
মো. জাহিদ হাসান
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
নামজারি কার্যক্রমে একসময় ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে প্রথম স্থানে থাকা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা এখন নেমে গেছে ষষ্ঠ অবস্থানে। শীর্ষস্থান থেকে একেবারে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যাওয়ার ঘটনায় উপজেলা ভূমি অফিসের নামজারি কার্যক্রমের গতি, দক্ষতা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নামজারি কার্যক্রমের অগ্রগতি, আবেদন নিষ্পত্তির হারসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে উপজেলাগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এসব সূচকে ভালো অবস্থানের কারণে ঈশ্বরগঞ্জ একসময় জেলার মধ্যে প্রথম ছিল। কিন্তু সর্বশেষ মূল্যায়নে ৫ ধাপ পিছিয়ে উপজেলার অবস্থান দাঁড়িয়েছে ষষ্ঠ স্থানে।
হঠাৎ করে এমন অবনতি কেন—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। যে উপজেলা কিছুদিন আগেও নামজারি কার্যক্রমে জেলার শীর্ষে ছিল, সেটি কীভাবে মাত্র কিছু সময়ের ব্যবধানে পিছিয়ে গেল, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
নামজারি ভূমি সেবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা কিংবা অন্য কোনোভাবে মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে নামজারি করতে হয়। ফলে এ সেবায় ধীরগতি বা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে সরাসরি ভোগান্তিতে পড়েন ভূমি মালিকেরা।
স্থানীয় ভূমি-সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, নামজারি নিয়ে মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি নতুন নয়। আবেদন করার পর সেটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, কখন নিষ্পত্তি হবে—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকে। অনলাইনে আবেদন ও ভূমি সেবা সহজ করার নানা উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে আবেদন নিষ্পত্তির গতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।
ভূমি সেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবপ্রার্থীর মতে, নামজারি কার্যক্রমের এই অবনতির পেছনে শুধু আবেদনের চাপকে দায়ী করার সুযোগ নেই। আবেদনগুলো সময়মতো যাচাই-বাছাই, শুনানি ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে গাফিলতি বা সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সেবার গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষ করে নামজারি আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, নির্ধারিত সময়ে শুনানি সম্পন্ন করা, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত যাচাই এবং নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনগুলো নিয়মিত তদারকি করা ভূমি প্রশাসনের দায়িত্বের অংশ। এসব কার্যক্রমে কোথাও গাফিলতি বা ধীরগতি হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যে নামজারি কার্যক্রমের সূচকে ঈশ্বরগঞ্জের প্রথম থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যাওয়ার তথ্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পরিবর্তে ৫ ধাপ পিছিয়ে পড়াকে সাধারণ অবনতি হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, কোন কোন সূচকে ঈশ্বরগঞ্জ পিছিয়েছে, কতগুলো নামজারি আবেদন বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে এবং আগের তুলনায় নিষ্পত্তির হার কতটা কমেছে—এসব তথ্য প্রকাশ হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শীর্ষস্থান থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যাওয়ার পেছনে ভূমি অফিসের ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 



















