ঢাকা, বাংলাদেশ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় চার খুন

গ্রেফতার দুই উদ্ধার হত্যার আলামত ও লুণ্ঠিত স্বর্ণ

রাসেল রানা বিশেষ প্রতিনিধি : মাছুয়াপাড়ায় চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন; হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার
রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বিত ও দ্রুততর তদন্তে দুইজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন।
১। শ্রী মুগ্ধ দাস (২৩), পিতা—শ্রী কানু দাস, মাতা সোনারাণী দাস।
২। সিদ্ধার্থ দাস (১৯), পিতা—বিনয় চন্দ্র দাস, মাতা পাপড়ি দাস।
উভয়ের সাং—মাছুয়াপাড়া, কোতয়ালী থানা, রংপুর মহানগর, রংপুর।
গত ২১ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাতে মাছুয়াপাড়া এলাকায় রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে ভোলা, তাঁদের মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং তাঁদের ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়ম চক্রবর্তী নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
ঘটনার পরপরই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন আলামত, পারিপার্শ্বিক তথ্য, সাক্ষ্য এবং প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্তে অগ্রগতি অর্জিত হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা পরস্পর আত্মীয় এবং ঘটনার আগে ও পরে মাদক সেবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়। তারা পার্শ্ববর্তী একটি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে এবং সেখানে মাদক সেবন করছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ সময় বাড়ির মালিক সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী বিষয়টি লক্ষ্য করে তাদের সেখানে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়।
গণপতি চক্রবর্তীর গোঙানির শব্দ শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। সবশেষে ঘরে থাকা ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়ম চক্রবর্তীকে হত্যা করে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিশু প্রিয়ম গ্রেফতারকৃতদের পরিচিত ছিল এবং তাদের পরিবারের শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করত। এ পরিচিতির কারণে শিশুটিও তাদের শনাক্ত করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেফতারকৃতরা ভুক্তভোগীদের বাসায় অবস্থান করে গোসল করে এবং খাবার গ্রহণ করে। ঘটনাস্থলে মাদক সেবনের আলামতও পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে তারা ঘটনাটিকে ডাকাতি বা লুটপাটের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে বাসার বিভিন্ন মালামাল এলোমেলো করে এবং কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সিদ্ধার্থ দাস দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করায় স্বর্ণালংকার শনাক্ত করার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি স্বর্ণালংকার আগুনের মাধ্যমে পরীক্ষা করার আলামত পাওয়ায় তদন্তকারীদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া ভুক্তভোগীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সেগুলো পানিতে ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে রাখার তথ্যও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী তদন্তকারী দল একটি পরিত্যক্ত স্থানের পেছন থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের আলামত, খেজুরের বিচি, আংশিক খাওয়া শসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে/প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আলামত বিশ্লেষণের ফলাফল তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার আগে গ্রেফতারকৃতরা সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় মাদক সেবন করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, গ্রেফতারকৃত মুগ্ধ দাস একটি মাছের দোকানে এবং সিদ্ধার্থ দাস একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করত। মাদক সংগ্রহ ও সেবনের বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যও তদন্তকারী দল যাচাই করছে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা নং-৪৩, ধারা ৩০২/৩৪, দণ্ডবিধি রুজু করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, আলামত, সাক্ষ্য ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এ ধরনের চাঞ্চল্যকর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিট, গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনগণ, সমাজকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার জন্য রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সর্বদা দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ : ফেসবুকে গালাগাল, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
24 August 2026

দেশের অধিকাংশ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন, তারা হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছে: সড়কমন্ত্রী

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় চার খুন

গ্রেফতার দুই উদ্ধার হত্যার আলামত ও লুণ্ঠিত স্বর্ণ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
রাসেল রানা বিশেষ প্রতিনিধি : মাছুয়াপাড়ায় চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন; হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার
রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বিত ও দ্রুততর তদন্তে দুইজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন।
১। শ্রী মুগ্ধ দাস (২৩), পিতা—শ্রী কানু দাস, মাতা সোনারাণী দাস।
২। সিদ্ধার্থ দাস (১৯), পিতা—বিনয় চন্দ্র দাস, মাতা পাপড়ি দাস।
উভয়ের সাং—মাছুয়াপাড়া, কোতয়ালী থানা, রংপুর মহানগর, রংপুর।
গত ২১ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাতে মাছুয়াপাড়া এলাকায় রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে ভোলা, তাঁদের মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং তাঁদের ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়ম চক্রবর্তী নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
ঘটনার পরপরই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন আলামত, পারিপার্শ্বিক তথ্য, সাক্ষ্য এবং প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্তে অগ্রগতি অর্জিত হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা পরস্পর আত্মীয় এবং ঘটনার আগে ও পরে মাদক সেবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়। তারা পার্শ্ববর্তী একটি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে এবং সেখানে মাদক সেবন করছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ সময় বাড়ির মালিক সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী বিষয়টি লক্ষ্য করে তাদের সেখানে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়।
গণপতি চক্রবর্তীর গোঙানির শব্দ শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। সবশেষে ঘরে থাকা ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়ম চক্রবর্তীকে হত্যা করে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিশু প্রিয়ম গ্রেফতারকৃতদের পরিচিত ছিল এবং তাদের পরিবারের শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করত। এ পরিচিতির কারণে শিশুটিও তাদের শনাক্ত করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেফতারকৃতরা ভুক্তভোগীদের বাসায় অবস্থান করে গোসল করে এবং খাবার গ্রহণ করে। ঘটনাস্থলে মাদক সেবনের আলামতও পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে তারা ঘটনাটিকে ডাকাতি বা লুটপাটের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে বাসার বিভিন্ন মালামাল এলোমেলো করে এবং কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সিদ্ধার্থ দাস দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করায় স্বর্ণালংকার শনাক্ত করার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি স্বর্ণালংকার আগুনের মাধ্যমে পরীক্ষা করার আলামত পাওয়ায় তদন্তকারীদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া ভুক্তভোগীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সেগুলো পানিতে ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে রাখার তথ্যও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী তদন্তকারী দল একটি পরিত্যক্ত স্থানের পেছন থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের আলামত, খেজুরের বিচি, আংশিক খাওয়া শসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে/প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আলামত বিশ্লেষণের ফলাফল তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার আগে গ্রেফতারকৃতরা সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় মাদক সেবন করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, গ্রেফতারকৃত মুগ্ধ দাস একটি মাছের দোকানে এবং সিদ্ধার্থ দাস একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করত। মাদক সংগ্রহ ও সেবনের বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যও তদন্তকারী দল যাচাই করছে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা নং-৪৩, ধারা ৩০২/৩৪, দণ্ডবিধি রুজু করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, আলামত, সাক্ষ্য ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এ ধরনের চাঞ্চল্যকর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিট, গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনগণ, সমাজকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার জন্য রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সর্বদা দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Share this news as a Photo Card