রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী সরকার টাউন থেকে বেল মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটারেরও বেশি কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভাংবাড়ী নাককাটিপাড়া, বগুড়াপাড়া, দক্ষিণপাড়া এবং আশপাশের এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি এখনো পাকা না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চলাচল কার্যত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে কাদা ও জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পথচারী, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন কাদায় আটকে পড়ছে, ফলে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ভাংবাড়ী বগুড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুটকিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় এবং মীরডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েক শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। অনেক সময় অভিভাবকরা শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও অনীহা প্রকাশ করেন।
এছাড়া কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। এই এলাকার কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারজাত করা সম্ভব হয় না। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার আবেদন করেও তারা আশ্বাস ছাড়া কিছু পাননি বলে অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধু একটি গ্রামের রাস্তা নয়; প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ পথচারী এই পথ ব্যবহার করেন। তাই জনদুর্ভোগ লাঘব এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
রাণীশংকৈল এলজিইডির প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, “রাস্তাটিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইডিকরণের (Road ID) জন্য প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গেজেট সম্পন্ন হলে সরকারি বরাদ্দ ও উপযুক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

আব্দুল্লাহ আল নোমান 
























