পিরোজপুর অফিস: মাদকের বিস্তার রোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পিরোজপুরে জোরদার হচ্ছে সামাজিক আন্দোলন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি।
পদযাত্রা, সচেতনতামূলক স্টিকারিং, লিফলেট বিতরণ, পথসংগীত, সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, ইউনিয়ন পর্যায়ে গণসমাবেশ, সুধী ও নারী সমাবেশ এবং পেশাজীবী ও আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও এসব কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, গণমাধ্যম, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পদযাত্রা, সচেতনতামূলক স্টিকারিং, লিফলেট বিতরণ, পথসংগীত, সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, ইউনিয়ন পর্যায়ে গণসমাবেশ, সুধী ও নারী সমাবেশ এবং পেশাজীবী ও আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও এসব কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, গণমাধ্যম, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ জন্য পিরোজপুরে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘মাদক প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ’ নামের সংগঠনটি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. মনিরুজ্জামান নাসিম আলী বলেন, সাধারণ মানুষকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে লিফলেট বিতরণ, পথসংগীত, গণসমাবেশ, সুধী ও নারী সমাবেশ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে।
মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সংগঠনটির অন্যতম উদ্যোক্তা ও পজিটিভ পিরোজপুরের সভাপতি সার্জেন্ট (অব.) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় মাদকের বিস্তার রয়েছে, সেসব এলাকায় সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মাদক উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
কদমতলা ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হারুন শেখ বলেন, মাদকবিরোধী প্রচারণার ফলে এলাকার মানুষ আগের তুলনায় বেশি সচেতন হচ্ছেন। প্রচারণার পর এলাকায় অভিযান জোরদার হওয়ায় ছয়জন মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন ডিলার রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। অভিযানের পর আরও কয়েকজন মাদক কারবারি এলাকা ছেড়ে চলে গেছে বলেও জানান তিনি। কাউখালী উপজেলার দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন গ্রীনফোর্স বাংলাদেশের সভাপতি এনামুল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও জোরদার হয়েছে। তবে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাদকের বিস্তার ঘটায় শিশু ও শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকিতে পড়ছে। মাদকের প্রভাবে চুরি, ইভটিজিং ও পুলিশের ওপর হামলার মতো অপরাধও ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন। সমাজের সচেতন মানুষ আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে এলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পিরোজপুর সদর, ইন্দুরকানী, ভান্ডারিয়া, কাউখালী, স্বরূপকাঠী, নাজিরপুর ও মঠবাড়িয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। মাদকবিরোধী ভূমিকার স্বীকৃতি: মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চারজনকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুর রশীদ, অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক শায়লা আফরোজ এবং সাংবাদিক হাসান মামুন। সাংবাদিক হাসান মামুনকে ‘শ্রেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মী’ হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পিরোজপুর সদর, ইন্দুরকানী, ভান্ডারিয়া, কাউখালী, স্বরূপকাঠী, নাজিরপুর ও মঠবাড়িয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। মাদকবিরোধী ভূমিকার স্বীকৃতি: মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চারজনকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুর রশীদ, অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক শায়লা আফরোজ এবং সাংবাদিক হাসান মামুন। সাংবাদিক হাসান মামুনকে ‘শ্রেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মী’ হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তাদের উৎসাহিত করতেই এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। দি পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহেদী হাসান বলেন, মাদক প্রতিরোধে প্রতিটি ওয়ার্ডে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ী সমাজসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে।
গত ১৯ আগস্ট পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মাদকবিরোধী পর্যালোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব, মাদকবিরোধী অভিযান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সংবাদ নিয়মিত প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা আরও বাড়ানো সম্ভব। বক্তারা পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি কিশোর ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবার ও সমাজভিত্তিক প্রতিরোধও জোরদার করা জরুরি। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলেই মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ও স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পিরোজপুর অফিস 

















