ঢাকা, বাংলাদেশ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

রাজবাড়ীতে ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:    জেলার অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে একদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮৫টি প্রধান শিক্ষক পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৯৬টি পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণযোগ্য। বর্তমানে কর্মরত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ২০২ জন। বিপরীতে শূন্য রয়েছে ২৭৯টি পদ। এর মধ্যে পদোন্নতিযোগ্য শূন্যপদ ৩২৭টি এবং সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৪৮টি। ৯৬ জন শিক্ষক চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন এবং মামলাজনিত কারণে ২৮টি পদ সংরক্ষিত রয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যেও প্রধান শিক্ষক সংকটের চিত্র স্পষ্ট। রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ১৩৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৫৮ জন এবং শূন্য রয়েছে ৭৬টি পদ। পাংশায় ১২১টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪৭ জন, শূন্য ৭৪টি। বালিয়াকান্দিতে ৯৯টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪২ জন, শূন্য ৫৭টি। কালুখালীতে ৭৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩৮ জন, শূন্য ৩৮টি। আর গোয়ালন্দে ৫১টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৭ জন, শূন্য রয়েছে ৩৪টি পদ।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। সদর উপজেলার ৭৯ নম্বর জৌকুড়া ধাওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো সেখানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে।
সদর উপজেলার আরও কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, দাপ্তরিক কাগজপত্র, বিভিন্ন সভা ও মিটিংয়ে অংশগ্রহণসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত পাঠদানে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দাপ্তরিক কাজ ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে তার নির্ধারিত শ্রেণির পাঠদান অনেক সময় সহকারী শিক্ষকদেরই নিতে হয়। এতে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
শিক্ষকদের মতে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, রাজবাড়ীতে ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ওইসব বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। শূন্যপদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণ করা না হলে রাজবাড়ীর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও আরও ব্যাহত হতে পারে। তাই শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত এ সংকটের সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

চিরিরবন্দরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়ার বাইসাইকেল বিতরণ‎

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
26 August 2026

দেশ খণ্ডিত করার ষড়যন্ত্র হলে রুখে দাঁড়াবে জনগণ: মোস্তফা আমীর ফয়সল

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

রাজবাড়ীতে ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:    জেলার অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে একদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮৫টি প্রধান শিক্ষক পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৯৬টি পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণযোগ্য। বর্তমানে কর্মরত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ২০২ জন। বিপরীতে শূন্য রয়েছে ২৭৯টি পদ। এর মধ্যে পদোন্নতিযোগ্য শূন্যপদ ৩২৭টি এবং সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৪৮টি। ৯৬ জন শিক্ষক চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন এবং মামলাজনিত কারণে ২৮টি পদ সংরক্ষিত রয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যেও প্রধান শিক্ষক সংকটের চিত্র স্পষ্ট। রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ১৩৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৫৮ জন এবং শূন্য রয়েছে ৭৬টি পদ। পাংশায় ১২১টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪৭ জন, শূন্য ৭৪টি। বালিয়াকান্দিতে ৯৯টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪২ জন, শূন্য ৫৭টি। কালুখালীতে ৭৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩৮ জন, শূন্য ৩৮টি। আর গোয়ালন্দে ৫১টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৭ জন, শূন্য রয়েছে ৩৪টি পদ।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। সদর উপজেলার ৭৯ নম্বর জৌকুড়া ধাওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো সেখানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে।
সদর উপজেলার আরও কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, দাপ্তরিক কাগজপত্র, বিভিন্ন সভা ও মিটিংয়ে অংশগ্রহণসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত পাঠদানে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দাপ্তরিক কাজ ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে তার নির্ধারিত শ্রেণির পাঠদান অনেক সময় সহকারী শিক্ষকদেরই নিতে হয়। এতে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
শিক্ষকদের মতে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, রাজবাড়ীতে ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ওইসব বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। শূন্যপদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণ করা না হলে রাজবাড়ীর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও আরও ব্যাহত হতে পারে। তাই শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত এ সংকটের সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

Share this news as a Photo Card