মফিজুল ইসলাম, নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ২ নং বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাহার আলীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টের ঘটনায় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টটির মূল উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
এ বিষয়ে ডিমলা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ইউপি সদস্য মো. সাহার আলী উল্লেখ করেন, হাকিমের চৌপথির পশ্চিম পাশে একটি ফাঁকা রাস্তায় তাকে ডেকে নিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রয়োজনীয় কাজে তিনি ঢাকায় অবস্থানকালে গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দেখতে পান, ‘Rocky Chaudhari’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। ওই ছবিতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের মাঝে তাকে ঘিরে রাখা এবং তার হাতে হাতকড়া পরানো অবস্থায় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
পোস্টে তাকে ‘ডিমলা থানার ২ নং বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার’ উল্লেখ করে ‘দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা’ এবং ‘পুলিশের হাতে আটক’—এমন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউপি সদস্য সাহার আলী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর তার এলাকার ভোটারসহ ইউনিয়ন ও উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে বিষয়টি তাকে জানান। এতে তার সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগকারী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিটি প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পোস্টটির মূল উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারী নিজের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মফিজুল ইসলাম, নীলফামারী 


















