ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার

আত্মরক্ষার্থে কন্যা শিশুদের কারাতে শেখানো জরুরি 

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন:
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:০২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / ৩৮ বার পঠিত
বর্তমান সমাজে নারীর নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই চোখে পড়ে কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন, অপহরণ কিংবা যৌন হয়রানির খবর। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা কিংবা অনলাইন- কোথাও যেন তারা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। এমন বাস্তবতায় কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। আর এ ক্ষেত্রে কারাতে বা আত্মরক্ষামূলক মার্শাল আর্ট শিক্ষা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
কারাতে কেবল একটি খেলাধুলা নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, সাহস ও আত্মরক্ষার এক অনন্য মাধ্যম। ছোটবেলা থেকেই যদি কন্যাশিশুরা কারাতে শেখার সুযোগ পায়, তবে তারা শারীরিকভাবে যেমন শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তেমনি মানসিকভাবেও সাহসী ও আত্মনির্ভরশীল হবে। সমাজে চলাফেরার সময় তারা নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারবে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা ভয়ে বা আত্মবিশ্বাসের অভাবে প্রতিরোধ করতে পারে না। কিন্তু কারাতে প্রশিক্ষণ একজন শিশুকে সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং আত্মরক্ষার কৌশল প্রয়োগ করতে শেখায়। এতে অপরাধী সহজে আক্রমণ চালাতে সাহস পায় না। অনেক ক্ষেত্রেই আত্মরক্ষার সামান্য কৌশল একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে।
কন্যাশিশুদের জন্য কারাতে শেখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানসিক বিকাশ। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তারা শৃঙ্খলাবোধ, ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখে। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে শিশুরা শারীরিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে স্থূলতা, মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসহীনতা বাড়ছে। কারাতে চর্চা শিশুদের সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। এটি তাদের মনোযোগ বৃদ্ধি করে, পড়াশোনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে।
অনেক অভিভাবক মনে করেন, মেয়েদের কারাতে শেখালে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে। বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রকৃত কারাতে শিক্ষা কাউকে সহিংস হতে শেখায় না; বরং আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মসম্মানবোধ গড়ে তোলে। একজন প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থী জানে কোথায় ধৈর্য ধরতে হবে এবং কোথায় আত্মরক্ষার প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাই কারাতে শেখা মানেই মারামারি শেখা নয়, বরং বিপদের সময় নিজেকে নিরাপদ রাখার কৌশল শেখা।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম থাকলেও আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ খুব কমই দেখা যায়। অথচ স্কুল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক বা সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে কারাতে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে কন্যাশিশুরা ছোটবেলা থেকেই আত্মরক্ষার শিক্ষা পাবে। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও সীমিত। ফলে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও স্বল্পব্যয়ে কারাতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এছাড়া গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেক সময় সামাজিক কুসংস্কার বা সংকীর্ণ মানসিকতার কারণে মেয়েদের খেলাধুলা কিংবা মার্শাল আর্ট শেখাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এই মানসিকতা বদলাতে হবে। আজকের কন্যাশিশুই আগামী দিনের মা, শিক্ষক, প্রশাসক, চিকিৎসক কিংবা রাষ্ট্রনেতা। তাদের আত্মবিশ্বাসী ও নিরাপদ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নারীদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমনকি অনেক স্কুলে এটি বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে। বাংলাদেশেও সময় এসেছে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার। শুধু আইন করে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; নারীদেরও আত্মরক্ষায় সক্ষম করে তুলতে হবে।
কন্যাশিশুদের কারাতে শিক্ষা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। এটি তাদের আত্মরক্ষার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী, সচেতন ও দৃঢ়চেতা মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। নিরাপদ সমাজ গঠনে কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার শিক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেয়েরা আরও সাহসী ও নিরাপদ হয়ে উঠবে- এটাই প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

আত্মরক্ষার্থে কন্যা শিশুদের কারাতে শেখানো জরুরি 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:০২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
বর্তমান সমাজে নারীর নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই চোখে পড়ে কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন, অপহরণ কিংবা যৌন হয়রানির খবর। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা কিংবা অনলাইন- কোথাও যেন তারা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। এমন বাস্তবতায় কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। আর এ ক্ষেত্রে কারাতে বা আত্মরক্ষামূলক মার্শাল আর্ট শিক্ষা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
কারাতে কেবল একটি খেলাধুলা নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, সাহস ও আত্মরক্ষার এক অনন্য মাধ্যম। ছোটবেলা থেকেই যদি কন্যাশিশুরা কারাতে শেখার সুযোগ পায়, তবে তারা শারীরিকভাবে যেমন শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তেমনি মানসিকভাবেও সাহসী ও আত্মনির্ভরশীল হবে। সমাজে চলাফেরার সময় তারা নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারবে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা ভয়ে বা আত্মবিশ্বাসের অভাবে প্রতিরোধ করতে পারে না। কিন্তু কারাতে প্রশিক্ষণ একজন শিশুকে সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং আত্মরক্ষার কৌশল প্রয়োগ করতে শেখায়। এতে অপরাধী সহজে আক্রমণ চালাতে সাহস পায় না। অনেক ক্ষেত্রেই আত্মরক্ষার সামান্য কৌশল একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে।
কন্যাশিশুদের জন্য কারাতে শেখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানসিক বিকাশ। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তারা শৃঙ্খলাবোধ, ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখে। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে শিশুরা শারীরিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে স্থূলতা, মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসহীনতা বাড়ছে। কারাতে চর্চা শিশুদের সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। এটি তাদের মনোযোগ বৃদ্ধি করে, পড়াশোনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে।
অনেক অভিভাবক মনে করেন, মেয়েদের কারাতে শেখালে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে। বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রকৃত কারাতে শিক্ষা কাউকে সহিংস হতে শেখায় না; বরং আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মসম্মানবোধ গড়ে তোলে। একজন প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থী জানে কোথায় ধৈর্য ধরতে হবে এবং কোথায় আত্মরক্ষার প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাই কারাতে শেখা মানেই মারামারি শেখা নয়, বরং বিপদের সময় নিজেকে নিরাপদ রাখার কৌশল শেখা।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম থাকলেও আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ খুব কমই দেখা যায়। অথচ স্কুল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক বা সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে কারাতে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে কন্যাশিশুরা ছোটবেলা থেকেই আত্মরক্ষার শিক্ষা পাবে। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও সীমিত। ফলে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও স্বল্পব্যয়ে কারাতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এছাড়া গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেক সময় সামাজিক কুসংস্কার বা সংকীর্ণ মানসিকতার কারণে মেয়েদের খেলাধুলা কিংবা মার্শাল আর্ট শেখাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এই মানসিকতা বদলাতে হবে। আজকের কন্যাশিশুই আগামী দিনের মা, শিক্ষক, প্রশাসক, চিকিৎসক কিংবা রাষ্ট্রনেতা। তাদের আত্মবিশ্বাসী ও নিরাপদ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নারীদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমনকি অনেক স্কুলে এটি বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে। বাংলাদেশেও সময় এসেছে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার। শুধু আইন করে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; নারীদেরও আত্মরক্ষায় সক্ষম করে তুলতে হবে।
কন্যাশিশুদের কারাতে শিক্ষা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। এটি তাদের আত্মরক্ষার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী, সচেতন ও দৃঢ়চেতা মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। নিরাপদ সমাজ গঠনে কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার শিক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেয়েরা আরও সাহসী ও নিরাপদ হয়ে উঠবে- এটাই প্রত্যাশা।