ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার

বাজেট প্রত্যাশা ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক বাস্তবতা

শেখ রিফান আহমেদ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / ২৩ বার পঠিত

শেখ রিফান আহমেদ : প্রতিবছরের মতো এবারও জাতীয় বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ সমানতালে সামনে এসেছে। একটি দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক উন্নয়নের রূপরেখা।

বর্তমান সময়ে দেশের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। ফলে জনগণ এমন একটি বাজেট প্রত্যাশা করছে, যা বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় সহায়ক হবে।

অন্যদিকে, তরুণদের কর্মসংস্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকে। তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ সময়ের দাবি। একই সঙ্গে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে সেবার মান উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। কর আদায়ের নামে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় বাজেটের সাফল্য কেবল বড় অঙ্কের বরাদ্দে নয়, বরং সেই বরাদ্দ কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। জনগণের প্রত্যাশা, এবার এমন একটি বাস্তবমুখী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার এই সময়ে জনগণের আস্থা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম করতে একটি দূরদর্শী, দায়িত্বশীল ও মানবিক বাজেটই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।

  • লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

বাজেট প্রত্যাশা ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক বাস্তবতা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

শেখ রিফান আহমেদ : প্রতিবছরের মতো এবারও জাতীয় বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ সমানতালে সামনে এসেছে। একটি দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক উন্নয়নের রূপরেখা।

বর্তমান সময়ে দেশের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। ফলে জনগণ এমন একটি বাজেট প্রত্যাশা করছে, যা বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় সহায়ক হবে।

অন্যদিকে, তরুণদের কর্মসংস্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকে। তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ সময়ের দাবি। একই সঙ্গে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে সেবার মান উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। কর আদায়ের নামে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় বাজেটের সাফল্য কেবল বড় অঙ্কের বরাদ্দে নয়, বরং সেই বরাদ্দ কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। জনগণের প্রত্যাশা, এবার এমন একটি বাস্তবমুখী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার এই সময়ে জনগণের আস্থা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম করতে একটি দূরদর্শী, দায়িত্বশীল ও মানবিক বাজেটই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।

  • লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা