রাজু আহমেদ: ফরিদপুর সদরের ঐতিহ্যবাহী ‘চর মাধবদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়’-এ শিক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরম বেহাল দশা বিরাজ করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬৪ জন (১ জন অনুপস্থিত)। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২২ জন, আর অকৃতকার্য হয়েছে ৪২ জন শিক্ষার্থী! পাসের হার নেমে এসেছে তলানিতে, যা দেখে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
অভিভাবকদের প্রধান অভিযোগ—শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চেয়ে শিক্ষকদের আগ্রহ টিউশন ফি আদায় ও তা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠেছে মারাত্মক আর্থিক অনিয়ম ও ভুয়া ভাউচার তৈরির অভিযোগ।
নিয়মবহির্ভূত খরচ ও অদ্ভুত ভাউচার:
প্রধান শিক্ষকের পেশ করা নিজস্ব হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি ৪০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ ব্যাংকিং মাধ্যম ছাড়াই নগদ খরচ করেছেন। অথচ সরকারি শিক্ষাবিধি অনুযায়ী, ৫,০০০ টাকার বেশি নগদ খরচের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি তিনি ভাউচারে আটটি ভিন্ন ভিন্ন শুক্রবার অফিসে যাতায়াত ও ব্যাংক লেনদেনের খরচ দেখিয়েছেন! ‘ছুটির দিনে কোথায় ব্যাংক বা সরকারি অফিস খোলা ছিল?’—এ নিয়ে জনমনে হাসাহাসি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের বিষয়ে থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হলে তিনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষকদের বাঁচানোর পথ দেখিয়ে দেন। পরবর্তীকালে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে শিক্ষার এই করুণ দশা নিয়ে কথা বলতে গেলে, তিনি কোনো সমাধান না দিয়ে গান শুনিয়ে বিষয়টিকে উড়িয়ে দেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
বর্তমানে এই আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সমস্ত হিসাবের নথি ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) টেবিলে তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিদ্যালয়টির এমন অরাজক পরিস্থিতি, শিক্ষার নিম্নমান এবং নজিরবিহীন দুর্নীতি থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

রাজু আহমেদ 



















