ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন
১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী
জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম
বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা
হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
সমুদ্রের সৌন্দর্যের আড়ালে মুগ্ধতা, বাস্তবতা ও কিছু অপ্রাপ্তির গল্প

মোঃ আরিফুর রহমান
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / ১৫ বার পঠিত

দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা, জীবনের নানা দায়িত্ব আর শহুরে কোলাহলের মাঝে মানুষ কখনো কখনো একটু শান্তি খোঁজে। সেই শান্তির খোঁজেই পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হয়েছিলাম বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। বহুবার ছবিতে দেখা, বহুবার মানুষের মুখে শোনা সেই সমুদ্রকে এবার কাছ থেকে দেখার সুযোগ হলো। ভেবেছিলাম এটি হবে শুধুই আনন্দ আর মুগ্ধতার একটি সফর। কিন্তু ফিরে এসে উপলব্ধি করেছি, কক্সবাজার শুধু সৌন্দর্যের গল্প নয়; এর আড়ালেও রয়েছে কিছু বাস্তবতা, কিছু অপ্রাপ্তি এবং কিছু প্রশ্ন।
কক্সবাজার পৌঁছেই চোখের সামনে ধরা দিলো বিশাল সমুদ্র। যতদূর চোখ যায় শুধু নীল জলরাশি আর সোনালি বালুকাবেলা। সমুদ্রের অবিরাম গর্জন, শীতল বাতাস আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য মুহূর্তেই মনকে অন্য এক জগতে নিয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, জীবনের সমস্ত ক্লান্তি যেন ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে যাচ্ছে।
ভোরের কক্সবাজার ছিল অন্যরকম সুন্দর। সূর্যের প্রথম আলো যখন সমুদ্রের বুকে পড়ে ঝলমল করতে শুরু করে, তখন প্রকৃতি যেন নিজের হাতে এক অপূর্ব শিল্পকর্ম তৈরি করে। সৈকতের বালুর ওপর হাঁটতে হাঁটতে অনুভব করেছি এক গভীর প্রশান্তি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সেই মুহূর্তগুলো ছিল সত্যিই আনন্দময়। শিশুদের উচ্ছ্বাস, প্রিয়জনদের হাসিমুখ আর সমুদ্রের বিশালতা—সব মিলিয়ে সময়গুলো হয়ে উঠেছিল স্মরণীয়।
বিকেলে মেরিন ড্রাইভে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাও ছিল অনন্য। এক পাশে উত্তাল সমুদ্র, অন্য পাশে সবুজ পাহাড়। প্রকৃতির এই অসাধারণ সমন্বয় যে কাউকে মুগ্ধ করবে। সূর্যাস্তের সময় আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া লালচে আভা আর সমুদ্রের বুকে তার প্রতিফলন ছিল এক অবর্ণনীয় দৃশ্য। সেদিন উপলব্ধি করেছিলাম, প্রকৃতির সৌন্দর্যের সামনে মানুষের সব অহংকার কত ক্ষুদ্র।
কিন্তু এই মুগ্ধতার মাঝেও কিছু বাস্তবতা চোখ এড়ায়নি। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হিসেবে কক্সবাজারের যে সৌন্দর্য ও মর্যাদা রয়েছে, তা রক্ষার ক্ষেত্রে এখনও অনেক ঘাটতি দৃশ্যমান। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত হকারদের উপস্থিতি অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়ানোর পরিবেশকে ব্যাহত করে। পর্যটকদের প্রতি তাদের অতিরিক্ত আগ্রহ অনেকের কাছেই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরও হতাশ করেছে সৈকতের কিছু স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা। প্রকৃতির এত সুন্দর একটি উপহারকে আমরা নিজেরাই নোংরা করে তুলছি। পর্যটকদের অসচেতনতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা কক্সবাজারের সৌন্দর্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল রাতের বেলায় সৈকত এলাকায় কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ডের উপস্থিতি। কক্সবাজার একটি পারিবারিক পর্যটন কেন্দ্র। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আসে। তাই নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এই পর্যটন কেন্দ্রের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কক্সবাজারের সৌন্দর্য অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃতি এখানে অকৃপণ হাতে সৌন্দর্য বিলিয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং সাধারণ জনগণ—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কক্সবাজার আরও আকর্ষণীয় এবং বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
ভ্রমণ শেষে যখন বিদায়ের সময় এলো, তখন মনে হচ্ছিল সমুদ্র যেন তার ঢেউ দিয়ে আবারও ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। কক্সবাজার আমাকে দিয়েছে অনেক সুন্দর স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে কিছু অসাধারণ মুহূর্ত এবং একই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি। তাই এই ভ্রমণ শুধু আনন্দের নয়, ভাবনারও একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে।
সমুদ্রের গর্জন আজও কানে বাজে। সোনালি বালুকাবেলা আর সূর্যাস্তের সেই দৃশ্য এখনও চোখে ভাসে। কিন্তু সেই সঙ্গে মনে পড়ে যায় কিছু অপূর্ণতার কথাও। কারণ প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই পরিপূর্ণ হয়, যখন তার চারপাশের পরিবেশও হয় সমান সুন্দর, পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ।
কক্সবাজার আমাকে মুগ্ধ করেছে, আবার ভাবিয়েছেও। আর সেই কারণেই—সমুদ্রের সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্পগুলোও বলা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:





















