এম.জে.এ মামুন:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের দুই শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন কারখানাটির শ্রমিক-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবিদ্বার উপজেলার জাফরপুর এলাকায় সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ এবং ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল রানা শুভকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, এসব প্রচারের মাধ্যমে দুই শ্রমিক নেতার সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, ফেক বা ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে দুই শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক সেবনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে কথিত ভিডিও তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে বলেও মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক ও তার সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা মোস্তফা, সোহেল মিয়া, আবু মিয়া ও আবদুল হাকিমসহ সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি ও ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ সময় বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা ফয়সাল, জরিনা বেগম, আমেনা আক্তার, জুবায়ের আহমেদ, শিউলি আক্তারসহ আরও অনেকে।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রচার করলে এতে ব্যক্তি, শ্রমিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে, অপপ্রচারের অভিযোগে নাম আসা ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক বলেন, তিনি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি প্রচারের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে কোনো পোস্ট করেননি। তবে তিনি বলেন, “ঘটনা সত্য না হলে কি আর মানুষ প্রচার করে?”
তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ভিডিওর উৎস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সঙ্গে কারা জড়িত এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শ্রমিকদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 


















