ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

কুমারখালীতে রবীন্দ্রনাথের ম্যুরালে কালি, বিকৃত বানান রবীন্দ্রভক্তদের ক্ষোভে উত্তাল জনমত

উজ্জ্বল মাহমুদ (কুষ্টিয়া)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:২২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / ১১১ বার পঠিত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরালে কালো রঙের কালি লাগিয়ে বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ম্যুরালে থাকা কবির নামের বানানও বিকৃত করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে, যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যুরালটির বিকৃত ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ প্রেমী, সাহিত্যিক ও গবেষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ম্যুরালটি কুমারখালী উপজেলার প্রবেশমুখে, জিলাপিতলা এলাকায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ম্যুরালে থাকা কবির মুখমণ্ডলে কালি লেপন করা হয়েছে। এছাড়া ‘রবীন্দ্রনাথ’ ও ‘ঠাকুর’ নামের বানান বিকৃত করে লেখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকা ম্যুরাল চত্বরে জমেছে আগাছা ও লতা-পাতা, চটে গেছে রং। যদিও এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন ছিল, তবুও তা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো।

এ বিষয়ে কুমারখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার জানান, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কারা এ কাজ করেছে তা জানা যায়নি। তবে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং ম্যুরালটির সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু হবে।” স্থানীয় কবি ও সাহিত্যিক লিটন আব্বাস বলেন, “রবীন্দ্রনাথ নয়, এই কালি লেগেছে পুরো বাঙালি জাতির মুখে। তদন্ত করে দোষীদের প্রকাশ্যে আনার দাবি জানাই।” রবীন্দ্র গবেষক রেফুল করিম বলেন, “এখানেই বসে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছিলেন ‘গীতাঞ্জলি’র বড় অংশ। সেই পবিত্র স্থানে এমন অপকর্ম বাঙালির জন্য লজ্জাজনক।” কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বলেন, “রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মিকাইল ইসলাম বলেন, “ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে দুর্বৃত্তরা এমন কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কুমারখালীতে অবস্থানকালে লেখনীতে যে আলো ছড়িয়েছিলেন, সেখানে এই অন্ধকারময় ঘটনা গোটা জাতিকে ব্যথিত করেছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ম্যুরালটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এখন স্থানীয়দের একমাত্র দাবি।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কুমারখালীতে রবীন্দ্রনাথের ম্যুরালে কালি, বিকৃত বানান রবীন্দ্রভক্তদের ক্ষোভে উত্তাল জনমত

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:২২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরালে কালো রঙের কালি লাগিয়ে বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ম্যুরালে থাকা কবির নামের বানানও বিকৃত করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে, যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যুরালটির বিকৃত ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ প্রেমী, সাহিত্যিক ও গবেষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ম্যুরালটি কুমারখালী উপজেলার প্রবেশমুখে, জিলাপিতলা এলাকায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ম্যুরালে থাকা কবির মুখমণ্ডলে কালি লেপন করা হয়েছে। এছাড়া ‘রবীন্দ্রনাথ’ ও ‘ঠাকুর’ নামের বানান বিকৃত করে লেখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকা ম্যুরাল চত্বরে জমেছে আগাছা ও লতা-পাতা, চটে গেছে রং। যদিও এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন ছিল, তবুও তা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো।

এ বিষয়ে কুমারখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার জানান, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কারা এ কাজ করেছে তা জানা যায়নি। তবে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং ম্যুরালটির সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু হবে।” স্থানীয় কবি ও সাহিত্যিক লিটন আব্বাস বলেন, “রবীন্দ্রনাথ নয়, এই কালি লেগেছে পুরো বাঙালি জাতির মুখে। তদন্ত করে দোষীদের প্রকাশ্যে আনার দাবি জানাই।” রবীন্দ্র গবেষক রেফুল করিম বলেন, “এখানেই বসে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছিলেন ‘গীতাঞ্জলি’র বড় অংশ। সেই পবিত্র স্থানে এমন অপকর্ম বাঙালির জন্য লজ্জাজনক।” কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বলেন, “রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মিকাইল ইসলাম বলেন, “ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে দুর্বৃত্তরা এমন কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কুমারখালীতে অবস্থানকালে লেখনীতে যে আলো ছড়িয়েছিলেন, সেখানে এই অন্ধকারময় ঘটনা গোটা জাতিকে ব্যথিত করেছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ম্যুরালটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এখন স্থানীয়দের একমাত্র দাবি।