ঢাকা, বাংলাদেশ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

পাথরঘাটার লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪০ দোকান পুড়ে শেষ; ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি আশঙ্কা

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ১নং রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি দোকান ও ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের কয়েক বছরের সঞ্চিত পুঁজি, মালামাল ও দোকানের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, এ ঘটনায় প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে রবিন নামে এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয়রা জানান। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের অধিকাংশ দোকান টিন ও দাহ্য সামগ্রী দিয়ে নির্মিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই বাজারের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি দোকান ও ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে থাকা নগদ অর্থ, মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক কাগজপত্রও আগুনে পুড়ে গেছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস আরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারলে হয়তো আগুনের বিস্তার কমানো সম্ভব হতো এবং আরও কয়েকটি দোকান রক্ষা করা যেত।
অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, পাথরঘাটা উপজেলা সদর থেকে রায়হানপুর ও কাকচিড়া ইউনিয়নের দূরত্ব অনেক হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছাতে সময় লাগে। তাই ভবিষ্যতে জানমাল রক্ষায় রায়হানপুর বা কাকচিড়া ইউনিয়নে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এ অঞ্চলে একটি ফায়ার স্টেশন থাকলে এমন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন,
“এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এবং মাননীয় চিফ হুইপ আলহাজ নুরুল ইসলাম মণি এমপির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।”
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিস তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
26 August 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ৭০০ পণ্যে কানাডার পাল্টা শুল্ক

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

পাথরঘাটার লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪০ দোকান পুড়ে শেষ; ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি আশঙ্কা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:১৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ১নং রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি দোকান ও ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের কয়েক বছরের সঞ্চিত পুঁজি, মালামাল ও দোকানের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, এ ঘটনায় প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে রবিন নামে এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয়রা জানান। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের অধিকাংশ দোকান টিন ও দাহ্য সামগ্রী দিয়ে নির্মিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই বাজারের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি দোকান ও ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে থাকা নগদ অর্থ, মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক কাগজপত্রও আগুনে পুড়ে গেছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস আরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারলে হয়তো আগুনের বিস্তার কমানো সম্ভব হতো এবং আরও কয়েকটি দোকান রক্ষা করা যেত।
অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, পাথরঘাটা উপজেলা সদর থেকে রায়হানপুর ও কাকচিড়া ইউনিয়নের দূরত্ব অনেক হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছাতে সময় লাগে। তাই ভবিষ্যতে জানমাল রক্ষায় রায়হানপুর বা কাকচিড়া ইউনিয়নে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এ অঞ্চলে একটি ফায়ার স্টেশন থাকলে এমন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন,
“এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এবং মাননীয় চিফ হুইপ আলহাজ নুরুল ইসলাম মণি এমপির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।”
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিস তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card