ঢাকা, বাংলাদেশ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

যশোরের বাঘারপাড়ায় পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ গ্রাম

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর থেকে : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার জামদিয়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের দুই বোনসহ তিন শিশুর একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিশুরা হলো— উপজেলার জামদিয়া গ্রামের আশিকুর রহমানের মেয়ে ফাহিমা আক্তার (১০) এবং নিছার আলীর মেয়ে লামিয়া আক্তার (১৩) ও তারই আপন ছোট বোন সুলতানা আক্তার (১০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করছিল তিন শিশু। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তারা বাড়ির নিকটবর্তী একটি পুকুরের পাশে যায়। দীর্ঘ সময় তাদের খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন পুকুরের পানিতে তাদের ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালান।
শিশুদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন পানিতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অপর দুজনও পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখছে।
এদিকে একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে জামদিয়া গ্রামে নেমে আসে শোকের মাতম। নিহতদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সন্তান হারানোর শোকে পরিবারগুলোর সদস্যরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামীণ এলাকায় পুকুর ও জলাশয়ের সংখ্যা বেশি হলেও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই নেই। ফলে প্রায়ই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের আরও সচেতন ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। গ্রামের মসজিদগুলোতে নিহত শিশুদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ : ফেসবুকে গালাগাল, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
24 August 2026

দেশের অধিকাংশ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন, তারা হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছে: সড়কমন্ত্রী

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

যশোরের বাঘারপাড়ায় পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ গ্রাম

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর থেকে : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার জামদিয়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের দুই বোনসহ তিন শিশুর একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিশুরা হলো— উপজেলার জামদিয়া গ্রামের আশিকুর রহমানের মেয়ে ফাহিমা আক্তার (১০) এবং নিছার আলীর মেয়ে লামিয়া আক্তার (১৩) ও তারই আপন ছোট বোন সুলতানা আক্তার (১০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করছিল তিন শিশু। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তারা বাড়ির নিকটবর্তী একটি পুকুরের পাশে যায়। দীর্ঘ সময় তাদের খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন পুকুরের পানিতে তাদের ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালান।
শিশুদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন পানিতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অপর দুজনও পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখছে।
এদিকে একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে জামদিয়া গ্রামে নেমে আসে শোকের মাতম। নিহতদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সন্তান হারানোর শোকে পরিবারগুলোর সদস্যরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামীণ এলাকায় পুকুর ও জলাশয়ের সংখ্যা বেশি হলেও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই নেই। ফলে প্রায়ই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের আরও সচেতন ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। গ্রামের মসজিদগুলোতে নিহত শিশুদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Share this news as a Photo Card