ঢাকা, বাংলাদেশ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

চর মাধবদিয়া স্কুলে পাসের হার তলানিতে, শিক্ষকদের অর্থভাগাভাগি

  • রাজু আহমেদ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০১ বার পঠিত
রাজু আহমেদ:   ​ফরিদপুর সদরের ঐতিহ্যবাহী ‘চর মাধবদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়’-এ শিক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরম বেহাল দশা বিরাজ করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬৪ জন (১ জন অনুপস্থিত)। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২২ জন, আর অকৃতকার্য হয়েছে ৪২ জন শিক্ষার্থী! পাসের হার নেমে এসেছে তলানিতে, যা দেখে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
​অভিভাবকদের প্রধান অভিযোগ—শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চেয়ে শিক্ষকদের আগ্রহ টিউশন ফি আদায় ও তা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠেছে মারাত্মক আর্থিক অনিয়ম ও ভুয়া ভাউচার তৈরির অভিযোগ।
​নিয়মবহির্ভূত খরচ ও অদ্ভুত ভাউচার:
প্রধান শিক্ষকের পেশ করা নিজস্ব হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি ৪০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ ব্যাংকিং মাধ্যম ছাড়াই নগদ খরচ করেছেন। অথচ সরকারি শিক্ষাবিধি অনুযায়ী, ৫,০০০ টাকার বেশি নগদ খরচের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি তিনি ভাউচারে আটটি ভিন্ন ভিন্ন শুক্রবার অফিসে যাতায়াত ও ব্যাংক লেনদেনের খরচ দেখিয়েছেন! ‘ছুটির দিনে কোথায় ব্যাংক বা সরকারি অফিস খোলা ছিল?’—এ নিয়ে জনমনে হাসাহাসি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের বিষয়ে থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হলে তিনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষকদের বাঁচানোর পথ দেখিয়ে দেন। পরবর্তীকালে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে শিক্ষার এই করুণ দশা নিয়ে কথা বলতে গেলে, তিনি কোনো সমাধান না দিয়ে গান শুনিয়ে বিষয়টিকে উড়িয়ে দেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
​বর্তমানে এই আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সমস্ত হিসাবের নথি ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) টেবিলে তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
​বিদ্যালয়টির এমন অরাজক পরিস্থিতি, শিক্ষার নিম্নমান এবং নজিরবিহীন দুর্নীতি থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ : ফেসবুকে গালাগাল, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
24 August 2026

দেশের অধিকাংশ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন, তারা হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছে: সড়কমন্ত্রী

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

চর মাধবদিয়া স্কুলে পাসের হার তলানিতে, শিক্ষকদের অর্থভাগাভাগি

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
রাজু আহমেদ:   ​ফরিদপুর সদরের ঐতিহ্যবাহী ‘চর মাধবদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়’-এ শিক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরম বেহাল দশা বিরাজ করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬৪ জন (১ জন অনুপস্থিত)। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২২ জন, আর অকৃতকার্য হয়েছে ৪২ জন শিক্ষার্থী! পাসের হার নেমে এসেছে তলানিতে, যা দেখে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
​অভিভাবকদের প্রধান অভিযোগ—শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চেয়ে শিক্ষকদের আগ্রহ টিউশন ফি আদায় ও তা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠেছে মারাত্মক আর্থিক অনিয়ম ও ভুয়া ভাউচার তৈরির অভিযোগ।
​নিয়মবহির্ভূত খরচ ও অদ্ভুত ভাউচার:
প্রধান শিক্ষকের পেশ করা নিজস্ব হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি ৪০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ ব্যাংকিং মাধ্যম ছাড়াই নগদ খরচ করেছেন। অথচ সরকারি শিক্ষাবিধি অনুযায়ী, ৫,০০০ টাকার বেশি নগদ খরচের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি তিনি ভাউচারে আটটি ভিন্ন ভিন্ন শুক্রবার অফিসে যাতায়াত ও ব্যাংক লেনদেনের খরচ দেখিয়েছেন! ‘ছুটির দিনে কোথায় ব্যাংক বা সরকারি অফিস খোলা ছিল?’—এ নিয়ে জনমনে হাসাহাসি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের বিষয়ে থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হলে তিনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষকদের বাঁচানোর পথ দেখিয়ে দেন। পরবর্তীকালে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে শিক্ষার এই করুণ দশা নিয়ে কথা বলতে গেলে, তিনি কোনো সমাধান না দিয়ে গান শুনিয়ে বিষয়টিকে উড়িয়ে দেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
​বর্তমানে এই আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সমস্ত হিসাবের নথি ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) টেবিলে তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
​বিদ্যালয়টির এমন অরাজক পরিস্থিতি, শিক্ষার নিম্নমান এবং নজিরবিহীন দুর্নীতি থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

Share this news as a Photo Card