রাজশাহীর আমে সরগরম হাট

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / ৯ বার পঠিত

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম বানেশ্বর হাটে এখনো বেচাকেনা জমেনি। প্রতি হাটে আমের সরবরাহ বাড়ছে। বিশেষ করে শনিবার থেকে হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি আম পাড়া শুরু হওয়ায় হাট সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে সেই তুলনায় ক্রেতা ও পাইকারদের উপস্থিতি কম। বানেশ্বর আমের হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আম আনা হচ্ছে। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে সবজিবাজারে বসেছে আমের হাট। সরবরাহ এত বেশি যে আমের গাড়ি মহাসড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। গাড়ি থেকে বিক্রেতারা দাম হাঁকছেন। কিন্তু অনেকেই কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। জেলা প্রশাসনের ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী, শনিবার থেকে হিমসাগর আমের বাজারজাত শুরু হয়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতি মণ হিমসাগর ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুর আম গোপালভোগের দাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া গুটি আম ৫০০ থেকে ৭০০ এবং লক্ষ্মণভোগ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।
বানেশ্বরের বাগানমালিক জালাল উদ্দিন গোপালভোগ ও হিমসাগর আমভর্তি ভ্যান নিয়ে হাটে এসেছেন। এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দর কষাকষি করছিলেন। হিমসাগর আমের দাম চাচ্ছিলেন ১ হাজার ৮০০ টাকা। জালাল উদ্দিন বলেন, ‘শনিবার গোপালভোগ ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। সোমবার একই আমের জন্য কেউ ১ হাজার ২০০, কেউ ১ হাজার ৩০০ টাকা বলছেন। ঈদের কারণে অনেক পাইকার আসতে পারেননি। তাই বাজারে দরপতন হয়েছে। বাজারে আম কিনতে আসা ব্যবসায়ী ওসমান মিয়া বলেন, হিমসাগর এখন গাছপাকা অবস্থায় বাজারে আসতে শুরু করেছে। বড় আমের দাম তুলনামূলক ভালো। তবে ছোট আমের দাম কম। বাজারে আম বেশি; কিন্তু ক্রেতা কম। কয়েক দিন পর পরিস্থিতি ভালো হতে পারে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটির কারণে অনেক পাইকার এখনো বাজারে ফেরেননি। এ জন্য সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম।
রাজশাহী বিভাগের আম উৎপাদনের প্রধান তিন জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ। এর মধ্যে বানেশ্বর আমের হাটকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার ধরা হয়। প্রতিদিন বেলা বাড়লে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা এখানে কেনাবেচা করেন। তবে এবার ঈদের পর এখনো হাট জমেনি। এবার রাজশাহীর ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৫ মে থেকে গুটি আম, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানিপসন্দ ও লক্ষ্মণভোগ এবং ৩০ মে থেকে হিমসাগর বাজারজাত শুরু হয়েছে। ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি বাজারে আসবে।




















