ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতা রোকন অস্ত্রসহ আটক: রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নাকি বাস্তব ঘটনা

উজ্জ্বল মাহমুদ (কুষ্টিয়া)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:০৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
  • / ৮৮ বার পঠিত
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদস্য রোকনুজ্জামান রোকন ও তার ভাই কাঁকনকে সোমবার (২৪ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে সেনাবাহিনী আটক করেছে। তাদের বাড়ির আঙিনা থেকে একটি দেশি পিস্তল, একটি দেশি শুটার গান ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার ভোরে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা পাড়া গ্রামে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে রোকনুজ্জামান রোকনের বাড়ি তল্লাশি করে। এরপর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং রোকন ও তার ভাইকে আটক করা হয়। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযানে পাওয়া অস্ত্রের ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশের পাহারায় রোকনের চিকিৎসা চলছে। রোকনের স্ত্রী শামীমা সুলতানা ঝুমা এবং তার ফুফু রুলি মেম্বার দাবি করেছেন, এটি সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ও তার অনুসারীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ষড়যন্ত্র করে সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়ে রোকনকে ফাঁসিয়েছে। কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলমসহ বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রোকন ও তার ভাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার এবং তাদের ওপর “মধ্যযুগীয় বর্বরোচিত নির্যাতন” চালানো হয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, রোকনুজ্জামান রোকন সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি পুলিশের পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভেড়ামারা থানার ওসি শেখ শহিদুল ইসলাম জানান, কুচিয়ামোড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল নাকি প্রকৃত অপরাধের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন—এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পেছনের সত্য আসলে কী?
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতা রোকন অস্ত্রসহ আটক: রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নাকি বাস্তব ঘটনা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:০৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদস্য রোকনুজ্জামান রোকন ও তার ভাই কাঁকনকে সোমবার (২৪ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে সেনাবাহিনী আটক করেছে। তাদের বাড়ির আঙিনা থেকে একটি দেশি পিস্তল, একটি দেশি শুটার গান ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার ভোরে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা পাড়া গ্রামে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে রোকনুজ্জামান রোকনের বাড়ি তল্লাশি করে। এরপর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং রোকন ও তার ভাইকে আটক করা হয়। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযানে পাওয়া অস্ত্রের ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশের পাহারায় রোকনের চিকিৎসা চলছে। রোকনের স্ত্রী শামীমা সুলতানা ঝুমা এবং তার ফুফু রুলি মেম্বার দাবি করেছেন, এটি সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ও তার অনুসারীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ষড়যন্ত্র করে সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়ে রোকনকে ফাঁসিয়েছে। কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলমসহ বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রোকন ও তার ভাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার এবং তাদের ওপর “মধ্যযুগীয় বর্বরোচিত নির্যাতন” চালানো হয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, রোকনুজ্জামান রোকন সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি পুলিশের পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভেড়ামারা থানার ওসি শেখ শহিদুল ইসলাম জানান, কুচিয়ামোড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল নাকি প্রকৃত অপরাধের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন—এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পেছনের সত্য আসলে কী?