ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
তাজা খবর
ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম

কিশোরগঞ্জ জেলা কারা ক্যান্টিন বানিজ্য।

জোবায়ের হোসেন খান
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / ২৮ বার পঠিত
কিশোরগঞ্জ থেকে ফিরে জোবায়ের হোসেন খান: কিশোরগঞ্জ কারা ক্যান্টিন (ভিতর) দ্রব্য মূল্যের অতিরিক্ত মূল্য ও নিম্ন মানের খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জামিনে মুক্তি প্রাপ্ত হাজতী আসামী জুয়েল এ অভিযোগ করেছেন।
অনুসন্ধানে কারা ক্যান্টিন (ভিতর) নিম্ন মানের খাবার, যেমন- রুই মাছ এর নামে গ্রাস কার্প, মৃগেল মাছ বিক্রি। তাছাড়াও বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের এমআরপির অধিক মূল্য আদায়, মাসিক মাসোয়ারায় হাসপাতালে সিট বরাদ্দ, প্রকৃত অসুস্থদের চিকিৎসায় অবহেলা, অবৈধ ভাবে কারা রক্ষীদের আত্নীয় স্বজনকে ঔষধ দেওয়া, কারা অভ্যন্তরের ডেইরি ফার্মের দুধ বিক্রিতে অনিয়ম, কারা অভ্যন্তরের সবজির সঠিক বন্টন না করা, বন্দীর দামী কাপর আত্নসাত, সয়াবিনের বদলে নিম্নমানের পাম ওয়েলের ব্যবহার, চিকিৎসা অবহেলায় কারা হেফাজতে আসামির মৃত্যু, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত খাবার প্রদানে অনিয়ম, কারা অভ্যন্তরে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও বন্দীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না, এমপি পুত্র রনির ল্যাপটপ কেলেংকারী, ব্যারিস্টার সুমনের মোবাইল কেলেংকারী, আইন বহির্ভূত ভাবে আসামিদের সেলে(নির্জন) কারাবাস যাপন, পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত কয়েদীদের মাসিক ৫০০ টাকা না দেওয়া, হাজতি আসামিদের কে দিয়ে আইন বহির্ভূতভাবে ক্যানটিনে কাজ করানো, জেলার কর্তৃক বন্দীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, জামিন প্রাপ্ত আসামীদের নিকট হইতে পিসির টাকা আত্মসাত অন্যথায় অন্য মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানোর হুমকি, জেলের আব্বা সহকারী প্রধান কারারক্ষী রোকনুজ্জামান রোকন পরিচিত নং-১২০০৪ জামিন প্রাপ্ত আসামীর আর্থিক অবস্থাভেদে লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়, ঠিকাদারদের নিকট হইতে চাদা না পাওয়া ঠিকাদার সায়েমের নামে মামলা।
এ সকল বিষয় নিশ্চিত এর জন্য জেলার ফারহানা আক্তার বরাবরে ০১/০৪/২৬ ইং তারিখে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হয়। আবেদনের ১ মাস পেরিয়ে গেলেও জেলার এই আবেদনের জবাব দেয়নি। পরবর্তীতে জেল সুপার দিদারুল আলম এর নিকট ০৫/০৫/২০২৬ ইং তারিখে আপীল করা হয়। আপীলের পরে জেলার এবং সুপারের যৌথ স্বাক্ষরে ০৭/০৫/২৬ ইং তারিখে তথ্য প্রদান করেন, উক্ত তথ্যে অনেক জায়গায় অবাস্তব ও অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। যার মাধ্যমে জেল কর্তৃপক্ষের অনিয়মের বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ক্যান্টিনের খাবার মূল্য কত শুনলে যে কারো চোখ চরখ গাছ হয়ে যাবে। ১ পিছ ডিম ভূনা ৫০-৬০ টাকা, আকিজ বিড়ি ২৬-৩০ টাকা, স্টার সিগারেট ২১০-২৬০ টাকা, মেট্রো সিংগেল ১১০ টাকা, লেক্সাস বিস্কুট ১২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির মাংস আলুসহ ২ পিস ৮০ টাকা, ২ পিস ডিম ভাজিকে ৩ পিস করা হয়, দুই পিস সিদ্ধ আলু ২০ টাকা, ১৮ গ্রাম সুপারি ৩০ টাকা, শুটকি ভূনার নামে বন্দীদের সাথে তামাশা করা হয় দেওয়া হয় শুটকির ফ্লেবারযুক্ত আলু ভূনা দাম ৫০ টাকা, মাছ সবজিসহ ১০০ টাকা
তথ্য অধিকার আইনে ডিম ভূনা, শুটকি, আলুসহ বেশ কয়েকটির মূল্য প্রদান করা হয়নি।
এখানে আকিজ বিড়ির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২২  টাকা, জুন ২০২৫ সালে জেল কর্তৃপক্ষ ১ প্যাকেট আকিজ বিড়ির দাম নিত ৩০ টাকা পরবর্তীতে চাপের মুখে তা নেমে আসে ২৭ টাকায় যদিও কারাকর্তৃপক্ষের দাবী বিড়ি ২৫ টাকা প্যাকেট, স্টার সিগারেট ১ প্যাকেট জুন ২০২৫ দাম নিত ২৬০ টাকা এখন নিচ্ছে ২১০ টাকা, মেট্রো সিগারেট সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৮০ টাকা এখানে নিচ্ছে ১১০ টাকা করে যদিও কারা কর্তৃপক্ষের দাবী ১০০ টাকা করে নিচ্ছে জুন ২০২৫ মাসে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার (ভিতর) ক্যান্টিন থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার অধিক আয় করে। ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ধারা ৪০ মোতাবেক গায়ের মূল্যের অতিরিক্ত মূল্যে পন্য বিক্রি করা দন্ডনীয় অপরাধ,  তারপরেও সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান এভাবেই দিনের পর দিন অসহায় বন্দীদের নিকট হতে সেবার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ২ টি ডিমকে ভেজে তিন খন্ড করে ৩ ডিম বলে চালিয়ে দিচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির মাংস ২ পিস আলুসহ, যেখানে প্রতি পিস বয়লার মাংসের ওজন ১২০ গ্রাম বলা হলেও প্রতি পিস ৪০ গ্রামের বেশি না। মাছ ১০০ গ্রাম বলা হলেও ৪০ গ্রামের বেশি না। যা ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ধারা ৪০ মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। (চলবে)
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কিশোরগঞ্জ জেলা কারা ক্যান্টিন বানিজ্য।

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
কিশোরগঞ্জ থেকে ফিরে জোবায়ের হোসেন খান: কিশোরগঞ্জ কারা ক্যান্টিন (ভিতর) দ্রব্য মূল্যের অতিরিক্ত মূল্য ও নিম্ন মানের খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জামিনে মুক্তি প্রাপ্ত হাজতী আসামী জুয়েল এ অভিযোগ করেছেন।
অনুসন্ধানে কারা ক্যান্টিন (ভিতর) নিম্ন মানের খাবার, যেমন- রুই মাছ এর নামে গ্রাস কার্প, মৃগেল মাছ বিক্রি। তাছাড়াও বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের এমআরপির অধিক মূল্য আদায়, মাসিক মাসোয়ারায় হাসপাতালে সিট বরাদ্দ, প্রকৃত অসুস্থদের চিকিৎসায় অবহেলা, অবৈধ ভাবে কারা রক্ষীদের আত্নীয় স্বজনকে ঔষধ দেওয়া, কারা অভ্যন্তরের ডেইরি ফার্মের দুধ বিক্রিতে অনিয়ম, কারা অভ্যন্তরের সবজির সঠিক বন্টন না করা, বন্দীর দামী কাপর আত্নসাত, সয়াবিনের বদলে নিম্নমানের পাম ওয়েলের ব্যবহার, চিকিৎসা অবহেলায় কারা হেফাজতে আসামির মৃত্যু, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত খাবার প্রদানে অনিয়ম, কারা অভ্যন্তরে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও বন্দীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না, এমপি পুত্র রনির ল্যাপটপ কেলেংকারী, ব্যারিস্টার সুমনের মোবাইল কেলেংকারী, আইন বহির্ভূত ভাবে আসামিদের সেলে(নির্জন) কারাবাস যাপন, পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত কয়েদীদের মাসিক ৫০০ টাকা না দেওয়া, হাজতি আসামিদের কে দিয়ে আইন বহির্ভূতভাবে ক্যানটিনে কাজ করানো, জেলার কর্তৃক বন্দীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, জামিন প্রাপ্ত আসামীদের নিকট হইতে পিসির টাকা আত্মসাত অন্যথায় অন্য মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানোর হুমকি, জেলের আব্বা সহকারী প্রধান কারারক্ষী রোকনুজ্জামান রোকন পরিচিত নং-১২০০৪ জামিন প্রাপ্ত আসামীর আর্থিক অবস্থাভেদে লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়, ঠিকাদারদের নিকট হইতে চাদা না পাওয়া ঠিকাদার সায়েমের নামে মামলা।
এ সকল বিষয় নিশ্চিত এর জন্য জেলার ফারহানা আক্তার বরাবরে ০১/০৪/২৬ ইং তারিখে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হয়। আবেদনের ১ মাস পেরিয়ে গেলেও জেলার এই আবেদনের জবাব দেয়নি। পরবর্তীতে জেল সুপার দিদারুল আলম এর নিকট ০৫/০৫/২০২৬ ইং তারিখে আপীল করা হয়। আপীলের পরে জেলার এবং সুপারের যৌথ স্বাক্ষরে ০৭/০৫/২৬ ইং তারিখে তথ্য প্রদান করেন, উক্ত তথ্যে অনেক জায়গায় অবাস্তব ও অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। যার মাধ্যমে জেল কর্তৃপক্ষের অনিয়মের বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ক্যান্টিনের খাবার মূল্য কত শুনলে যে কারো চোখ চরখ গাছ হয়ে যাবে। ১ পিছ ডিম ভূনা ৫০-৬০ টাকা, আকিজ বিড়ি ২৬-৩০ টাকা, স্টার সিগারেট ২১০-২৬০ টাকা, মেট্রো সিংগেল ১১০ টাকা, লেক্সাস বিস্কুট ১২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির মাংস আলুসহ ২ পিস ৮০ টাকা, ২ পিস ডিম ভাজিকে ৩ পিস করা হয়, দুই পিস সিদ্ধ আলু ২০ টাকা, ১৮ গ্রাম সুপারি ৩০ টাকা, শুটকি ভূনার নামে বন্দীদের সাথে তামাশা করা হয় দেওয়া হয় শুটকির ফ্লেবারযুক্ত আলু ভূনা দাম ৫০ টাকা, মাছ সবজিসহ ১০০ টাকা
তথ্য অধিকার আইনে ডিম ভূনা, শুটকি, আলুসহ বেশ কয়েকটির মূল্য প্রদান করা হয়নি।
এখানে আকিজ বিড়ির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২২  টাকা, জুন ২০২৫ সালে জেল কর্তৃপক্ষ ১ প্যাকেট আকিজ বিড়ির দাম নিত ৩০ টাকা পরবর্তীতে চাপের মুখে তা নেমে আসে ২৭ টাকায় যদিও কারাকর্তৃপক্ষের দাবী বিড়ি ২৫ টাকা প্যাকেট, স্টার সিগারেট ১ প্যাকেট জুন ২০২৫ দাম নিত ২৬০ টাকা এখন নিচ্ছে ২১০ টাকা, মেট্রো সিগারেট সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৮০ টাকা এখানে নিচ্ছে ১১০ টাকা করে যদিও কারা কর্তৃপক্ষের দাবী ১০০ টাকা করে নিচ্ছে জুন ২০২৫ মাসে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার (ভিতর) ক্যান্টিন থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার অধিক আয় করে। ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ধারা ৪০ মোতাবেক গায়ের মূল্যের অতিরিক্ত মূল্যে পন্য বিক্রি করা দন্ডনীয় অপরাধ,  তারপরেও সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান এভাবেই দিনের পর দিন অসহায় বন্দীদের নিকট হতে সেবার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ২ টি ডিমকে ভেজে তিন খন্ড করে ৩ ডিম বলে চালিয়ে দিচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির মাংস ২ পিস আলুসহ, যেখানে প্রতি পিস বয়লার মাংসের ওজন ১২০ গ্রাম বলা হলেও প্রতি পিস ৪০ গ্রামের বেশি না। মাছ ১০০ গ্রাম বলা হলেও ৪০ গ্রামের বেশি না। যা ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ধারা ৪০ মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। (চলবে)