ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন
১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী
জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম
বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা
হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
কোরবানির চামড়ার বেহাল দশা

এম.জে.এ মামুন:
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
- / ১৯ বার পঠিত

পবিত্র ঈদুল আযহা শেষে দেশের অন্যতম মূল্যবান রপ্তানিযোগ্য সম্পদ কোরবানির পশুর চামড়ার করুণ পরিণতি আবারও জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী একটি গরুর চামড়ার দাম এক হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা থাকলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেই চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। অনেক ক্ষেত্রে চামড়া বিক্রির জন্য ক্রেতাও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামে গ্রামে ঘুরে চামড়া সংগ্রহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রির সুযোগ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। কেউ লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করেছেন, আবার অনেকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে না পেরে চামড়া খাল-বিল, জঙ্গল কিংবা ফাঁকা স্থানে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল বটতলা এলাকায় বিক্রি করতে না পেরে বিপুল পরিমাণ চামড়া ফেলে রাখা হয়েছে বলে দেখা গেছে। একইভাবে ফতেহাবাদ-দুলালপুর সড়কের ফতেহাবাদ বাজার সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে কয়েকশ চামড়া রাস্তার পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্তমানে এসব চামড়া পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ফতেহাবাদ মোকামবাড়ি এতিমখানার সামনে বিক্রি করতে না পেরে কয়েকশ চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক এতিমখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করা চামড়া বিক্রির কোনো উপায় না পেয়ে পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চামড়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য। কোরবানির চামড়ার অর্থ সাধারণত এতিমখানা, মাদ্রাসা, গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা। অথচ প্রতিবছর একই ধরনের সংকট দেখা দেওয়ায় প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। জনসাধারণের প্রশ্ন, সরকার নির্ধারিত মূল্য মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হলো না কেন? চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি কেন? মধ্যস্বত্বভোগী, আড়তদার, ট্যানারি মালিক নাকি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা; কার কারণে দেশের এই মূল্যবান সম্পদ বছরের পর বছর অবহেলা ও অপচয়ের শিকার হচ্ছে?
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, চামড়া খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হলে প্রতিবছরই কোটি কোটি টাকার এই সম্পদ নষ্ট হবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবেশ, অর্থনীতি ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। বর্তমানে জনমনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কোরবানির চামড়ার এমন বেহাল পরিণতির দায় আসলে কার?
আরও পড়ুন:




















