ঢাকা, বাংলাদেশ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

পলাশবাড়ী‌তে খাল খনন শেষে প্রকল্পের ৪১ লাখ টাকা ফেরত দিলেন- ইউএনও

মোঃ মজনু মিয়া, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নাকাই খাল পুন:খনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে অব্যয়িত ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সঠিক পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে কম ব্যয়ে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল এ তথ্য জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিউনের নাকাই খালটি পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এরমধ্যে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২৫২ টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট অব্যয়িত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৯২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। খালটির দুই ধারে নারিকেল, জাম,আম, নিমগাছসহ ১ হাজার ৪৪০ টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের গত ১২ মে প্রকল্পটির কাজ
শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করে অগ্রগতি ও মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে কাজের গুণগত মান ও ব্যয়ের বিভিন্ন খাত নিয়মিত তদারকি করা হয়। এর ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন এবং আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধ করা হয়। এরপরও ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা অব্যয়িত থাকে। সরকারি বিধি অনুযায়ী ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য জানান, সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
তিনি নিয়মিত কাজের স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়। তাঁর সুদক্ষ ও সঠিক পরামর্শে প্রকল্পটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় খাল খননের চিত্র। এসময় স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা হয়। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। খাল পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে, কৃষিকাজে সুবিধা বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এলাকাবাসীর দাবী, এই খালটি দিয়ে অন্তত ২০ টির বেশি বিলের পানি নিস্কাশন হচ্ছে। আগে জলাবদ্ধার কারণে অনেক বিলে আমন ধান চাষ করা যেত না। খাল খননের পর পানি প্রবাহ বেড়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা কমেছে। খালটি সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসও পুনরুদ্ধার হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‌‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‍সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। যেকোনো প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

রাজবাড়ীতে ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
26 August 2026

দুদকের মহাপরিচালক ও পরিচালক পদে রদবদল

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

পলাশবাড়ী‌তে খাল খনন শেষে প্রকল্পের ৪১ লাখ টাকা ফেরত দিলেন- ইউএনও

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:২৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
মোঃ মজনু মিয়া, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নাকাই খাল পুন:খনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে অব্যয়িত ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সঠিক পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে কম ব্যয়ে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল এ তথ্য জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিউনের নাকাই খালটি পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এরমধ্যে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২৫২ টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট অব্যয়িত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৯২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। খালটির দুই ধারে নারিকেল, জাম,আম, নিমগাছসহ ১ হাজার ৪৪০ টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের গত ১২ মে প্রকল্পটির কাজ
শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করে অগ্রগতি ও মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে কাজের গুণগত মান ও ব্যয়ের বিভিন্ন খাত নিয়মিত তদারকি করা হয়। এর ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন এবং আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধ করা হয়। এরপরও ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা অব্যয়িত থাকে। সরকারি বিধি অনুযায়ী ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য জানান, সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
তিনি নিয়মিত কাজের স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়। তাঁর সুদক্ষ ও সঠিক পরামর্শে প্রকল্পটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় খাল খননের চিত্র। এসময় স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা হয়। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। খাল পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে, কৃষিকাজে সুবিধা বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এলাকাবাসীর দাবী, এই খালটি দিয়ে অন্তত ২০ টির বেশি বিলের পানি নিস্কাশন হচ্ছে। আগে জলাবদ্ধার কারণে অনেক বিলে আমন ধান চাষ করা যেত না। খাল খননের পর পানি প্রবাহ বেড়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা কমেছে। খালটি সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসও পুনরুদ্ধার হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‌‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‍সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। যেকোনো প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।

Share this news as a Photo Card