ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
অন্নপূর্ণা মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য: সাংবাদিক সম্মেলন

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৬২ বার পঠিত

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর খানখানাপুর অন্নপূর্ণা মন্দিরকে কেন্দ্রকরে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে।
রবিবার বিকাল ৫ টার দিকে খানখানাপুর সনাতনী সমাজের আয়োজনে অন্নপূর্ণা মন্দির প্রাঙ্গনে এ সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন মন্দির কমিটির প্রধান উপদেষ্টা চন্ডি দাস কুন্ডু বলেন,খানখানাপুর অন্নপূর্ণা মন্দিরটি শতবর্ষী বাংলাদেশের একমাত্র মন্দির।এই মন্দিরটি নিরাপত্তার জন্য তোরণ সংলগ্ন গেট তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় মাহমুদা বেগম ও তার স্বামী কাজী আব্দুল রউফ সেখানে বাঁধা দেয় ও অকথ্য ভাষায় কথা বলে,বকাবাজি করে। হিন্দু সম্প্রদায় মানুষদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার কথা বলে হুমকি দেয়।এতে এখানকার সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায় ভয়ে ভীত ও আতঙ্কিত হয় তারা। একারনে হিন্দু সম্প্রদায় আজ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। চন্ডি দাস কুন্ডু আরো বলেন আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা এখনো নেইনি।কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত মাহমুদা বেগম মদিনা বলেন,আমার বাড়ি মন্দিরের পিছনে। আমি মন্দিরের ভিতর দিয়ে আমার বাড়িতে যেতে হয়। কালকে মন্দিরের গেট লাগানোর সময় চেয়ারম্যানকে বলি গেট যেন এখানে না বসানো হয়। এটা আমার বাড়িতে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা ।
খানখানাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম ইকবাল হোসেন মিয়া বলেন, মাহমুদা নামে মেয়েটি গতকাল মন্দিরের গেট বসানোর সময় সে বাঁধা দেয়।এসময় মন্দিরের লোকজন আমাকে জানালে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহমুদা কে বারন করলেও সে আরো উত্তেজিত হয়ে আমাকে বকাবাজি ও বাজে কথা বলে। আমি তখন গেট বসানোর জন্যে মন্দির কমিটিকে বলি। মন্দিরের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়টি ইউএনও’কে জানাই।
আমরা অসাম্প্রদায়িক বিষয়টির কথা চিম্তা করে এখানে যেন কোন সমস্যা না হয় তা সে ব্যবস্থা করেছি, এসময় তখন আমি তাকে এখান থেকে চলে যেতে বলি। কিন্তু মাহমুদার গায়ে হাত তোলার কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খানখানাপুর অন্নপূর্ণা মন্দিরের প্রধান উপদেষ্টা চন্ডি দাস কুন্ডু।এসময় উপস্থিত ছিলেন মন্দিরের সভাপতি অনিন্দ কুমার কুন্ডু,সাধারন সম্পাদক দিপক কুমার দে,উপদেষ্টা নবকুমার দত্ত, কার্ত্বিক চন্দ্রকুন্ডু ও সুজিত কুমার নন্দী কুন্ডু প্রমূখ।
এ বিষয়ে মাহমুদা বেগম দুইজনের নাম উল্লেখ করে তিন থেকে চারজনকে অজ্ঞাত করে একটি লিখিত অভিযোগ করেন,থানায়,অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শ্রী শ্রী অন্নপৃর্ণা মন্দির বিদ্যমান রয়েছে, উক্ত মন্দিরের পাশে প্রবাহমান জলাশয় ও সরকারি হালটও বিদ্যমান রয়েছে । মন্দিরের পূর্ব ও দক্ষিণে আমার ক্রয়কৃত ব্যক্তি মালিকানা জমিনে আমার বসতবাড়ি হওয়ায় আমি ও এলাকাবাসী দৈনন্দিন কাজে উক্ত জলাশয় ও হালট ব্যবহার করে থাকি। আমাদের চলাচলের একমাত্র সরকারি হালট অর্থাৎ বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তাটি এলাকার কতিপয় দুষ্কৃতিকারী ব্যক্তি ও খানখানাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ, কে, এম ইকবাল হোসেন পরস্পর যোগ সাজসে সরকারি হালট ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি তে স্টিলের গেট নির্মাণ করতে গেলে আমি বাধা প্রদান করলে আমাকে অহেতুক অশ্রব্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ।
এমত অবস্থায় খানখানাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ,কে,এম ইকবাল হোসেনসহ ৩-৪ জন উত্তেজিত হয়ে মাহমুদা বেগমকে শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করে এবং হেনস্তা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন মাহমুদা বেগম ।
এ বিষয়ে মাহমুদা বেগম আরো বলেন সরকারি হালট জনসাধারণের জন্য চলাচলে উন্মুক্ত রাখা সহ সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা সহ বাড়ি থেকে বের হওয়ার ও জনস্বার্থে একমাত্র রাস্তাটি রক্ষার দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ।
এবং নারী নির্যাতনের আইনগত প্রতিকারের ন্যায় বিচারের জন্য দাবি জানান মাহমুদা বেগম ।
জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় স্টিলের গেট নির্মাণ কালে বাধা প্রদান করতে গেলে,নারীকে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ খানখানাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ,কে এম ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে । এ বিষয়ে জানতে চাইলে খানখানাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ,কে,এম ইকবাল হোসেন বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন ।























