ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
মানবপাচারকারীর আস্তানায় অভিযান

কক্সবাজারে উদ্ধার ৮৪ জন, অস্ত্র-গুলিসহ আটক তিন

শ.ম.গফুর, কক্সবাজার
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৭৩ বার পঠিত

কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তার সংখ্যা দিন-দিন বাড়ছে। সেসব আস্তায় টানা ১২ ঘন্টার অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্য’কে আটক করা হয়েছে। এ সময় পাচারের জন্য জড়ো করে রাখা ৮৪ নারী-পুরুষ ও শিশু উদ্ধার হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে টানা ১২ ঘন্টাব্যাপী টেকনাফের কয়েকটি পাহাড়ে এ অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) যৌথভাবে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেকনাফ ২ বিজিবি দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান ও র‍্যাব-১৫’র অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এতে আটকরা হলেন, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার আব্দুল্লাহ (২১), রাজরছড়ার সাইফুল ইসলাম (২০) ও একই মো. ইব্রাহিম (২০)। আটকরা মানবপাচারিকারির আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য। ওই চক্রের আরও ৯ জনকে শনাক্তের তথ্য জানানো হয়েছে। পলাতক থাকা চক্রের এসব সদস্যরা হলেন, বাহারছড়া ইউনিয়নের মৃত মীর কাসেমের ছেলে রেজাউল করিম (৩৭), মমতাজ সওদাগরের ছেলে আয়াতুল তামজিদ (৩০), রোহিঙ্গা তুফান, আব্দুল আলীম, জাকির, হাবিবছড়ার এলাকার রশিদ মেম্বার, কচ্ছপিয়া এলাকার মজিব (৩০), জয়নাল (২৫), আব্দুল মজিদ (২০)। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে, ১ টি বিদেশী পিস্তল, ১টি বিদেশী পিস্তলের গুলি, ১টি একনালা বন্দুক, ১টি একনালা বন্দুকের গুলি, ১টি ওয়ানগান শুটার, ১টি ওয়ানগান শুটারের গুলি, ২টি দেশী রামদা ও ১ টি চাকু।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব’র অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, ‘টেকনাফের বাহারছড়া কচ্ছপিয়ায় গহীন পাহাড়ে একটি পাচারকারী চক্র মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে আটক রাখা খবরে রবিবার সন্ধ্যার পর বিজিবি ও র‌্যার সদস্যরা প্রথমে বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে একজন পাচারকারীকে আটকসহ চার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের লোমহর্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভিত্তিতে পাহাড়ে বৃহৎ যৌথ অভিযান পরিচালনা করি। এতে আলাদাভাবে পাচারকারীদের তিনটি পাহাড়ি আস্তানা থেকে ৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে পাচারের জন্য জড়ো করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বিজিবি ও র‌্যাব’র ১২ ঘন্টার দুঃসাহসিক অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ’বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি সময়ে টেকনাফে পাহাড়ি মানব পাচারের বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় হয়েছে। ফলে আমরা টহল-নজরদারীর মাধ্যমে পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করছি। এরই অংশ হিসেবে আমরা কয়েকটি পাহাড়ে মানবপাচার চক্রের আস্তানায় হানা দিয়ে সমুদ্রপথে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ৮৪ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্যে যেমন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অবস্থানরত হোসেন, সাইফুল ও নিজাম নামের তিন ব্যক্তি এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূলহোতা। তাদের অধীনে রয়েছে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত দালালদের আন্তর্জাতিক এজেন্ট। একই পাহাড় থেকে এর আগে কোস্টগার্ড ১৮ সেপ্টেম্বর ৬৬ জনকে উদ্ধার করে, ১৬ সেপ্টেম্বর বিজিবি ১১ জনকে উদ্ধার করে ১২ জনকে আটক করেছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মানবপাচারকারীর আস্তানায় অভিযান

কক্সবাজারে উদ্ধার ৮৪ জন, অস্ত্র-গুলিসহ আটক তিন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তার সংখ্যা দিন-দিন বাড়ছে। সেসব আস্তায় টানা ১২ ঘন্টার অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্য’কে আটক করা হয়েছে। এ সময় পাচারের জন্য জড়ো করে রাখা ৮৪ নারী-পুরুষ ও শিশু উদ্ধার হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে টানা ১২ ঘন্টাব্যাপী টেকনাফের কয়েকটি পাহাড়ে এ অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) যৌথভাবে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেকনাফ ২ বিজিবি দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান ও র‍্যাব-১৫’র অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এতে আটকরা হলেন, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার আব্দুল্লাহ (২১), রাজরছড়ার সাইফুল ইসলাম (২০) ও একই মো. ইব্রাহিম (২০)। আটকরা মানবপাচারিকারির আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য। ওই চক্রের আরও ৯ জনকে শনাক্তের তথ্য জানানো হয়েছে। পলাতক থাকা চক্রের এসব সদস্যরা হলেন, বাহারছড়া ইউনিয়নের মৃত মীর কাসেমের ছেলে রেজাউল করিম (৩৭), মমতাজ সওদাগরের ছেলে আয়াতুল তামজিদ (৩০), রোহিঙ্গা তুফান, আব্দুল আলীম, জাকির, হাবিবছড়ার এলাকার রশিদ মেম্বার, কচ্ছপিয়া এলাকার মজিব (৩০), জয়নাল (২৫), আব্দুল মজিদ (২০)। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে, ১ টি বিদেশী পিস্তল, ১টি বিদেশী পিস্তলের গুলি, ১টি একনালা বন্দুক, ১টি একনালা বন্দুকের গুলি, ১টি ওয়ানগান শুটার, ১টি ওয়ানগান শুটারের গুলি, ২টি দেশী রামদা ও ১ টি চাকু।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব’র অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, ‘টেকনাফের বাহারছড়া কচ্ছপিয়ায় গহীন পাহাড়ে একটি পাচারকারী চক্র মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে আটক রাখা খবরে রবিবার সন্ধ্যার পর বিজিবি ও র‌্যার সদস্যরা প্রথমে বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে একজন পাচারকারীকে আটকসহ চার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের লোমহর্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভিত্তিতে পাহাড়ে বৃহৎ যৌথ অভিযান পরিচালনা করি। এতে আলাদাভাবে পাচারকারীদের তিনটি পাহাড়ি আস্তানা থেকে ৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে পাচারের জন্য জড়ো করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বিজিবি ও র‌্যাব’র ১২ ঘন্টার দুঃসাহসিক অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ’বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি সময়ে টেকনাফে পাহাড়ি মানব পাচারের বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় হয়েছে। ফলে আমরা টহল-নজরদারীর মাধ্যমে পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করছি। এরই অংশ হিসেবে আমরা কয়েকটি পাহাড়ে মানবপাচার চক্রের আস্তানায় হানা দিয়ে সমুদ্রপথে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ৮৪ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্যে যেমন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অবস্থানরত হোসেন, সাইফুল ও নিজাম নামের তিন ব্যক্তি এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূলহোতা। তাদের অধীনে রয়েছে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত দালালদের আন্তর্জাতিক এজেন্ট। একই পাহাড় থেকে এর আগে কোস্টগার্ড ১৮ সেপ্টেম্বর ৬৬ জনকে উদ্ধার করে, ১৬ সেপ্টেম্বর বিজিবি ১১ জনকে উদ্ধার করে ১২ জনকে আটক করেছিল।