অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এটি কি কার্যকর পদক্ষেপ হবে?
রাজনগর ও মৌলভীবাজারের বালুমহাল ইজারা দিচ্ছে জেলা প্রশাসন

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৩ বার পঠিত

সঞ্জয় মালাকার: মৌলভীবাজার জেলার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে রাজনগর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন সাধারণ বালুমহালসমূহ ইজারা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য (দ্বিতীয় পর্যায়) এই ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
ইজারার বিবরণ:
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজনগর উপজেলার কুশিয়ারা নদী সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ বালুমহালসহ জেলার অন্যান্য উপজেলার নির্ধারিত বালুমহালগুলো এই ইজারার আওতাভুক্ত থাকবে। আগ্রহী প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে সীলমোহরকৃত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
শর্তাবলী ও নিয়মাবলি:
১. আবেদন প্রক্রিয়া: ইজারা পেতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জেলা প্রশাসন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে।
২. পরিবেশ রক্ষা: বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বালু উত্তোলনের সময় নদীর তীরবর্তী এলাকা, ফসলি জমি এবং সরকারি স্থাপনার কোনো ক্ষতি করা যাবে না।
৩. ইজারা মূল্য: সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মূল্যের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ দরদাতাকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ইজারা প্রদান করা হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা:
রাজনগরের সচেতন মহলের দাবি, ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে যেন স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। বিশেষ করে রাজনগরের কুশিয়ারা নদী এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে এই ইজারা প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে ইজাদাররা যাতে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর পাড় বা ব্রিজের ক্ষতি না করে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বালুমহাল ইজারা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনপদ রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


















