ঢাকা, বাংলাদেশ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

কটিয়াদী শাহীন ক্যাডেট স্কুলে অনিয়ম ও বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগ

নাঈম ইসলাম
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শাহীন ক্যাডেট একাডেমিক নামে এক স্কুলের নানা অনিয়ম, অতিরিক্ত ফি আদায় ও শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৯আগস্ট) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেনীর মর্নিং শিফটের আদ্রিতা ফাহিম নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোমদোহা জাহান মুমু এই অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পত্রে মোমদোহা জাহান মুমু বলেন, ভর্তির সময় প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ২-৪ হাজার টাকা ভর্তি ফি নেওয়া হয় এবং এ খাতে বছরে মোট প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আদায় করছেন তারা। কিন্তু অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করা হলেও অত্যন্ত কম বেতনে প্রায় ৩-৫ হাজার টাকা বেতনের শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো হয়। প্রতি ১৫ দিন বা এক মাস পরপর পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়। ঘনঘন পরীক্ষার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ক্লাস পার্টির নামে প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়। বছরে ৩/৪ বারে এ ধরনের পার্টির নামে বছরে ১৫ থেকে ২০লাখ টাকা অর্থ আদায় করছে তারা।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের আইপিএস ক্রয়ের কথা বলে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে বছরে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। বাধ্যতামূলক বই বিক্রির নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া এবং এমন কিছু বই কিনতে বাধ্য করা হয়, যেগুলো শিক্ষার্থীরা সারা বছরে খুব কম বা একেবারেই ব্যবহার করে না।
প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত খাতা ও স্কুল ড্রেস প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের কমিশন দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত মূল্যে ক্রয় করতে হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে মারধর করে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক।
কিছু শিক্ষিকা অভিভাবকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে উপহার গ্রহণ করেন এবং উপহার প্রদানকারী অভিভাবকদের সন্তানদের পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি নম্বর দেওয়া হয়। নিয়মিত উপহার প্রদানকারী অভিভাবকদের সন্তানদের মেধাক্রম বা রোল পিছনে থাকলেও বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা সফরের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়। কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক শিক্ষা সফরে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের বিভিন্নভাবে অপমান বা চাপ প্রয়োগ করা হয়। মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ না করলে ৫০-১০০ টাকা জরিমানা নেওয়া হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়, যা তাদের মধ্যে ভয় ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।

প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আনিসকে ঈদ বোনাস দেওয়ার নামে প্রতি ঈদে শিক্ষার্থীপ্রতি ৫০-১০০ টাকা করে বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করা হয় এবং এভাবে বছরে প্রায় ১ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করছে তারা। বছরের শুরুতে পিকনিকের আয়োজন করে শিক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ১২শ-১৬শ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অভিভাবক অংশগ্রহণ করলেও একই হারে চাঁদা নেওয়া হয়।
প্রতি তিন মাস পরপর অনুষ্ঠিত পরীক্ষার জন্য প্লে থেকে প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীপ্রতি ২৫০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫০ টাকা করে পরীক্ষা ফি নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি মাসিক মূল্যায়ন পরীক্ষার নামেও শিক্ষার্থীপ্রতি ৫০ টাকা করে নিচ্ছে তারা।

উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, পরীক্ষা ফি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পিকনিকের চাঁদা, বই-খাতা ও ড্রেস বিক্রির হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও প্রশাসনিক নথিপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইমরানা আহমেদ বলেন, ভর্তি ফি বা বই বিতরণে সরকারের নির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা নেই। যেই অভিযোগগুলো করেছে সেটার কোন ভিত্তি নেই। অভিযোগের একটি কথাও সত্য না। যেহেতু অভিযোগ করেছে, তাহলে উর্ধতনরা তদন্ত করে সত্যটা উন্মোচন করুক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আফরোজ মারলিজ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশই আরও শক্তিশালী করবে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতি

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
25 August 2026

বুড়িচং প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত সভাপতি খোরশেদ, সম্পাদক জহিরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

কটিয়াদী শাহীন ক্যাডেট স্কুলে অনিয়ম ও বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:১৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

নাঈম ইসলাম
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শাহীন ক্যাডেট একাডেমিক নামে এক স্কুলের নানা অনিয়ম, অতিরিক্ত ফি আদায় ও শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৯আগস্ট) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেনীর মর্নিং শিফটের আদ্রিতা ফাহিম নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোমদোহা জাহান মুমু এই অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পত্রে মোমদোহা জাহান মুমু বলেন, ভর্তির সময় প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ২-৪ হাজার টাকা ভর্তি ফি নেওয়া হয় এবং এ খাতে বছরে মোট প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আদায় করছেন তারা। কিন্তু অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করা হলেও অত্যন্ত কম বেতনে প্রায় ৩-৫ হাজার টাকা বেতনের শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো হয়। প্রতি ১৫ দিন বা এক মাস পরপর পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়। ঘনঘন পরীক্ষার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ক্লাস পার্টির নামে প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়। বছরে ৩/৪ বারে এ ধরনের পার্টির নামে বছরে ১৫ থেকে ২০লাখ টাকা অর্থ আদায় করছে তারা।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের আইপিএস ক্রয়ের কথা বলে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে বছরে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। বাধ্যতামূলক বই বিক্রির নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া এবং এমন কিছু বই কিনতে বাধ্য করা হয়, যেগুলো শিক্ষার্থীরা সারা বছরে খুব কম বা একেবারেই ব্যবহার করে না।
প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত খাতা ও স্কুল ড্রেস প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের কমিশন দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত মূল্যে ক্রয় করতে হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে মারধর করে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক।
কিছু শিক্ষিকা অভিভাবকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে উপহার গ্রহণ করেন এবং উপহার প্রদানকারী অভিভাবকদের সন্তানদের পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি নম্বর দেওয়া হয়। নিয়মিত উপহার প্রদানকারী অভিভাবকদের সন্তানদের মেধাক্রম বা রোল পিছনে থাকলেও বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা সফরের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়। কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক শিক্ষা সফরে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের বিভিন্নভাবে অপমান বা চাপ প্রয়োগ করা হয়। মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ না করলে ৫০-১০০ টাকা জরিমানা নেওয়া হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়, যা তাদের মধ্যে ভয় ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।

প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আনিসকে ঈদ বোনাস দেওয়ার নামে প্রতি ঈদে শিক্ষার্থীপ্রতি ৫০-১০০ টাকা করে বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করা হয় এবং এভাবে বছরে প্রায় ১ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করছে তারা। বছরের শুরুতে পিকনিকের আয়োজন করে শিক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ১২শ-১৬শ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অভিভাবক অংশগ্রহণ করলেও একই হারে চাঁদা নেওয়া হয়।
প্রতি তিন মাস পরপর অনুষ্ঠিত পরীক্ষার জন্য প্লে থেকে প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীপ্রতি ২৫০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫০ টাকা করে পরীক্ষা ফি নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি মাসিক মূল্যায়ন পরীক্ষার নামেও শিক্ষার্থীপ্রতি ৫০ টাকা করে নিচ্ছে তারা।

উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, পরীক্ষা ফি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পিকনিকের চাঁদা, বই-খাতা ও ড্রেস বিক্রির হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও প্রশাসনিক নথিপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইমরানা আহমেদ বলেন, ভর্তি ফি বা বই বিতরণে সরকারের নির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা নেই। যেই অভিযোগগুলো করেছে সেটার কোন ভিত্তি নেই। অভিযোগের একটি কথাও সত্য না। যেহেতু অভিযোগ করেছে, তাহলে উর্ধতনরা তদন্ত করে সত্যটা উন্মোচন করুক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আফরোজ মারলিজ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card