সর্বশেষ পরিমার্জন :
০৫:৪২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫
বার পঠিত
স্টাফ রিপোর্টার: উখিয়ার কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে যাত্রীবাহী টমটম থামিয়ে ২০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ওই টমটমে ছিল এমন দুই প্রতেক্ষদর্শী যাত্রী ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়া খবর সুত্রে জানা যায়,
বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের উত্তর পাড়ার রাস্তার মুখে ২ জন যুবক ২টি মোটর সাইকেলনিয়ে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থেকে কুতুপালং বাজারের দিক থেকে উখিয়া মুখি একটি অটো( টমটম) গাড়ী থামিয়ে চালকের সিটের নিচে ব্যাটারী বক্স থেকে দুইটি পলিথিন মোড়ানো ইয়াবা প্যাকেট ছিনিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মোটর সাইকেল আরোহী দুই যুবক।ওই টমটমে থাকা একজন যাত্রী নাম প্রকাশ
না করার শর্তে জানান, তাঁরা কুতুপালং থেকে উখিয়া
যাচ্ছিলো কাজের উদ্দেশ্যে।কুতুপালং বাজার থেকে তাঁরা কয়েকজন ওই টমটমে ওঠেন।হটাৎ করে কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আসলে ২ জন যুবক দুই পাশে ২টি মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁদের গাড়িটির গতিরোধ করেন।পরে তাঁরা কুতুপালং হিন্দু ক্যাম্পের পিছনে কুতুপালং শ্মশান রোডের মাথায় নিয়ে গিয়ে অটোচালকের সিটের নিচে তল্লাশি করে ২টি ইয়াবার কার্ড পায়।সেগুলো নিয়ে সাথে সাথে মোটরসাইকেল নিয়ে সটকে পড়ে।সেখানে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ছিলো বলে যাত্রীদেরকে চালক স্বীকার করেছেন।ওইসব ইয়াবার চালান ছিনিয়ে নেওয়ার পর থেকে ছিনতাইকারী যুবকদ্ধয় এলাকায় দেখা মিলেনি।তাদের মোবাইল ফোন কখনো বন্ধ,কখনো খোলা। তবে কল রিসিভ করেনা।ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার একটি সিসি ক্যামেরার স্থীর চিত্র প্রতিবেদকের সংরক্ষণে রয়েছে।
যাত্রীরা বলছেন, অটোচালক অভিনব কায়দায়
ইয়াবা গুলো পলিথিনে মুড়িয়ে নিজের হেফাজতে রেখে
স্বাভাবিকভাবে যাত্রী নিয়ে উখিয়ার দিকে যাচ্ছিলো।
এদিকে এ ঘটনার কিছু সিসিফুটেজ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে,।তাতে ইয়াবা ছিনতাই যেভাবে সংঘটিত করেছে,তাতে ছিনতাইকারী যুবকদের ব্যবহ্নত দুইটি মোটর সাইকেল চিহ্নিত এবং যুবকদ্ধয় একেবারে এলাকার চিহ্নিত ব্যক্তি।তাঁরা হলেন, কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকার মাছ বেপারি হিসেবে পরিচিত
কফিল এবং হাজমরোড এলাকার জনৈক আরমান।
তাঁদের সাথে ব্যবহ্নত মোটর সাইকেল দুইটি ইয়ামাহা কোম্পানীর তৈরি।
একটি আর-১৫ মডেলের, অন্যটি এমটি-১৫ মডেলের।মূলত সেই গাড়ি দুটি নিয়েই তাঁরা টমটমটির গতিরোধ করেন।অন্যদিকে পাচারকারী একজন রোহিঙ্গা চালক বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপর সেও লাপাত্তা হয়ে যায়।এদিকে অভিযুক্ত দু’জনেরই মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।ফলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা পাচার এবং সাথে পাল্লা দিয়ে ছিনতাই বেড়েছে উদ্বেগজনকহারে।ছিনতাইয়ের ঘটনায় অনেক সময় অস্ত্র ব্যবহারের নজিরও রয়েছে।এর আগে ঘুমধুমের জলপাইতলী এলাকায় স্থানীয় তিন কিশোর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ১ লাখ ৮০ ইয়াবা ছিনতাই করেছে।ওই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ওই তিন কিশোরের মধ্যেএকজনের হাতে একটি ভারি অস্ত্রওদেখেছেন বলে নিশ্চিত করেন।তবে কি মডেলের অস্ত্র সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তাঁরা।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর
রহমান মজুমদার জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং ছিনতাইকারী, উভয়ে অপরাধী।ফলে তাঁদেরকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনিএদিকে অভিযুক্ত আরমান এবং কফিল আত্বগোপনে চলে গেলেও তাদের পক্ষ হয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠেছে সরকার দলের কয়েকজন নেতা।কিন্তু ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের দেখা মিলছেনা এলাকায়।