আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি: আধুনিক ভবন দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু নেই চিকিৎসাসেবা। উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি ঝালকাঠির বহুল প্রত্যাশিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল। ফলে উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার কয়েক লাখ মানুষ। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে শনিবার সকালে হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেছে জেলা জামায়াতে ইসলামী।
ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে জেলা জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় হাসপাতালটি দ্রুত চালুর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, সেক্রেটারি ফরিদুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাইসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, জনগণের করের টাকায় নির্মিত হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে থাকলেও তা চালুর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে জেলার সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে বরিশালসহ দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ, বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে পড়ছে রোগীর জীবন।
তারা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতার কারণেই হাসপাতালটি চালু হচ্ছে না। দেশের অন্যান্য জেলায় একই ধরনের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল চালু থাকলেও ঝালকাঠির মানুষ এখনো সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এটি জেলার মানুষের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার একটি স্পষ্ট উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৮ সালে। ২০২৩ সালে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও আজও সেখানে চিকিৎসাসেবা শুরু হয়নি। উদ্বোধনের পর প্রায় তিন বছর ধরে হাসপাতালটি কার্যক্রমবিহীন থাকায় জেলার কয়েক লাখ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে।

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি 



















