উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে চাঞ্চল্যকর রুকাইয়া আক্তার রিংকি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের উলিপুর মসজিদুল হুদা চৌরাস্তা মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়ন থেকে আসা সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে রিংকি হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে নিহত রিংকির বাবা রেজাউল করিম, মা মাসুদা আক্তারসহ এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন ফখরুল ইসলাম, চান মিয়া, লিপি বেগম, নুরুল আমিন এবং রিংকির একাধিক স্বজন।
বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট গভীর রাতে নিজ বাবার বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন রুকাইয়া আক্তার রিংকি। হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। এতে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রিংকির স্বজনরা জানান, একই উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত মেহেদী হাসানের সঙ্গে রিংকির বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বাবার অনুপস্থিতির সুযোগে গভীর রাতে নিজ বাড়িতে রিংকিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়নি। ২০২৫ সালের ১০ জুন মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-তে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-তে স্থানান্তর করা হয়।
বক্তারা দাবি করেন, কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রভাব থাকলে তা উপেক্ষা করে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে রিংকি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উলিপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে গেলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে সেখানে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক।
ওসি বলেন, “মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে। মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবিগুলো সিআইডির কাছে পাঠানো হবে। পুলিশও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তৎপর রয়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আসামিদের শনাক্ত করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এ সময় বিক্ষোভকারীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে রিংকি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দীর্ঘদিনেও বিচার না পাওয়ায় প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 



















