শেখ রিফান আহমেদ : একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধু সরকারি বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে না; বরং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, উদ্ভাবনী ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির ওপরও অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং নতুন উদ্যোক্তারাই অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়।
বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের অনেকের মধ্যেই রয়েছে নতুন কিছু করার আগ্রহ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং আত্মনির্ভর হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পুঁজি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগের অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ শুরু হওয়ার আগেই থেমে যায়।
উদ্যোক্তা তৈরির জন্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, প্রয়োজন ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, সহজ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং দক্ষতা উন্নয়ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও উদ্যোক্তা বিষয়ক পাঠক্রম ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে অনলাইন ব্যবসা, ই-কমার্স এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব।
একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা সমাজ মানেই একটি শক্তিশালী অর্থনীতি। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
-লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

শেখ রিফান আহমেদ, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা 























