ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তার আবেদন করার একদিন পর আটক আবুল কালাম আজাদ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:   রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মো. আবুল কালাম আজাদকে নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করার একদিনের মাথায় আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে পৌরসভার মহিষালবাড়ী (সাগরপাড়া) এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে ১৯ জুলাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যবসা পরিচালনায় সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাসা থেকে তাকে নিয়ে যান। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করে আসছে। তাদের ভাষ্য, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পরও সেই হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
পরিবারের আরও দাবি, স্থানীয় এক সাংবাদিক ও তার সহযোগীদের প্ররোচনায় বিভিন্ন সময় আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং তার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক আটকের ঘটনাকেও তারা সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো বিরোধের কারণে তাকে আটক করা হয়নি। রাজশাহী জেলা পুলিশ ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত আবেদনে আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, তিনি মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এম.এ ব্রিকস এবং মা ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ ও রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আরসিসিআই) একজন নিয়মিত সদস্য। তিনি দাবি করেন, প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ভ্যাট ও আয়কর প্রদান করে আসছেন।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের সমর্থক হওয়ায় গত ১৭ বছর ধরে বিভিন্নভাবে বৈষম্য, হয়রানি ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তার অভিযোগ, তৎকালীন প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিভিন্ন ঘটনায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও একটি প্রভাবশালী মহল তার বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি সরকারের কাছে নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যবসা পরিচালনায় নির্বিঘ্ন পরিবেশ সৃষ্টি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলার বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
তবে ওই আবেদন জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তাকে আটকের ঘটনায় গোদাগাড়ী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করলেও পুলিশ বলছে, এটি চলমান একটি মামলার তদন্তের অংশ এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :

দুপচাঁচিয়ায় বিয়ে বাড়ি থেকে R15M চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, আটক-২

26 July 2026

নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে মতি নামের এক ব্যক্তির অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার! 

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তার আবেদন করার একদিন পর আটক আবুল কালাম আজাদ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৪:০২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:   রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মো. আবুল কালাম আজাদকে নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করার একদিনের মাথায় আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে পৌরসভার মহিষালবাড়ী (সাগরপাড়া) এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে ১৯ জুলাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যবসা পরিচালনায় সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাসা থেকে তাকে নিয়ে যান। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করে আসছে। তাদের ভাষ্য, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পরও সেই হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
পরিবারের আরও দাবি, স্থানীয় এক সাংবাদিক ও তার সহযোগীদের প্ররোচনায় বিভিন্ন সময় আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং তার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক আটকের ঘটনাকেও তারা সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো বিরোধের কারণে তাকে আটক করা হয়নি। রাজশাহী জেলা পুলিশ ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত আবেদনে আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, তিনি মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এম.এ ব্রিকস এবং মা ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ ও রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আরসিসিআই) একজন নিয়মিত সদস্য। তিনি দাবি করেন, প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ভ্যাট ও আয়কর প্রদান করে আসছেন।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের সমর্থক হওয়ায় গত ১৭ বছর ধরে বিভিন্নভাবে বৈষম্য, হয়রানি ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তার অভিযোগ, তৎকালীন প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিভিন্ন ঘটনায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও একটি প্রভাবশালী মহল তার বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি সরকারের কাছে নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যবসা পরিচালনায় নির্বিঘ্ন পরিবেশ সৃষ্টি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলার বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
তবে ওই আবেদন জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তাকে আটকের ঘটনায় গোদাগাড়ী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করলেও পুলিশ বলছে, এটি চলমান একটি মামলার তদন্তের অংশ এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

Share this news as a Photo Card