ঢাকা, বাংলাদেশ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

হোমনায় পুকুর খননের নামে সরকারী খাসজমি থেকে বালু বিক্রির অভিযোগ ! শ্যালো মেশিন জব্দ

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা উপেক্ষা করে কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় পুকুর খননের নামে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে অবাধে তা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খোদেদাউদপুর গ্রামের তাছলিমা বেগম স্বামী সঠিক রানা নামে এক নারী পাথালিয়াকান্দি মৌজার ৮৪৪ নম্বর দাগের ৮ শতক, ৮৬৯ নম্বর দাগের ২৫ শতক এবং ৮৬১ নম্বর দাগের ৬৬ শতক—মোট ৯৯ শতক জমি নিজের বলে দাবি করে মৎস্য চাষের জন্য বালু উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে গত ১৫ জুন হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন।তবে অনুমতি পাওয়ার আগেই তাছলিমা বেগমসহ একটি চক্র সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ৮৬১ নম্বর দাগের ৬৬ শতক জমিতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে বালু উত্তোলন শুরু করে এবং প্রতি ঘনফুট বালু ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেহাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারী খাসজমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগের পর গত ১৬ আগস্ট রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মদ মোফাচ্ছের অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেন এবং একটি মিনি ড্রেজার জব্দ করেন। এ সময় ড্রেজারের কয়েকটি পাইপও বিনষ্ট করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরে জব্দ করা সরঞ্জাম স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়। তাছলিমা বেগম জানান,৮৬১ নম্বর দাগের ৩৬ শতাংশ জমির মালিক ৮৯৮ খারিজ খতিয়ান রয়েছে। সেখানে মৎস্য চাষ করার লক্ষে পুকুর খননের আবেদন করেছি। কৃষি ও মৎস্য দপ্তর পুকুর খননের পক্ষে প্রতিবেদন দেয়ার পর ইউএনও স্যার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।

এ দিকে আছাদপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবু সালেহ মুছা জানান পাথালিয়াকান্দি মৌজার ৮৬১ নম্বর দাগের ৬৬ শতক জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। কোন ব্যক্তির নামে নামজারির হওয়ার কোন রেকর্ড ভূমি অফিসে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মদ মোফাচ্ছের বলেন, আবেদনকারী যে জমি থেকে বালু উত্তোলন করছে এর মধ্যে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি রয়েছে। তা ছাড়া শ্যালো মেশিন দ্বারা বালু উত্তোলনও বিক্রি অবৈধ। তাই বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। শ্যালো মেশিন জব্দ করে পাইপ স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি খাসজমি থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। তাছলিমা বেগম মাছ চাষের জন্য নিজের জমি থেকে মাটি কাটার আবেদন করেছিলেন। এ বিষয়ে কৃষি ও মৎস্য দপ্তরও প্রতিবেদন দিয়েছিল। কিন্তু আবেদনে উল্লেখ করা জমির মধ্যে সরকারি খাসজমি থাকার তথ্য পাওয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভূমি রেকর্ড, নামজারি নথি ও খতিয়ান যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং সরকারি সম্পত্তি নিজ নামে খারিজ খতিয়ান সৃজনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

হোমনায় পুকুর খননের নামে সরকারী খাসজমি থেকে বালু বিক্রির অভিযোগ ! শ্যালো মেশিন জব্দ

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
26 August 2026

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

হোমনায় পুকুর খননের নামে সরকারী খাসজমি থেকে বালু বিক্রির অভিযোগ ! শ্যালো মেশিন জব্দ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৭:৩২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা উপেক্ষা করে কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় পুকুর খননের নামে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে অবাধে তা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খোদেদাউদপুর গ্রামের তাছলিমা বেগম স্বামী সঠিক রানা নামে এক নারী পাথালিয়াকান্দি মৌজার ৮৪৪ নম্বর দাগের ৮ শতক, ৮৬৯ নম্বর দাগের ২৫ শতক এবং ৮৬১ নম্বর দাগের ৬৬ শতক—মোট ৯৯ শতক জমি নিজের বলে দাবি করে মৎস্য চাষের জন্য বালু উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে গত ১৫ জুন হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন।তবে অনুমতি পাওয়ার আগেই তাছলিমা বেগমসহ একটি চক্র সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ৮৬১ নম্বর দাগের ৬৬ শতক জমিতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে বালু উত্তোলন শুরু করে এবং প্রতি ঘনফুট বালু ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেহাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারী খাসজমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগের পর গত ১৬ আগস্ট রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মদ মোফাচ্ছের অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেন এবং একটি মিনি ড্রেজার জব্দ করেন। এ সময় ড্রেজারের কয়েকটি পাইপও বিনষ্ট করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরে জব্দ করা সরঞ্জাম স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়। তাছলিমা বেগম জানান,৮৬১ নম্বর দাগের ৩৬ শতাংশ জমির মালিক ৮৯৮ খারিজ খতিয়ান রয়েছে। সেখানে মৎস্য চাষ করার লক্ষে পুকুর খননের আবেদন করেছি। কৃষি ও মৎস্য দপ্তর পুকুর খননের পক্ষে প্রতিবেদন দেয়ার পর ইউএনও স্যার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।

এ দিকে আছাদপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবু সালেহ মুছা জানান পাথালিয়াকান্দি মৌজার ৮৬১ নম্বর দাগের ৬৬ শতক জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। কোন ব্যক্তির নামে নামজারির হওয়ার কোন রেকর্ড ভূমি অফিসে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মদ মোফাচ্ছের বলেন, আবেদনকারী যে জমি থেকে বালু উত্তোলন করছে এর মধ্যে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি রয়েছে। তা ছাড়া শ্যালো মেশিন দ্বারা বালু উত্তোলনও বিক্রি অবৈধ। তাই বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। শ্যালো মেশিন জব্দ করে পাইপ স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি খাসজমি থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। তাছলিমা বেগম মাছ চাষের জন্য নিজের জমি থেকে মাটি কাটার আবেদন করেছিলেন। এ বিষয়ে কৃষি ও মৎস্য দপ্তরও প্রতিবেদন দিয়েছিল। কিন্তু আবেদনে উল্লেখ করা জমির মধ্যে সরকারি খাসজমি থাকার তথ্য পাওয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভূমি রেকর্ড, নামজারি নথি ও খতিয়ান যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং সরকারি সম্পত্তি নিজ নামে খারিজ খতিয়ান সৃজনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Share this news as a Photo Card