ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
বগুড়া-১ আসনের ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী

ঋণ খেলাপি মামলায় পলাতক থাকায় কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমন জারি

হারুন-অর রশিদ, সোনাতলা (বগুড়া)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৬৭ বার পঠিত
হারুন-অর রশিদ, সোনাতলা (বগুড়া): বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ খেলাপি হওয়ার অভিযোগে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক তার বিরুদ্ধে ৩৯৬,২৩,৯০,২৭৪.১৩ টাকা সুদসহ আদায়ের দাবিতে সমন জারি করেছে।
জানা গেছে, কাজী রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ৭শত কোটি ৬১লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে তা সময়মতো পরিশোধ না করায় ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হন। এর আগে এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কাজী রফিকুল ইসলামের পক্ষে জারি করা হাইকোর্টের স্টে-অর্ডার বাতিল চেয়ে আপিল করে। আপিল ডিভিশন গ্রহণ করে তার নামে জারি থাকা স্টে-অর্ডার বাতিল করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ফার্স্ট সিকিউরিটি অর্থঋণ আদালত-২ সম্প্রতি একটি আইনি নোটিশ ও সমন জারি করে। সমনে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের পর কৌশলে আত্মগোপনে থেকে পাওনা টাকা আদায়ের কার্যক্রম বিলম্বিত করা হচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৭ মে ২০২৫ পর্যন্ত সুদসহ মোট ৩৯৬,২৩,৯০,২৭৪.১৩ টাকা আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার ২য় অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সমনে আরও বলা হয়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে কাজী রফিকুল ইসলাম স্বশরীরে বা নিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত আপত্তি দাখিল না করলে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী মামলাটি নিষ্পত্তি করা হবে।
আদালতের সীলমোহর অনুযায়ী ০২ জুলাই ২০২৫ তারিখে সমন জারি করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর  গুলশান ২ ১১৫ নম্বর রোডের ৩৮ নাম্বার বাড়ির মালিক, খন্দকার ইসলাম, মহাখালী এলাকার ডিওএইচএস ৪৫ নং বাড়ির জমির মালিক এবং মহাখালী আমতলী নিউ এয়ারপোর্ট এর ৭৭ নং বাড়ির জমির মালিক  আনোয়ারুল কবির খানএর দায়ের করা একটি অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগে কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার, অন্যের জমি দখল, ভূমিদস্যুতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগে তাকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী স্বৈরাচারের ঘনিষ্ঠ ও নাসা গ্রুপের চেয়ারম-সংশ্লিষ্ট্যা নজরুল ইসলাম মজুমদারের ব্যবসায়ী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
এই সব অভিযোগকে কেন্দ্র করে বগুড়া-১ আসনে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এত বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কেউ নির্বাচিত হলে দেশ ও এলাকার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়।
সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার একাধিক সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন ভূমিদস্যু ও দখলবাজ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে বিএনপির মতো একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল কখনোই মনোনয়ন দেবে—এমনটা আমরা আশা করিনি।” তাদের মতে, কাজী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল হলে তা বিএনপির জন্যই ইতিবাচক হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

বগুড়া-১ আসনের ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী

ঋণ খেলাপি মামলায় পলাতক থাকায় কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমন জারি

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
হারুন-অর রশিদ, সোনাতলা (বগুড়া): বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ খেলাপি হওয়ার অভিযোগে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক তার বিরুদ্ধে ৩৯৬,২৩,৯০,২৭৪.১৩ টাকা সুদসহ আদায়ের দাবিতে সমন জারি করেছে।
জানা গেছে, কাজী রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ৭শত কোটি ৬১লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে তা সময়মতো পরিশোধ না করায় ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হন। এর আগে এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কাজী রফিকুল ইসলামের পক্ষে জারি করা হাইকোর্টের স্টে-অর্ডার বাতিল চেয়ে আপিল করে। আপিল ডিভিশন গ্রহণ করে তার নামে জারি থাকা স্টে-অর্ডার বাতিল করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ফার্স্ট সিকিউরিটি অর্থঋণ আদালত-২ সম্প্রতি একটি আইনি নোটিশ ও সমন জারি করে। সমনে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের পর কৌশলে আত্মগোপনে থেকে পাওনা টাকা আদায়ের কার্যক্রম বিলম্বিত করা হচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৭ মে ২০২৫ পর্যন্ত সুদসহ মোট ৩৯৬,২৩,৯০,২৭৪.১৩ টাকা আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার ২য় অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সমনে আরও বলা হয়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে কাজী রফিকুল ইসলাম স্বশরীরে বা নিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত আপত্তি দাখিল না করলে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী মামলাটি নিষ্পত্তি করা হবে।
আদালতের সীলমোহর অনুযায়ী ০২ জুলাই ২০২৫ তারিখে সমন জারি করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর  গুলশান ২ ১১৫ নম্বর রোডের ৩৮ নাম্বার বাড়ির মালিক, খন্দকার ইসলাম, মহাখালী এলাকার ডিওএইচএস ৪৫ নং বাড়ির জমির মালিক এবং মহাখালী আমতলী নিউ এয়ারপোর্ট এর ৭৭ নং বাড়ির জমির মালিক  আনোয়ারুল কবির খানএর দায়ের করা একটি অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগে কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার, অন্যের জমি দখল, ভূমিদস্যুতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগে তাকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী স্বৈরাচারের ঘনিষ্ঠ ও নাসা গ্রুপের চেয়ারম-সংশ্লিষ্ট্যা নজরুল ইসলাম মজুমদারের ব্যবসায়ী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
এই সব অভিযোগকে কেন্দ্র করে বগুড়া-১ আসনে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এত বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কেউ নির্বাচিত হলে দেশ ও এলাকার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়।
সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার একাধিক সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন ভূমিদস্যু ও দখলবাজ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে বিএনপির মতো একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল কখনোই মনোনয়ন দেবে—এমনটা আমরা আশা করিনি।” তাদের মতে, কাজী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল হলে তা বিএনপির জন্যই ইতিবাচক হবে।