ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
দেবিদ্বারে প্রণোদনার বরাদ্দ কমায় বীজ সংকট

উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে অতিরিক্ত বীজ বিতরণ

এম.জে.এ মামুন:
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫৭ বার পঠিত
কুমিল্লার দেবিদ্বারে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন শাকসবজি ও ধানের বীজ সংকটে হতাশায় পড়েন কৃষকরা। সরকারি প্রণোদনার বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও সংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ বছর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নের মোট ১,০৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য বিনামূল্যে ধান বীজ বরাদ্দ আসে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৫০০। অন্যদিকে সবজি ও অন্যান্য ফসলের বেলায় বরাদ্দ পাওয়া কৃষকের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬৫০ জনে, যেখানে গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫০০।
সরকারি বরাদ্দ কমে যাওয়ায় বীজ সংকট দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম বিষয়টি নজরে নিয়ে সংকট সমাধানে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে অতিরিক্ত সহায়তার উদ্যোগ নেন। তার উদ্যোগেই ১,৫৩০ জন কৃষকের মাঝে ধান ও বিভিন্ন সবজির বীজ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা পরিষদ।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে আয়োজিত কৃষি প্রণোদনা বিষয়ক অনুষ্ঠানে এই অতিরিক্ত বীজ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইউএনও রাকিবুল ইসলাম।
কৃষক আল আমিন জানান, “কথা রেখেছেন ইউএনও ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম। ধান বীজের সংকট পুরোপুরি না কাটলেও শাকসবজির ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত।”
এ বছর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ৪০০ কৃষককে ব্রি ধান-১০২ ও ব্রি ধান-১০৪ জাতের ৫ কেজি করে ধান বীজ, ৫০০ কৃষক-কৃষাণীকে লাউ, ধুন্দল, লালশাক, ডাটা ও ধনিয়া — এই পাঁচ ধরনের সবজি বীজ, ১৮০ কৃষককে পেঁয়াজ বীজ এবং ৪৫০ কৃষকের মাঝে সরিষা বীজ বিতরণ করা হয়। কৃষকদের তালিকা তৈরি থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তদারক করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায় নাগরিক ভাবনাকে বলেন, “দেবিদ্বারের পেঁয়াজ উৎপাদনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। খরিপ মৌসুমে সবজির দাম বেশি হওয়ায় পুষ্টি নিশ্চিত করতে কৃষকদের সবজি বীজ দেওয়া হয়েছে। ব্রি ধান-১০২ জিংকসমৃদ্ধ এবং ব্রি ধান-১০৪ প্রিমিয়াম মানের উফশী জাত, কৃষকরা এগুলোর বীজ সংরক্ষণও করতে পারবেন। সরিষা চাষেরও এখন অনুকূল সময়।”
তিনি আরও বলেন, বিশেষ প্রয়োজন থাকলে কৃষি অফিস অতিরিক্ত সহযোগিতার চেষ্টা করবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম নাগরিক ভাবনাকে বলেন, “সরকারি প্রণোদনার বরাদ্দ কম থাকায় বীজ সংকট তৈরি হয়েছিল। তাই উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে অতিরিক্ত বীজ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বীজ ব্যবহারের অগ্রগতি মনিটরিং করা হবে। দেবিদ্বারের কৃষি উন্নয়নে আরও কিছু পরিকল্পনা হাতে আছে—সেগুলো বাস্তবায়ন হলে এই মৌসুমে কৃষি উৎপাদনে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।”
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

দেবিদ্বারে প্রণোদনার বরাদ্দ কমায় বীজ সংকট

উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে অতিরিক্ত বীজ বিতরণ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
কুমিল্লার দেবিদ্বারে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন শাকসবজি ও ধানের বীজ সংকটে হতাশায় পড়েন কৃষকরা। সরকারি প্রণোদনার বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও সংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ বছর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নের মোট ১,০৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য বিনামূল্যে ধান বীজ বরাদ্দ আসে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৫০০। অন্যদিকে সবজি ও অন্যান্য ফসলের বেলায় বরাদ্দ পাওয়া কৃষকের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬৫০ জনে, যেখানে গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫০০।
সরকারি বরাদ্দ কমে যাওয়ায় বীজ সংকট দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম বিষয়টি নজরে নিয়ে সংকট সমাধানে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে অতিরিক্ত সহায়তার উদ্যোগ নেন। তার উদ্যোগেই ১,৫৩০ জন কৃষকের মাঝে ধান ও বিভিন্ন সবজির বীজ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা পরিষদ।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে আয়োজিত কৃষি প্রণোদনা বিষয়ক অনুষ্ঠানে এই অতিরিক্ত বীজ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইউএনও রাকিবুল ইসলাম।
কৃষক আল আমিন জানান, “কথা রেখেছেন ইউএনও ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম। ধান বীজের সংকট পুরোপুরি না কাটলেও শাকসবজির ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত।”
এ বছর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ৪০০ কৃষককে ব্রি ধান-১০২ ও ব্রি ধান-১০৪ জাতের ৫ কেজি করে ধান বীজ, ৫০০ কৃষক-কৃষাণীকে লাউ, ধুন্দল, লালশাক, ডাটা ও ধনিয়া — এই পাঁচ ধরনের সবজি বীজ, ১৮০ কৃষককে পেঁয়াজ বীজ এবং ৪৫০ কৃষকের মাঝে সরিষা বীজ বিতরণ করা হয়। কৃষকদের তালিকা তৈরি থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তদারক করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায় নাগরিক ভাবনাকে বলেন, “দেবিদ্বারের পেঁয়াজ উৎপাদনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। খরিপ মৌসুমে সবজির দাম বেশি হওয়ায় পুষ্টি নিশ্চিত করতে কৃষকদের সবজি বীজ দেওয়া হয়েছে। ব্রি ধান-১০২ জিংকসমৃদ্ধ এবং ব্রি ধান-১০৪ প্রিমিয়াম মানের উফশী জাত, কৃষকরা এগুলোর বীজ সংরক্ষণও করতে পারবেন। সরিষা চাষেরও এখন অনুকূল সময়।”
তিনি আরও বলেন, বিশেষ প্রয়োজন থাকলে কৃষি অফিস অতিরিক্ত সহযোগিতার চেষ্টা করবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম নাগরিক ভাবনাকে বলেন, “সরকারি প্রণোদনার বরাদ্দ কম থাকায় বীজ সংকট তৈরি হয়েছিল। তাই উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে অতিরিক্ত বীজ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বীজ ব্যবহারের অগ্রগতি মনিটরিং করা হবে। দেবিদ্বারের কৃষি উন্নয়নে আরও কিছু পরিকল্পনা হাতে আছে—সেগুলো বাস্তবায়ন হলে এই মৌসুমে কৃষি উৎপাদনে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।”