নাঈম ইসলাম
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সাপ্তাহিক হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। আইন অনুযায়ী এসব জালের উৎপাদন, বিপণন, মজুত ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও দিনের আলোতেই চলছে কেনাবেচা। অথচ সাপ্তাহিক এই হাটে দীর্ঘদিন ধরেও নেই দৃশ্যমান কোনো অভিযান । বরং খাল-বিলে সীমিত পরিসরে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি জাল জব্দ বা ধ্বংসের মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা।
সরেজমিনে গিয়ে কটিয়াদী বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় নিষিদ্ধ জালের চাহিদা বেড়েছে। বনিক সমিতির অফিসের সামনেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে কারেন্ট জাল। ক্রেতারা প্রকাশ্যেই এসব জাল কিনছেন, অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি বা নজরদারি চোখে পড়েনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাজারে যেখানে অবাধে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি হচ্ছে, সেখানে মৎস্য বিভাগের অভিযান না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তাদের দাবি, মূল বিক্রেতা ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে দূরবর্তী বিল বা খালে গিয়ে সাধারণ জেলেদের কাছ থেকে কয়েকটি জাল জব্দ করে ছবি তুলে প্রচার করাকেই অভিযান হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, “বাজারে শত শত পিস নিষিদ্ধ জাল বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সেখানে কোনো অভিযান হয় না। মাঝে মাঝে বিলে গিয়ে কয়েকটি জাল পুড়িয়ে ছবি তোলা হয়। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কিছুই হয় না।”
কারেন্ট জাল বিক্রির বিষয়ে কটিয়াদী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ইলিয়াস আলী ঢাকা থাকায় মুঠোফোনে বলেন, এই বিষয়ে আমি অবগত নয়। কারেন্ট জাল বিক্রি হয় এমন অভিযোগ এর আগে কেউ জানায়নি। আজকে আপনার কাছে প্রথম জানলাম। এই বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এখনি ব্যবস্থা নেওয়াচ্ছি।
এই বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাওছার মিয়া বলেন, কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জাল দেশের জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর জালের মধ্যে অন্যতম। এসব জালে মাছের ডিম, রেণুপোনা, ছোট মাছ, কাঁকড়া এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধরা পড়ে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই মাঝে মধ্যে বাজার মনিটরিং করা হয়। কিন্তু আজকে কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে তা মাত্র জানলাম। এখনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 





















