মোঃ মাসুদ রেজা,সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি ও মনিরুল ফকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে খালাস পাওয়া আসামিদেরও বিচারের আওতায় এনে যাবজ্জীবনের পরিবর্তে ফাঁসির দাবি জানিয়েছে তারা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের আধুনিক হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত সুজনের পরিবারের সদস্যরা এসব দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের মা মাজেদা বেগম, ভাই আরিফ হোসেন, মো. হিমেল ও মো. রোকন এবং চাচাতো ভাই ওয়ালিদ উপস্থিত ছিলেন।
সুজনের মা মাজেদা বেগম বলেন, “অনেক আশা নিয়ে আমরা গতকাল আদালতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আশা পূরণ হয়নি। আমি ন্যায্য বিচার চাই। ১০ বছর ধরে আমি লড়ে গেছি। আমি ভালো বিচার চাই।”
সুজনের ভাই আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, মামলার “মূল আসামিকে” বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে রাশেদ জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার চাই। যাবজ্জীবন হয়েছে—আমরা ফাঁসি চাই। যারা খালাস পেয়েছে, তাদেরও বিচার চাই।
তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ঘরের দরজার সামনে পাওয়া গিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, “মূল আসামিকে বাঁচাতেই এই রায় দেওয়া হয়েছে।” তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিপক্ষের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২ জুন পবিত্র শবে বরাতের রাতে নিজ বাড়িতে সেলিম রেজা সুজনকে হত্যা করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, পরকীয়ার জেরে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তাঁকে জবাই করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়। পরে সুজনের মা মাজেদা বেগম বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে উম্মে জামিলা তিথি ও মনিরুল ফকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহত সুজনের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও বন্ধুরা বিক্ষোভ করেন। শতাধিক নারী-পুরুষ এ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে “এই রায় মানি না, মানবো না” স্লোগান দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 


















