
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় পারিবারিক কলহের জেরে জান্নাতুল ফেরদৌস জুশী (২৫) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী জহুরুল হকের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার আড়ানী খোর্দ্দ বাউসা পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
নিহত জুশী বাগাতিপাড়া উপজেলার মালিগাছা নিমপাড়া এলাকার লুৎফর রহমানের মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের জননী। তাঁর বড় ছেলে জিহাদ হোসেনের বয়স ১০ বছর এবং ছোট ছেলে জায়ান হোসেনের বয়স এক বছর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে নিজ শয়নকক্ষে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে জহুরুল হক ধারালো হাঁসুয়া বা বটি জাতীয় অস্ত্র দিয়ে জুশীকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে স্থানীয়রা জানান।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জহুরুলকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। পরে ঘরের ভেতরে জুশীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জহুরুলের চাচা ছানার বলেন, জহুরুল খুব খারাপ ছেলে ছিল না। তবে তার রাগ বেশি। কোনো বিষয়ে রেগে গেলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না। সে স্ত্রী ও সন্তানদের খুব ভালোবাসত। ঘটনার সময় মানুষের চিৎকার শুনে আমি বাড়ির দিকে যাই। তখন জহুরুলকে বাড়ি থেকে বের হতে দেখি। ভেতরে গিয়ে জুশীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।
তিনি আরও বলেন, জহুরুলের অনেক ঋণ ছিল। বিভিন্ন এনজিও ও সুদের ওপর টাকা নিয়েছিল। কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হতো।
প্রতিবেশী বাবু বলেন, জহুরুল সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত। মাঝে মাঝে মানুষের জমিতে কৃষিকাজ করত। সে যে এমন ঘটনা ঘটাবে, তা ভাবতে পারিনি। একদিন কাজ করতে এসে সে জানিয়েছিল, প্রতি মাসে তার ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়।
খবর পেয়ে বাঘা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়।
বাঘা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত জহুরুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রবিউল ইসলাম 



















