ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
নাগরিক ভাবনা ॥ Nagorik Bhabna
নাগরিক ভাবনা ॥ Nagorik Bhabna
নাগরিক ভাবনা ॥ Nagorik Bhabna
  • 🏠
  • জাতীয়
    • শীর্ষ খবর
    • রাজনীতি
    • বিবিধ
      • দুর্ভোগ-ভোগান্তি
      • আইন ও আদালত
      • খবর বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস রিলিজ
      • বিভাগীয় খবর
        • খুলনা বিভাগ
        • চট্টগ্রাম বিভাগ
        • ঢাকা বিভাগ
        • বরিশাল বিভাগ
        • ময়মনসিংহ বিভাগ
        • রংপুর বিভাগ
        • রাজশাহী বিভাগ
        • সিলেট বিভাগ
  • রূপসী বাংলা
  • বহির্বিশ্ব
  • খোলা জানালা
    • মুক্তমত
    • মহাশয়, জানেন তো ঘটনাটা!
    • ডাক হরকরা
    • পিয়াসের ডায়েরি থেকে …
    • প্রিয় মুখ
  • খেলার মাঠ
  • বিনোদন পাড়া
  • সাপ্তাহিক আয়োজন
    • অর্থনীতি ও বাণিজ্যের হালহকিকত
    • কর্ম-কর্মস্থল-কর্মসংস্থান
    • কৃষি ও কৃষক
    • গৃহিণীর রসুইঘর-ঘরসজ্জা
    • তথ্য-প্রযুক্তিতে বিজ্ঞান
    • ধর্ম-সংস্কৃতি ও ইতিহাস
    • নগর জীবন
    • ভ্রমণ ও পর্যটন
    • যাপিত জীবনে স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা-শিক্ষার্থী-শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য ভাবনা
  • নাগরিক টুকিটাকি
    • আমাদের সম্পর্কে জানুন
      • পরিবারের সহকর্মীবৃন্দ
      • নাগরিকে যুক্ত হতে নির্দেশনা
    • নাগরিক পরিচিতি
      • ই-নাগরিক ভাবনা
      • নাগরিক মাল্টিমিডিয়া
      • সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগরিক
      • নাগরিক মার্ট
      • নাগরিক শেল্টার
    • আরো দেখুন
      • এ্যান্ড্রয়ডে ডাউনলোড করুন ‘নাগরিক এ্যাপস’
      • লেখা পাঠান নাগরিকে
  • 🏠
  • জাতীয়
    • শীর্ষ খবর
    • রাজনীতি
    • বিবিধ
      • দুর্ভোগ-ভোগান্তি
      • আইন ও আদালত
      • খবর বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস রিলিজ
      • বিভাগীয় খবর
        • খুলনা বিভাগ
        • চট্টগ্রাম বিভাগ
        • ঢাকা বিভাগ
        • বরিশাল বিভাগ
        • ময়মনসিংহ বিভাগ
        • রংপুর বিভাগ
        • রাজশাহী বিভাগ
        • সিলেট বিভাগ
  • রূপসী বাংলা
  • বহির্বিশ্ব
  • খোলা জানালা
    • মুক্তমত
    • মহাশয়, জানেন তো ঘটনাটা!
    • ডাক হরকরা
    • পিয়াসের ডায়েরি থেকে …
    • প্রিয় মুখ
  • খেলার মাঠ
  • বিনোদন পাড়া
  • সাপ্তাহিক আয়োজন
    • অর্থনীতি ও বাণিজ্যের হালহকিকত
    • কর্ম-কর্মস্থল-কর্মসংস্থান
    • কৃষি ও কৃষক
    • গৃহিণীর রসুইঘর-ঘরসজ্জা
    • তথ্য-প্রযুক্তিতে বিজ্ঞান
    • ধর্ম-সংস্কৃতি ও ইতিহাস
    • নগর জীবন
    • ভ্রমণ ও পর্যটন
    • যাপিত জীবনে স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা-শিক্ষার্থী-শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য ভাবনা
  • নাগরিক টুকিটাকি
    • আমাদের সম্পর্কে জানুন
      • পরিবারের সহকর্মীবৃন্দ
      • নাগরিকে যুক্ত হতে নির্দেশনা
    • নাগরিক পরিচিতি
      • ই-নাগরিক ভাবনা
      • নাগরিক মাল্টিমিডিয়া
      • সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগরিক
      • নাগরিক মার্ট
      • নাগরিক শেল্টার
    • আরো দেখুন
      • এ্যান্ড্রয়ডে ডাউনলোড করুন ‘নাগরিক এ্যাপস’
      • লেখা পাঠান নাগরিকে
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
News Title :
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি: নীলফামারীতে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত লোহাগড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, নিয়মিত হাত ধোয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সড়কের কয়েক লাখ টাকার সরকারি গাছ উধাও, তদন্তের দাবি চিরিরবন্দরে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান নিহত শাজাহানপুরে স্কুলের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সিরাজগঞ্জে নিরাপদ সড়ক দিবস পালন ও সেরা ৪ চালককে সম্মাননা প্রদান রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে পেটাল দুর্বৃত্তরা স্ট্রোক প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ুক দ্রুত চিকিৎসায় রক্ষা পাক জীবন লালপুরে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা
  • 🏠
  • রাজনীতি
  • ক্লাসরুম থেকে বঙ্গভবন

ক্লাসরুম থেকে বঙ্গভবন

  • নাগরিকভাবনা ডেস্ক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৪:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৫ বার পঠিত

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চালিকাশক্তি। যিনি শত ঝড়-ঝাপটার মাঝেও দলের পতাকা শক্ত হাতে ধরে রেখেছিলেন। তবে সেই পথ চলা মসৃণ ছিল না মোটেই। কণ্টকাকীর্ণ সেই পথ পেরিয়ে আসতে তাকে জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।।

১৯৭২ সালের এক শান্ত সকাল। সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের ঢাকা কলেজের অর্থনীতির ক্লাসরুম। চক আর ডাস্টার হাতে জটিল সব অর্থনৈতিক তত্ত্ব শিক্ষার্থীদের সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন তরুণ প্রভাষক মির্জা ফখরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে সদ্যই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে শুরু করেছিলেন এই মহৎ পেশা। এরপর ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন বিদ্যাপীঠের হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন জ্ঞানের আলো।

কিন্তু তার রক্তে বইছিল দেশপ্রেম আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীনতার ধারা। পিতা সাবেক কৃষিমন্ত্রী মির্জা রুহুল আমিন আর চাচা আইনবিদ মির্জা গোলাম হাফিজের নীতিনির্ধারণী রাজনৈতিক পরিমণ্ডল তাকে সবসময় উৎসাহিত করত।

১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি, ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক আইয়ুববিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন দারুণ সক্রিয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে প্রথমবার কারাবরণ তার রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি শক্তপোক্ত করে দিয়েছিল।১৯৭৯ সালে সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

তবে চাকরির সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর সরকারি আমলার আরামদায়ক জীবন কি শান্ত রাখতে পেরেছিল দেশের জন্য ব্যাকুল এই মনকে? ১৯৮৬ সাল। তিনি এক অবাক করা সিদ্ধান্ত নিলেন। চিরদিনের জন্য ইস্তফা দিলেন সরকারি চাকরি থেকে! পা রাখলেন ধুলোবালি আর কণ্টকাকীর্ণ রাজপথের অনিশ্চিত রাজনীতিতে।

চাকরি ছাড়ার পর ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী ঐতিহাসিক আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে। ১৯৯২ সালে মনোনীত হলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে।

ক্ষমতার অংশীদার হওয়া নয়, বরং মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামই ছিল তার একমাত্র ব্রত। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের পর দেশের রাজনৈতিক আকাশে নেমে আসে এক চরম দুঃসময়। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হলেন। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাসনে গেলেন।দলের অস্তিত্ব যখন বিলীন হওয়ার মুখে, ঠিক তখনই দলের প্রধান কাণ্ডারি ও ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও ২০১৬ সালে দলের অষ্টম মহাসচিবের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন।

বিগত দেড় দশক ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনের প্রতিটি দিন ছিল মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানোর গল্প। তার বিরুদ্ধে দায়ের হয় ১১০টিরও বেশি মামলা। তবে তিনি ছিলেন ইস্পাতকঠিন। পাঁচবারের বেশি কারাবরণ করেছেন। কারাগারে কাটিয়েছেন ৩৫০টিরও বেশি দিন। প্রতি মাসে তাকে ডজন খানেক মামলায় আদালতের বারান্দায় হাজির হতে হয়েছে। বার্ধক্যজনিত নানাবিধ শারীরিক জটিলতা ও হৃদযন্ত্রের ব্লক নিয়ে প্রতিনিয়ত আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন। তবে কখনো ভেঙে পড়েননি।

২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বরের সেই আবেগঘন দিন। গুলশান কার্যালয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের হাতে মনোনয়নের চিঠি তুলে দেওয়ার সময় দলীয়প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার শূন্যতার কথা মনে করে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। সেই অশ্রু ছিল দলের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর গভীরতম আনুগত্যের প্রতীক।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। দলের প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ত্যাগ বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে সত্যিই বিরল।

রাজপথের অগ্নিপরীক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামে মির্জা ফখরুলের অন্তরালের শক্তি ও প্রেরণা ছিল তার পরিবার। বিশেষত স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিদুষী নারী স্বামীর এই দীর্ঘ সংগ্রামে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। স্বামীর বারবার কারাবরণ আর কঠিন সংকটে তিনি নিজে বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে দুই কন্যাকে সামলে রেখেছেন। বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা অস্ট্রেলিয়ার নামকরা চিকিৎসা বিজ্ঞানী। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকায় শিক্ষকতা করছেন।

রাজনীতির শত ঝড়ের মাঝেও মির্জা ফখরুল তার পারিবারিক দায়িত্ব ভোলেননি। স্ত্রীর সীমাহীন ত্যাগ আর মেয়েদের নিঃশর্ত ভালোবাসা তাকে যুগিয়েছে রাজপথে লড়াই করার চরম শক্তি।

অবশেষে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত ভোর। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর তিনি শপথ নিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হিসেবে।

কিন্তু নিয়তি তাকে নিয়ে গেছে অন্য ঠিকানায়। গেল ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে। শাসনতান্ত্রিক নিয়ম ও নৈতিকতা অনুসরণ করে গেল ১৩ আগস্ট তিনি দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদসহ সব দলীয় ও রাষ্ট্রীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

সর্বশেষ ১৯ আগস্ট বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দেন সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বক্তব্যে দেওয়ার সময় বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগঘন কণ্ঠে নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চান।এ সময় প্রধানমন্ত্রীকেও আবেগাপ্লুত দেখা যায়।

এক সময়ের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের শান্ত শিক্ষক, যিনি গণতন্ত্র আর জনগণের অধিকারের জন্য নিজের জীবনের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও সরকারি ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়েছিলেন, আজ তিনি সমগ্র বাংলাদেশের অভিভাবক, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

অশ্রু, রক্ত, ত্যাগ আর সীমাহীন সাহসিকতার কণ্টকাকীর্ণ রাজপথ পেরিয়ে ক্লাসরুমের অর্থনীতির শিক্ষকের নতুন ঠিকানা এখন বঙ্গভবন।

Share this news as a Photo Card

Generating high-quality image, please wait...
সম্পর্কিত খবর : নাগরিকভাবনা ডেস্ক
এ জাতীয় আরও খবর

লোহাগড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল অনুষ্ঠিত

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ: রিজভী

টঙ্গীতে সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ ও নির্যাতন, ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

বিএনপি নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন: শফিকুর রহমান

বৃহস্পতিবার খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

একদিনে ৩ বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রিয়

মধ্যরাতে এসিল্যান্ডের বাসায় নামজারির ফাইল নিয়ে নাইটগার্ড 

রুস্তমপুর পশুর হাটে ৫০০ টাকার খাজনা আদায় হচ্ছে ৮০০ টাকা, মনিটরিং টিমের কাছে অভিযোগের সত্যতা

চৌদ্দ বছরে চৌদ্দ ফুটের দুর্গা, ময়মনসিংহের সবচেয়ে বড় প্রতিমার দাবি উযুসের

দুবাই প্রবাসী শাকিলের হাত ধরে ডিজিটাল সেবায় নতুন দিগন্ত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে নাঙ্গলকোট উপজেলা সমিতি চট্টগ্রাম এর বার্ষিক সাধারণ সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

সর্বশেষ

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি: নীলফামারীতে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

লোহাগড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, নিয়মিত হাত ধোয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সড়কের কয়েক লাখ টাকার সরকারি গাছ উধাও, তদন্তের দাবি

চিরিরবন্দরে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান নিহত

দৈনিক নাগরিক ভাবনা
শেখ রিফান আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
উপদেষ্টা সম্পাদক: সৈয়দ সফি উপদেষ্টা ও প্রকাশক: আফরোজা সিদ্দিকা
দৈনিক নাগরিক ভাবনা
🏠 ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ☎️ 09649-230220 || 📱 01915-708187 || ✉️ info.nagorikvabna@gmail.com || 🌐 NagorikBhabna.com || ⓕ ◎ 𝕏 ▶️ @NagorikBhabna

ক্লাসরুম থেকে বঙ্গভবন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৪:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চালিকাশক্তি। যিনি শত ঝড়-ঝাপটার মাঝেও দলের পতাকা শক্ত হাতে ধরে রেখেছিলেন। তবে সেই পথ চলা মসৃণ ছিল না মোটেই। কণ্টকাকীর্ণ সেই পথ পেরিয়ে আসতে তাকে জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।।

১৯৭২ সালের এক শান্ত সকাল। সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের ঢাকা কলেজের অর্থনীতির ক্লাসরুম। চক আর ডাস্টার হাতে জটিল সব অর্থনৈতিক তত্ত্ব শিক্ষার্থীদের সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন তরুণ প্রভাষক মির্জা ফখরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে সদ্যই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে শুরু করেছিলেন এই মহৎ পেশা। এরপর ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন বিদ্যাপীঠের হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন জ্ঞানের আলো।

কিন্তু তার রক্তে বইছিল দেশপ্রেম আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীনতার ধারা। পিতা সাবেক কৃষিমন্ত্রী মির্জা রুহুল আমিন আর চাচা আইনবিদ মির্জা গোলাম হাফিজের নীতিনির্ধারণী রাজনৈতিক পরিমণ্ডল তাকে সবসময় উৎসাহিত করত।

১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি, ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক আইয়ুববিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন দারুণ সক্রিয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে প্রথমবার কারাবরণ তার রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি শক্তপোক্ত করে দিয়েছিল।১৯৭৯ সালে সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

তবে চাকরির সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর সরকারি আমলার আরামদায়ক জীবন কি শান্ত রাখতে পেরেছিল দেশের জন্য ব্যাকুল এই মনকে? ১৯৮৬ সাল। তিনি এক অবাক করা সিদ্ধান্ত নিলেন। চিরদিনের জন্য ইস্তফা দিলেন সরকারি চাকরি থেকে! পা রাখলেন ধুলোবালি আর কণ্টকাকীর্ণ রাজপথের অনিশ্চিত রাজনীতিতে।

চাকরি ছাড়ার পর ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী ঐতিহাসিক আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে। ১৯৯২ সালে মনোনীত হলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে।

ক্ষমতার অংশীদার হওয়া নয়, বরং মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামই ছিল তার একমাত্র ব্রত। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের পর দেশের রাজনৈতিক আকাশে নেমে আসে এক চরম দুঃসময়। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হলেন। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাসনে গেলেন।দলের অস্তিত্ব যখন বিলীন হওয়ার মুখে, ঠিক তখনই দলের প্রধান কাণ্ডারি ও ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও ২০১৬ সালে দলের অষ্টম মহাসচিবের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন।

বিগত দেড় দশক ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনের প্রতিটি দিন ছিল মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানোর গল্প। তার বিরুদ্ধে দায়ের হয় ১১০টিরও বেশি মামলা। তবে তিনি ছিলেন ইস্পাতকঠিন। পাঁচবারের বেশি কারাবরণ করেছেন। কারাগারে কাটিয়েছেন ৩৫০টিরও বেশি দিন। প্রতি মাসে তাকে ডজন খানেক মামলায় আদালতের বারান্দায় হাজির হতে হয়েছে। বার্ধক্যজনিত নানাবিধ শারীরিক জটিলতা ও হৃদযন্ত্রের ব্লক নিয়ে প্রতিনিয়ত আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন। তবে কখনো ভেঙে পড়েননি।

২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বরের সেই আবেগঘন দিন। গুলশান কার্যালয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের হাতে মনোনয়নের চিঠি তুলে দেওয়ার সময় দলীয়প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার শূন্যতার কথা মনে করে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। সেই অশ্রু ছিল দলের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর গভীরতম আনুগত্যের প্রতীক।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। দলের প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ত্যাগ বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে সত্যিই বিরল।

রাজপথের অগ্নিপরীক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামে মির্জা ফখরুলের অন্তরালের শক্তি ও প্রেরণা ছিল তার পরিবার। বিশেষত স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিদুষী নারী স্বামীর এই দীর্ঘ সংগ্রামে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। স্বামীর বারবার কারাবরণ আর কঠিন সংকটে তিনি নিজে বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে দুই কন্যাকে সামলে রেখেছেন। বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা অস্ট্রেলিয়ার নামকরা চিকিৎসা বিজ্ঞানী। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকায় শিক্ষকতা করছেন।

রাজনীতির শত ঝড়ের মাঝেও মির্জা ফখরুল তার পারিবারিক দায়িত্ব ভোলেননি। স্ত্রীর সীমাহীন ত্যাগ আর মেয়েদের নিঃশর্ত ভালোবাসা তাকে যুগিয়েছে রাজপথে লড়াই করার চরম শক্তি।

অবশেষে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত ভোর। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর তিনি শপথ নিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হিসেবে।

কিন্তু নিয়তি তাকে নিয়ে গেছে অন্য ঠিকানায়। গেল ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে। শাসনতান্ত্রিক নিয়ম ও নৈতিকতা অনুসরণ করে গেল ১৩ আগস্ট তিনি দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদসহ সব দলীয় ও রাষ্ট্রীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

সর্বশেষ ১৯ আগস্ট বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দেন সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বক্তব্যে দেওয়ার সময় বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগঘন কণ্ঠে নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চান।এ সময় প্রধানমন্ত্রীকেও আবেগাপ্লুত দেখা যায়।

এক সময়ের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের শান্ত শিক্ষক, যিনি গণতন্ত্র আর জনগণের অধিকারের জন্য নিজের জীবনের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও সরকারি ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়েছিলেন, আজ তিনি সমগ্র বাংলাদেশের অভিভাবক, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

অশ্রু, রক্ত, ত্যাগ আর সীমাহীন সাহসিকতার কণ্টকাকীর্ণ রাজপথ পেরিয়ে ক্লাসরুমের অর্থনীতির শিক্ষকের নতুন ঠিকানা এখন বঙ্গভবন।

Share this news as a Photo Card

Generating high-quality image, please wait...
শেখ রিফান আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
উপদেষ্টা সম্পাদক: সৈয়দ সফি উপদেষ্টা ও প্রকাশক: আফরোজা সিদ্দিকা