ঢাকা, বাংলাদেশ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

পলাশের আনারস স্বাদে অতুলনীয়, বাড়ছে চাহিদা

অরবিন্দ রায়, নরসিংদী:   আনারসের মিষ্টি স্বাদ, মনকাড়া, ঘ্রান, সব মিলে নরসিংদীর পলাশের আনারসে রয়েছে আলাদা কদর। মৌসুমে বাজারে আনারস উঠতে শুরু করলেই ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি  হয় ব্যাপক আগ্রহ। গরমের মৌসুমে রসালো ও সুস্বাদু ফল হিসেবে  আনারসের চাহিদা বাড়ে। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পলাশের ঘোড়াশালের রসালো সুমিষ্ট আনারসের এ বছর বাম্পার ফলনে বাগান মালিকদের মুখে মিষ্টি হাসি ফুটেছে। গুণগত মানের দিক দিয়ে দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে ঘোড়াশালের আনারসের।
ঘোড়াশালের রাবানের আনারস, রসে ভরা ।  ঘোড়াশাল পৌর এলাকা ও জিনারদী ইউনিয়নের প্রায় ৭০ ভাগ জমি আবহাওয়ার দিক থেকে আনারস চাষের উপযোগী। আম কাঁঠাল লটকনের পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের প্রধান অর্থকরি ফসল হচ্ছে আনারস। এসব এলাকার বহুসংখ্যক মানুষের আনারস উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এ এলাকায় প্রায় ১৫০ বছর ধরে ঘোড়াশালে আনারস চাষ শুরু হয়েছে।
জানা যায়, কোনো এক ব্যক্তি সিলেটে বেড়াতে গেলে সিলেট থেকে এনে আনারসের চারা রোপণ করেন। ফলন ভালো হওয়ায় এর চাষ ধীরে ধীরে ব্যাপকতা লাভ করে।এরই মধ্যে পরে কোনো একসময় বিলুপ্ত ঘটে দেশীয় আনারসের জাতটির। সিলেট’হতে আসা চাষকৃত আনারসটি আবহাওয়ার সঙ্গে  খাপ খেয়ে যায়। সিলেট হতে আনা আনারসের জাতটি ঘোড়াশালের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খেলে এবং আনারস চাষে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এলাকায় আনারস চাষে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।

ঘোড়াশালে জিনারদীতে চাষকৃত এ আনারসের জাতটি ঘোড়াশালে জলডুগি আনারস নামে পরিচিত। হানিকুইন এর বৈজ্ঞানিক নাম। টিলা টেঙ্গর এলাকার জমিতে আনারস চাষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। জানা যায়, প্রতি একর জমিতে প্রায় ১৭-১৮ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা হয়। এসব এলাকায় প্রায়ই ১৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়।
পলাশে আনারস চাষের গ্রামগুলো হলো
রাবান, কুড়াইতলী, লাখেরাজ, খাগৈর, বড়িবাড়ি, কাটাবের, বরাব, ধলাদিয়া, গুপিরাই পাড়া, লেবুপাড়া, সাতটিকা ও পাইকসার কিছু অংশ। আনারস চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা আনারস চাষবাস করছে। তারা জানায়, বিঘাপ্রতি জমিতে আনারস চাষে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে প্রতি বিশ্বার আনারসে বিক্রি হয় প্রায় ৬০ হতে ৮০ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় দ্বিগুণ- যা দেশীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
আনারসের ফলন ভালো হলে প্রতি বছর আয় হয় প্রায় ৭-৮ কোটি টাকা। প্রতি একর জমিতে প্রায় ১৮ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা যায়। আনারস চাষিরা জানায়, আনারস পচনশীল ফল তাই এর সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকা দরকার।
আনারস সংরক্ষণের জন্য পলাশ-ঘোড়াশালে কোনো হিমাগার নেই। কৃষকরা আনারস সংরক্ষণের জরুরিভিত্তিতে একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। ঘোড়াশালে এখনো সনাতন পদ্ধতির মাধ্যমেই আনারসের চাষ হচ্ছে।
আনারস উৎপাদনকারিরা জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস চাষ করলে আরও অধিক ফলন হতো এবং দেশও অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হতো। গত বছর সময়এত বৃষ্টি- না হওয়ায় খরায় আনারসের আকার ছোট ছিল। এবার বৃষ্টি হওয়াতে আনারসের আকার বড় হয়েছে। তবে কিছুকিছু জমিতে সঠিক পরিচর্যার অভাবে আকারে ছোট হয়েছে। পলাশ উপজেলা কৃষি অফিসার আয়েশা আক্তার জানান, এবার গত বছরের চেয়ে ৭৫ মে. টন আনারস বেশি ফলন হয়েছে। যেখানে গত বছর ১৬৫০ মে.টন ছিল এবার হয়েছে ১৭২৫ মে. টন আনারস। তাছাড়া কৃষি অফিসের মাঠকর্মীরা নিয়মিত আনারস কৃষকদের পাশে ছিল।
প্রতি হেক্টরে ১৮ হতে ২০ টন আনারসের ফলন হয়েছে। এক হতে দেড় কেজি পর্যন্ত প্রতিটি আনারসের ওজন হওয়ায় কৃষকরা খুশি। তাদের আশা এ বছর অধিক লাভের মুখ দেখতে পাবে। ঘোড়াশালের আনারসের চাহিদা সারাদেশে। দেশের মধ্যে গুণে মানে সুস্বাদু। আনারস হিসেবেও সুপরিচিত। বর্তমানে হাটেবাজারে প্রতি হালি আনারস ১০০ হতে ২৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানায় আনারস গত ১০-১২ দিন হলো বাজারে আসা শুরু হয়েছে বলে দাম তাই দাম একটু বেশি।
রাবান ভালুকা পাড়া গ্রামের প্রকৌশলী প্রান্ত মিত্র ও কুড়াইতলীর জ্ঞানাঞ্জল জানায়,
তাদের প্রত্যেকের চারটি করে আনারসের বাগান রয়েছে। এবছর ফলনও বেশি আকৃতিও গতবারের চেয়ে বড়।
তারা জানায়,রাবান  আআআআস্যদা প্রায় প্রতিদিনই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আমাদের এলাকার আনারস নিয়ে যাচ্ছে।
আনারস বাগানের মালিকদের দাবী আনারস পচনশীল হওয়াতে। এলাকায় একটি হিমাগার নির্মান করা হোক। আনারস শুধু মৌসুমি ফল নয়, এটি  স্হানীয় কৃষকের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজার ব্যবস্হাপনা নিশ্চিত করা গেলে পলাশ,ঘোড়াশালের আনারসের সুনাম আরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ : ফেসবুকে গালাগাল, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
24 August 2026

দেশের অধিকাংশ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন, তারা হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছে: সড়কমন্ত্রী

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

পলাশের আনারস স্বাদে অতুলনীয়, বাড়ছে চাহিদা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

অরবিন্দ রায়, নরসিংদী:   আনারসের মিষ্টি স্বাদ, মনকাড়া, ঘ্রান, সব মিলে নরসিংদীর পলাশের আনারসে রয়েছে আলাদা কদর। মৌসুমে বাজারে আনারস উঠতে শুরু করলেই ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি  হয় ব্যাপক আগ্রহ। গরমের মৌসুমে রসালো ও সুস্বাদু ফল হিসেবে  আনারসের চাহিদা বাড়ে। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পলাশের ঘোড়াশালের রসালো সুমিষ্ট আনারসের এ বছর বাম্পার ফলনে বাগান মালিকদের মুখে মিষ্টি হাসি ফুটেছে। গুণগত মানের দিক দিয়ে দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে ঘোড়াশালের আনারসের।
ঘোড়াশালের রাবানের আনারস, রসে ভরা ।  ঘোড়াশাল পৌর এলাকা ও জিনারদী ইউনিয়নের প্রায় ৭০ ভাগ জমি আবহাওয়ার দিক থেকে আনারস চাষের উপযোগী। আম কাঁঠাল লটকনের পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের প্রধান অর্থকরি ফসল হচ্ছে আনারস। এসব এলাকার বহুসংখ্যক মানুষের আনারস উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এ এলাকায় প্রায় ১৫০ বছর ধরে ঘোড়াশালে আনারস চাষ শুরু হয়েছে।
জানা যায়, কোনো এক ব্যক্তি সিলেটে বেড়াতে গেলে সিলেট থেকে এনে আনারসের চারা রোপণ করেন। ফলন ভালো হওয়ায় এর চাষ ধীরে ধীরে ব্যাপকতা লাভ করে।এরই মধ্যে পরে কোনো একসময় বিলুপ্ত ঘটে দেশীয় আনারসের জাতটির। সিলেট’হতে আসা চাষকৃত আনারসটি আবহাওয়ার সঙ্গে  খাপ খেয়ে যায়। সিলেট হতে আনা আনারসের জাতটি ঘোড়াশালের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খেলে এবং আনারস চাষে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এলাকায় আনারস চাষে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।

ঘোড়াশালে জিনারদীতে চাষকৃত এ আনারসের জাতটি ঘোড়াশালে জলডুগি আনারস নামে পরিচিত। হানিকুইন এর বৈজ্ঞানিক নাম। টিলা টেঙ্গর এলাকার জমিতে আনারস চাষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। জানা যায়, প্রতি একর জমিতে প্রায় ১৭-১৮ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা হয়। এসব এলাকায় প্রায়ই ১৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়।
পলাশে আনারস চাষের গ্রামগুলো হলো
রাবান, কুড়াইতলী, লাখেরাজ, খাগৈর, বড়িবাড়ি, কাটাবের, বরাব, ধলাদিয়া, গুপিরাই পাড়া, লেবুপাড়া, সাতটিকা ও পাইকসার কিছু অংশ। আনারস চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা আনারস চাষবাস করছে। তারা জানায়, বিঘাপ্রতি জমিতে আনারস চাষে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে প্রতি বিশ্বার আনারসে বিক্রি হয় প্রায় ৬০ হতে ৮০ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় দ্বিগুণ- যা দেশীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
আনারসের ফলন ভালো হলে প্রতি বছর আয় হয় প্রায় ৭-৮ কোটি টাকা। প্রতি একর জমিতে প্রায় ১৮ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা যায়। আনারস চাষিরা জানায়, আনারস পচনশীল ফল তাই এর সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকা দরকার।
আনারস সংরক্ষণের জন্য পলাশ-ঘোড়াশালে কোনো হিমাগার নেই। কৃষকরা আনারস সংরক্ষণের জরুরিভিত্তিতে একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। ঘোড়াশালে এখনো সনাতন পদ্ধতির মাধ্যমেই আনারসের চাষ হচ্ছে।
আনারস উৎপাদনকারিরা জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস চাষ করলে আরও অধিক ফলন হতো এবং দেশও অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হতো। গত বছর সময়এত বৃষ্টি- না হওয়ায় খরায় আনারসের আকার ছোট ছিল। এবার বৃষ্টি হওয়াতে আনারসের আকার বড় হয়েছে। তবে কিছুকিছু জমিতে সঠিক পরিচর্যার অভাবে আকারে ছোট হয়েছে। পলাশ উপজেলা কৃষি অফিসার আয়েশা আক্তার জানান, এবার গত বছরের চেয়ে ৭৫ মে. টন আনারস বেশি ফলন হয়েছে। যেখানে গত বছর ১৬৫০ মে.টন ছিল এবার হয়েছে ১৭২৫ মে. টন আনারস। তাছাড়া কৃষি অফিসের মাঠকর্মীরা নিয়মিত আনারস কৃষকদের পাশে ছিল।
প্রতি হেক্টরে ১৮ হতে ২০ টন আনারসের ফলন হয়েছে। এক হতে দেড় কেজি পর্যন্ত প্রতিটি আনারসের ওজন হওয়ায় কৃষকরা খুশি। তাদের আশা এ বছর অধিক লাভের মুখ দেখতে পাবে। ঘোড়াশালের আনারসের চাহিদা সারাদেশে। দেশের মধ্যে গুণে মানে সুস্বাদু। আনারস হিসেবেও সুপরিচিত। বর্তমানে হাটেবাজারে প্রতি হালি আনারস ১০০ হতে ২৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানায় আনারস গত ১০-১২ দিন হলো বাজারে আসা শুরু হয়েছে বলে দাম তাই দাম একটু বেশি।
রাবান ভালুকা পাড়া গ্রামের প্রকৌশলী প্রান্ত মিত্র ও কুড়াইতলীর জ্ঞানাঞ্জল জানায়,
তাদের প্রত্যেকের চারটি করে আনারসের বাগান রয়েছে। এবছর ফলনও বেশি আকৃতিও গতবারের চেয়ে বড়।
তারা জানায়,রাবান  আআআআস্যদা প্রায় প্রতিদিনই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আমাদের এলাকার আনারস নিয়ে যাচ্ছে।
আনারস বাগানের মালিকদের দাবী আনারস পচনশীল হওয়াতে। এলাকায় একটি হিমাগার নির্মান করা হোক। আনারস শুধু মৌসুমি ফল নয়, এটি  স্হানীয় কৃষকের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজার ব্যবস্হাপনা নিশ্চিত করা গেলে পলাশ,ঘোড়াশালের আনারসের সুনাম আরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

Share this news as a Photo Card