ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। ওই পরোয়ানা কার্যকর করতে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গত ২৭ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।

এ ছাড়া অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। একই মামলায় আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিরা পলাতক।

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ বহু মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো এবং নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংঘটিত নিপীড়ন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
30 July 2026

বিএনপি কর্মীকে মারধর ও ককটেল বিস্ফোরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। ওই পরোয়ানা কার্যকর করতে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গত ২৭ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।

এ ছাড়া অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। একই মামলায় আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিরা পলাতক।

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ বহু মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো এবং নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংঘটিত নিপীড়ন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।

Share this news as a Photo Card