ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ইনকোর্স শেষ না করেই সেমিস্টার নিয়েছিলেন প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত সেই কুবি শিক্ষক

সাব্বির হোসেন, কুবি প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০৭:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
  • / ৬৯ বার পঠিত
নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে অভিযুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাজী এম আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে ইনকোর্স পরীক্ষাসহ অন্যান্য মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু কাজী আনিছ নিয়ম ভেঙে ইনকোর্স কার্যক্রম শেষ না করেই চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কোর্সে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪০ শতাংশই মিডটার্ম, কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন এবং উপস্থিতি হার দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত দুটি মিড পরীক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক, এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার অন্তত ১৪ দিন আগে ইনকোর্সের ফলাফল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দেওয়ার কথা। তবে, কাজী এম আনিছ এই নিয়ম ভেঙে চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়েছেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, কাজী আনিছ যে দুটি কোর্স পড়াতেন, তার মধ্যে কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ মেথডলজি (MCJ 306) কোর্সে মাত্র একটি মিড পরীক্ষা নেওয়া হয়। যেখানে অন্তত দুটি মিড, একটি অ্যাসাইনমেন্ট ও একটি প্রেজেন্টেশন নেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি শুধুমাত্র ১০ নম্বরের একটি মিডটার্ম ও ৫ নম্বরের উপস্থিতি হার দিয়েই চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ করেছেন। বাকি ২৫ নম্বরের ইনকোর্স কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কাজী আনিছ তার পছন্দের শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দিতে এই নিয়মভঙ্গ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন,”তিনি চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সময় স্বজনপ্রীতি করেন। পছন্দের শিক্ষার্থীদের কাছে কম নম্বর পেলে ফোন করে তাদের উত্তর সম্পর্কে জানতে চান। মূলত, উত্তর নয়, শিক্ষার্থীর প্রতি পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতেই তিনি মূল্যায়ন করেন।” শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, চূড়ান্ত পরীক্ষার নম্বর দেখে পরবর্তী সময়ে ইনকোর্স নম্বরে কারসাজির সুযোগ রেখে এ অনিয়ম করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কাজী এম আনিছ বলেন,”তাদের ইনকোর্সের ৪০ নম্বরের মধ্যে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়নি, এটা সত্য। যেহেতু এটি রিসার্চ-সংক্রান্ত কোর্স, শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিসার্চের ডাটা সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তারা পারেনি। শিক্ষার্থীদের অনুরোধেই এমনটা করা হয়েছে।” এ বিষয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি জাকিয়া জাহান মুক্তা বলেন,”শিক্ষক সংকটের কারণে কাজের চাপ অনেক বেশি ছিল। তাছাড়া আমরা পরীক্ষার নিয়ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলাম না। তবে এখন থেকে নিয়ম কঠোরভাবে মানা হবে।” অন্যদিকে, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নুরুল করীম চৌধুরী বলেন,”চূড়ান্ত পরীক্ষা পূর্ববর্তী ইনকোর্স জমা না নিয়ে কীভাবে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হলো, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে।” উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ কাজী এম আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠে, যা একটি উড়ো মেইলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। অভিযোগের যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকায় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং তদন্ত চলাকালীন তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, অভিযোগের প্রমাণ নষ্ট করা হতে পারে, তাই দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ করা উচিত। তারা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও কাজী আনিছের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার দপ্তর সিলগালা করেছে। শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

ইনকোর্স শেষ না করেই সেমিস্টার নিয়েছিলেন প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত সেই কুবি শিক্ষক

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০৭:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে অভিযুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাজী এম আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে ইনকোর্স পরীক্ষাসহ অন্যান্য মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু কাজী আনিছ নিয়ম ভেঙে ইনকোর্স কার্যক্রম শেষ না করেই চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কোর্সে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪০ শতাংশই মিডটার্ম, কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন এবং উপস্থিতি হার দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত দুটি মিড পরীক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক, এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার অন্তত ১৪ দিন আগে ইনকোর্সের ফলাফল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দেওয়ার কথা। তবে, কাজী এম আনিছ এই নিয়ম ভেঙে চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়েছেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, কাজী আনিছ যে দুটি কোর্স পড়াতেন, তার মধ্যে কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ মেথডলজি (MCJ 306) কোর্সে মাত্র একটি মিড পরীক্ষা নেওয়া হয়। যেখানে অন্তত দুটি মিড, একটি অ্যাসাইনমেন্ট ও একটি প্রেজেন্টেশন নেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি শুধুমাত্র ১০ নম্বরের একটি মিডটার্ম ও ৫ নম্বরের উপস্থিতি হার দিয়েই চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ করেছেন। বাকি ২৫ নম্বরের ইনকোর্স কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কাজী আনিছ তার পছন্দের শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দিতে এই নিয়মভঙ্গ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন,”তিনি চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সময় স্বজনপ্রীতি করেন। পছন্দের শিক্ষার্থীদের কাছে কম নম্বর পেলে ফোন করে তাদের উত্তর সম্পর্কে জানতে চান। মূলত, উত্তর নয়, শিক্ষার্থীর প্রতি পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতেই তিনি মূল্যায়ন করেন।” শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, চূড়ান্ত পরীক্ষার নম্বর দেখে পরবর্তী সময়ে ইনকোর্স নম্বরে কারসাজির সুযোগ রেখে এ অনিয়ম করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কাজী এম আনিছ বলেন,”তাদের ইনকোর্সের ৪০ নম্বরের মধ্যে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়নি, এটা সত্য। যেহেতু এটি রিসার্চ-সংক্রান্ত কোর্স, শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিসার্চের ডাটা সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তারা পারেনি। শিক্ষার্থীদের অনুরোধেই এমনটা করা হয়েছে।” এ বিষয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি জাকিয়া জাহান মুক্তা বলেন,”শিক্ষক সংকটের কারণে কাজের চাপ অনেক বেশি ছিল। তাছাড়া আমরা পরীক্ষার নিয়ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলাম না। তবে এখন থেকে নিয়ম কঠোরভাবে মানা হবে।” অন্যদিকে, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নুরুল করীম চৌধুরী বলেন,”চূড়ান্ত পরীক্ষা পূর্ববর্তী ইনকোর্স জমা না নিয়ে কীভাবে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হলো, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে।” উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ কাজী এম আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠে, যা একটি উড়ো মেইলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। অভিযোগের যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকায় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং তদন্ত চলাকালীন তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, অভিযোগের প্রমাণ নষ্ট করা হতে পারে, তাই দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ করা উচিত। তারা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও কাজী আনিছের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার দপ্তর সিলগালা করেছে। শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।