় কোনো প্রার্থী, এজেন্ট কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের কাছ থেকে অর্থ, উপহার অথবা খাবার গ্রহণ করা যাবে না। তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব, সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা গেলে এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে একটি গ্রহণযোগ্য ও উদাহরণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ এমন পুলিশ বাহিনী প্রত্যাশা করে যারা মানুষের পাশে দাঁড়াবে, সেবা দেবে এবং মানবিক আচরণ করবে। ভয়ভীতি প্রদর্শন নয়, বরং জনবান্ধব মনোভাবই পুলিশের মূল শক্তি হওয়া উচিত। দুর্নীতিকে রাষ্ট্র ও সমাজের বড় শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সব ধরনের বেআইনি আদেশ, অনৈতিক প্রভাব এবং স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সামগ্রিক মূল্যায়নে ‘বেস্ট প্রবেশনার’ হিসেবে নির্বাচিত হন এএসপি মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।
এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করার পর নবীন সহকারী পুলিশ সুপাররা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসব্যাপী মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পেশাদার দায়িত্ব পালনের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।