ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

এ বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ

হারুন অর রশিদ,সোনাতলা (বগুড়া):
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৪১ বার পঠিত
বগুড়া-১ (সোনাতলা–সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন তৃণমূল নেতাকর্মী ও দলের সাধারণ সমর্থকরা। আসনটিতে ঘোষিত প্রার্থীর যোগ্যতা, ত্যাগ, দলের প্রতি নিবেদন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা অভিযোগ করেন, বগুড়া-১ আসনে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি অতীতে দলের দুঃসময়ে কতটা ভূমিকা রেখেছেন—এ নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে। ১/১১, ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনসহ ছাত্র–জনতার জুলাই আন্দোলনে তাঁর উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করছেন নেতাকর্মীরা।
তৃণমূলের দাবি, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সে সময়ে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির ছিলেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। নেতাকর্মীদের কারামুক্তি, চিকিৎসা, আইনি লড়াই—সবকিছুতে সামনে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। একাধিকবার কারাজীবন শেষে আবারও মাঠে নেমে দলের রাজনীতিকে সচল রেখেছেন। সোনাতলা–সারিয়াকান্দি অঞ্চলের প্রায় দুই শতাধিক রাজনৈতিক মামলা পরিচালনা করে তৃণমূলের আস্থা অর্জন করেন এই নেতা।
অপরদিকে প্রশ্ন উঠছে—বর্তমান মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের অতীত ভূমিকা নিয়ে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নেতার মনোনয়ন অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
এক রাজনৈতিক নেতার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী রাজনৈতিক মামলায় জেলে থাকাকালে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়। তখন জাকির ভাই ছাড়া কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। সব খরচ তিনিই বহন করেছেন। তাঁর বিকল্প আমরা দেখি না।” এই আবেগঘন বর্ণনা যেন প্রার্থী না-মানার নীরব প্রতিবাদ।
স্থানীয়দের ভাষ্য—বগুড়া-১ ছিল বিএনপির রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র। মানুষ বিশ্বাস করতো, এ আসনই একদিন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতীক হবে। ৫ আগস্টের পর যে পরিবর্তনের আশায় মানুষ উজ্জীবিত হয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে মিলিয়ে গিয়ে অস্থিরতায় রূপ নিচ্ছে। এক প্রবীণ নাগরিকের কথায়, “যে পরিবর্তনের হাওয়া আশা জাগিয়েছিল, এখন তা পরিণত হয়েছে হতাশার গরম বাতাসে।”
তৃণমূলের মতে—এই আসনে প্রকৃত ত্যাগী, সৎ, জনপ্রিয় নেতাদেরই মনোনয়ন দেওয়া জরুরি, যারা বছরের পর বছর জনগণের সুখ–দুঃখে পাশে থেকেছেন। এক তরুণ কর্মী বলেন, “জনগণের পাশে যারা থাকে, তারাই পারে বগুড়া-১ এ নতুন আশার আলো জ্বালাতে।”
বগুড়া-১ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে। পরিবর্তনের যে স্বপ্ন এলাকাবাসী বুকে লালন করে আসছে—সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সঠিক নেতৃত্বই এখন সময়ের দাবি। সোনাতলা–সারিয়াকান্দির তৃণমূল বিএনপি নেতাদের একমাত্র প্রত্যাশা—সঠিক যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

এ বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
বগুড়া-১ (সোনাতলা–সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন তৃণমূল নেতাকর্মী ও দলের সাধারণ সমর্থকরা। আসনটিতে ঘোষিত প্রার্থীর যোগ্যতা, ত্যাগ, দলের প্রতি নিবেদন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা অভিযোগ করেন, বগুড়া-১ আসনে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি অতীতে দলের দুঃসময়ে কতটা ভূমিকা রেখেছেন—এ নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে। ১/১১, ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনসহ ছাত্র–জনতার জুলাই আন্দোলনে তাঁর উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করছেন নেতাকর্মীরা।
তৃণমূলের দাবি, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সে সময়ে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির ছিলেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। নেতাকর্মীদের কারামুক্তি, চিকিৎসা, আইনি লড়াই—সবকিছুতে সামনে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। একাধিকবার কারাজীবন শেষে আবারও মাঠে নেমে দলের রাজনীতিকে সচল রেখেছেন। সোনাতলা–সারিয়াকান্দি অঞ্চলের প্রায় দুই শতাধিক রাজনৈতিক মামলা পরিচালনা করে তৃণমূলের আস্থা অর্জন করেন এই নেতা।
অপরদিকে প্রশ্ন উঠছে—বর্তমান মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের অতীত ভূমিকা নিয়ে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নেতার মনোনয়ন অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
এক রাজনৈতিক নেতার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী রাজনৈতিক মামলায় জেলে থাকাকালে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়। তখন জাকির ভাই ছাড়া কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। সব খরচ তিনিই বহন করেছেন। তাঁর বিকল্প আমরা দেখি না।” এই আবেগঘন বর্ণনা যেন প্রার্থী না-মানার নীরব প্রতিবাদ।
স্থানীয়দের ভাষ্য—বগুড়া-১ ছিল বিএনপির রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র। মানুষ বিশ্বাস করতো, এ আসনই একদিন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতীক হবে। ৫ আগস্টের পর যে পরিবর্তনের আশায় মানুষ উজ্জীবিত হয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে মিলিয়ে গিয়ে অস্থিরতায় রূপ নিচ্ছে। এক প্রবীণ নাগরিকের কথায়, “যে পরিবর্তনের হাওয়া আশা জাগিয়েছিল, এখন তা পরিণত হয়েছে হতাশার গরম বাতাসে।”
তৃণমূলের মতে—এই আসনে প্রকৃত ত্যাগী, সৎ, জনপ্রিয় নেতাদেরই মনোনয়ন দেওয়া জরুরি, যারা বছরের পর বছর জনগণের সুখ–দুঃখে পাশে থেকেছেন। এক তরুণ কর্মী বলেন, “জনগণের পাশে যারা থাকে, তারাই পারে বগুড়া-১ এ নতুন আশার আলো জ্বালাতে।”
বগুড়া-১ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে। পরিবর্তনের যে স্বপ্ন এলাকাবাসী বুকে লালন করে আসছে—সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সঠিক নেতৃত্বই এখন সময়ের দাবি। সোনাতলা–সারিয়াকান্দির তৃণমূল বিএনপি নেতাদের একমাত্র প্রত্যাশা—সঠিক যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া।