বিপ্লব সাহা, খুলনা
ডেঙ্গু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সরকার সর্বক্ষণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে নগর ভবনের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় সব কিছুই করা হয় পয়নিষ্কাশন কর্মী দ্বারা ময়লা আবর্জনা ড্রেন নর্দমা পরিষ্কার এডিস মশা নিধনের জন্য ওষুধ প্রয়োগ জনসচেতন করা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা হয়, তবে পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও সতর্ক হওয়া উচিত নিজস্ব ঘরবাড়ি ও আঙ্গিনা মশা মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে যা যা করণীয় তা যদি নিজ উদ্যোগে করা হয় তাহলে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারেনা একই সাথে এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সকল জনগণ মিলিতভাবে এডিস মশা নিধন ও এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে একটু দায়িত্বের সাথে কাজ করলে ডেঙ্গুর মতন মহামারী সমস্যার থেকে সমাধান পাওয়া সম্ভব,
এসব কথা বলেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, এ সময় তিনি আরো বলেন আমাদের দেশে সাধারণত জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে ডেঙ্গুর প্রভাবটা বৃদ্ধি পায় কারণ বর্ষার মৌসম রাস্তাঘাট ময়লা আবর্জনা পরিপূর্ণ থাকে বাড়ির আঙিনা স্যতসেতে থাকে আর যেসব কারণে মশার উৎপত্তি বৃদ্ধি পায় সেগুলো সাধারণত সবার জানা থাকলেও সামান্য অবহেলার কারণে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়, ফ্রিজ এসি ফুলের টব টায়ার নারকেলের খোলায় জমে থাকা পানিতে এবং বাড়ির আশেপাশে ছোট ছোট ড্রেন নর্দমায় পলিথিন, ছেঁড়া জুতা, ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখার কারণে মশা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উৎপাত বৃদ্ধি পায় আর সেখান থেকেই ছড়ায় ডেঙ্গু সহ বিভিন্ন ধরনের রোগ।
এসময় বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৯৪ জন। চলতি বছরে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৮৫ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৩১ জন। এ ছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯৯৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৯২৩ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন ৮৬২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৭ হাজার ৭৫৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৩৮১ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২১৫ জন, বরিশালে ১১৭, চট্টগ্রামে ১০৭, ময়মনসিংহে ৭১ এবং রাজশাহীতে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন
তবে এসকল বিভাগের মধ্যে আমাদের খুলনায় উদ্বেগ জনক হারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে, একটু সচেতনতা চিকিৎসায় অবহেলা না করে ডেঙ্গু থেকে পরিত্রাণের পাওয়ার জন্য যা যা করার প্রয়োজন তা করতে পারলে ডেঙ্গুতে মানুষ মারা যাবে না।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 


















