ঢাকা, বাংলাদেশ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছয় বছরে ১৪ এপিবিএন’র১৫ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার:    কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা উখিয়া।এ  উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ দমন, চোরাচালান রোধ ও মাদকের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাটালিয়নটির লাগাতার অভিযানে গত ছয় বছরে অর্জিত হয়েছে চোখধাঁধানো সাফল্য।২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে, একই সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হয়েছে ৭৭৮ জন মাদক কারবারিকে।
​১৪ এপিবিএনের দেয়া তথ্যমতে, গত ছয় বছরে ক্যাম্প কেন্দ্রিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মোট ৫৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংস্থাটির টানা অভিযানের খাতায় জমা হওয়া মাদকের তালিকায় রয়েছে— ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৬৬২ পিস ও অতিরিক্ত ৪২.৮০ গ্রাম ইয়াবা (বিভিন্ন রঙের), ৬৩ কেজি ২৬ গ্রাম গাঁজা, ১৬৫ লিটার ৪৫০ মিলিলিটার দেশি-বিদেশি মদ, ৯৬২ পিস ক্যানবিয়ার, ৩৮০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং ১২ লিটার হুইস্কি।​
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৯টি মামলায় ৭০ জনকে গ্রেপ্তার এবং ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৩ পিস ইয়াবা, ১.৪ কেজি গাঁজা ও ৪২ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী বছর ২০২১ সালে ১২১টি মামলায় ১৫৯ জন গ্রেপ্তার হয়; সে বছর উদ্ধার হয় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫১০ পিস ইয়াবা, ৪১.৭৪১ কেজি গাঁজা, ৫.৮৫ লিটার মদ ও ৪২৭ পিস ক্যানবিয়ার।​অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২২ সালে। সে বছর রেকর্ড ২৫৯টি মামলায় ৩৫৩ জন কারবারিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৬ লাখ ৮ হাজার ১৬৩ পিস ইয়াবা, ৮.২২৩ কেজি গাঁজা, ১২.০৫ লিটার মদ, ৪২৮ পিস ক্যানবিয়ার ও ১২ লিটার হুইস্কি আটক করে ব্যাটালিয়নটি।
২০২৩ সালে ৪৬টি মামলায় ৬৮ জন গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৩০ পিস ইয়াবা, ৩১২ গ্রাম গাঁজা, ১৫.৪৫ লিটার মদ ও ৪৭ পিস ক্যানবিয়ার উদ্ধার করা হয়।​এ ছাড়াও ২০২৪ সালে ৪৪টি মামলায় ৫৭ জন গ্রেপ্তার হয়; উদ্ধার করা হয় ৩১ হাজার ২২৬ পিস ইয়াবা, ৬.৬৬৫ কেজি গাঁজা, ১০.৫ লিটার মদ, ৬০ পিস ক্যানবিয়ার ও ৩৮০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। ২০২৫ সালে ২৭টি মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে ৩০ হাজার ৮৪৬ পিস ও ৪২.৮০ গ্রাম ইয়াবা এবং ৪.৬৮৫ কেজি গাঁজা জব্দ হয়।সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৭টি মামলায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করে ৮২ হাজার ৭৭৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।​
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (সিও) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ক্যাম্প কেন্দ্রিক কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। উখিয়ার প্রতিটি ক্যাম্প ও আশেপাশের এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত জিরো টলারেন্স নীতিতে ১৪ এপিবিএনের এ কঠোর ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সড়কে অটোরিকশার বেপরোয়া গতি, আতঙ্কে যাত্রী-পথচারী

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
25 August 2026

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও সচেতন হওয়া উচিত, নজরুল ইসলাম মঞ্জু

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছয় বছরে ১৪ এপিবিএন’র১৫ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:৫০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার:    কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা উখিয়া।এ  উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ দমন, চোরাচালান রোধ ও মাদকের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাটালিয়নটির লাগাতার অভিযানে গত ছয় বছরে অর্জিত হয়েছে চোখধাঁধানো সাফল্য।২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে, একই সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হয়েছে ৭৭৮ জন মাদক কারবারিকে।
​১৪ এপিবিএনের দেয়া তথ্যমতে, গত ছয় বছরে ক্যাম্প কেন্দ্রিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মোট ৫৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংস্থাটির টানা অভিযানের খাতায় জমা হওয়া মাদকের তালিকায় রয়েছে— ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৬৬২ পিস ও অতিরিক্ত ৪২.৮০ গ্রাম ইয়াবা (বিভিন্ন রঙের), ৬৩ কেজি ২৬ গ্রাম গাঁজা, ১৬৫ লিটার ৪৫০ মিলিলিটার দেশি-বিদেশি মদ, ৯৬২ পিস ক্যানবিয়ার, ৩৮০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং ১২ লিটার হুইস্কি।​
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৯টি মামলায় ৭০ জনকে গ্রেপ্তার এবং ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৩ পিস ইয়াবা, ১.৪ কেজি গাঁজা ও ৪২ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী বছর ২০২১ সালে ১২১টি মামলায় ১৫৯ জন গ্রেপ্তার হয়; সে বছর উদ্ধার হয় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫১০ পিস ইয়াবা, ৪১.৭৪১ কেজি গাঁজা, ৫.৮৫ লিটার মদ ও ৪২৭ পিস ক্যানবিয়ার।​অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২২ সালে। সে বছর রেকর্ড ২৫৯টি মামলায় ৩৫৩ জন কারবারিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৬ লাখ ৮ হাজার ১৬৩ পিস ইয়াবা, ৮.২২৩ কেজি গাঁজা, ১২.০৫ লিটার মদ, ৪২৮ পিস ক্যানবিয়ার ও ১২ লিটার হুইস্কি আটক করে ব্যাটালিয়নটি।
২০২৩ সালে ৪৬টি মামলায় ৬৮ জন গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৩০ পিস ইয়াবা, ৩১২ গ্রাম গাঁজা, ১৫.৪৫ লিটার মদ ও ৪৭ পিস ক্যানবিয়ার উদ্ধার করা হয়।​এ ছাড়াও ২০২৪ সালে ৪৪টি মামলায় ৫৭ জন গ্রেপ্তার হয়; উদ্ধার করা হয় ৩১ হাজার ২২৬ পিস ইয়াবা, ৬.৬৬৫ কেজি গাঁজা, ১০.৫ লিটার মদ, ৬০ পিস ক্যানবিয়ার ও ৩৮০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। ২০২৫ সালে ২৭টি মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে ৩০ হাজার ৮৪৬ পিস ও ৪২.৮০ গ্রাম ইয়াবা এবং ৪.৬৮৫ কেজি গাঁজা জব্দ হয়।সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৭টি মামলায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করে ৮২ হাজার ৭৭৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।​
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (সিও) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ক্যাম্প কেন্দ্রিক কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। উখিয়ার প্রতিটি ক্যাম্প ও আশেপাশের এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত জিরো টলারেন্স নীতিতে ১৪ এপিবিএনের এ কঠোর ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

Share this news as a Photo Card