ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১০ মে ২০২৬

গত ২৪ মাস ধরে বিনা বেতনে কলেজে চাকুরীরত অবস্থায় আছেন ৪১ জন শিক্ষক কর্মচারী

জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ: 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৪৪ বার পঠিত
কিশোরগঞ্জের প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্টান ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ৪১ জন নন-এমপিও শিক্ষক ও কর্মচারী দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এতে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ- আব্দুল্লাহ আল মামুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেতন বন্ধ করে রেখেছেন এবং বেতন চাইলে দুর্ব্যবহার করছেন প্রতিনিয়ত।
উক্ত কলেজ থেকে জানা যায়,১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ ১৯৮৪ সালে এম,পিও,ভুক্ত হয়। বর্তমানে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জনের মতন। কলেজের বাৎসরিক আয় প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা,ব্যয় প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা মতন।
শিক্ষকরা বলছেন,প্রতিষ্ঠানে অর্থের ঘাটতি নেই,কিন্তু অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল- মামুন সঠিক  বাবে আয়-ব্যায়ের হিসাব প্রকাশ করেন না।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন,দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বেতন পাই না। অধ্যক্ষ নিয়মিত কলেজে আসেন না, কাউকে দায়িত্বও দেন না। আমাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক আরেকজন শিক্ষক বলেন, বাংলাদেশে সম্ভবত এটিই একমাত্র কলেজ,যেখানে বিনা বেতনে চাকরি করতে হচ্ছে আমাদের কে। আমাদের বেতন বন্ধ থাকলেও ফান্ড আছে,অথচ অধ্যক্ষ দেন না। গভর্নিং বডি এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
কলেজের অভিভাবক সদস্য আবু নাসের মিন্টু হিলালি বলেন,টাকা থাকলেও কেন বেতন দেওয়া হয় না,সেটা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষই বলতে পারবেন। তিনি সপ্তাহে একদিনও অফিস করেন না, ফোনও ধরেন না।
দাতা সদস্য প্রতম শ্রেনীর ঠিকাদার মোঃ- কামরুজ্জামান সোহেল বলেন,অধ্যক্ষ মাসের পর মাস কলেজে আসেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, এমনকি নিয়মিত মিটিংও করেন না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মোছাঃ-নূরু নাহার চায়না বলেন,নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তা গ্রহণ করেননি এবং নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
গভর্নিং বডির সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম রতন বলেন,কলেজের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমি আসলে সমস্হ বিষয়গুলো জানতাম না। এখন জরুরি সভা ডেকে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের কারণে বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ায় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর চার মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছি।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

গত ২৪ মাস ধরে বিনা বেতনে কলেজে চাকুরীরত অবস্থায় আছেন ৪১ জন শিক্ষক কর্মচারী

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
কিশোরগঞ্জের প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্টান ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ৪১ জন নন-এমপিও শিক্ষক ও কর্মচারী দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এতে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ- আব্দুল্লাহ আল মামুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেতন বন্ধ করে রেখেছেন এবং বেতন চাইলে দুর্ব্যবহার করছেন প্রতিনিয়ত।
উক্ত কলেজ থেকে জানা যায়,১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ ১৯৮৪ সালে এম,পিও,ভুক্ত হয়। বর্তমানে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জনের মতন। কলেজের বাৎসরিক আয় প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা,ব্যয় প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা মতন।
শিক্ষকরা বলছেন,প্রতিষ্ঠানে অর্থের ঘাটতি নেই,কিন্তু অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল- মামুন সঠিক  বাবে আয়-ব্যায়ের হিসাব প্রকাশ করেন না।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন,দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বেতন পাই না। অধ্যক্ষ নিয়মিত কলেজে আসেন না, কাউকে দায়িত্বও দেন না। আমাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক আরেকজন শিক্ষক বলেন, বাংলাদেশে সম্ভবত এটিই একমাত্র কলেজ,যেখানে বিনা বেতনে চাকরি করতে হচ্ছে আমাদের কে। আমাদের বেতন বন্ধ থাকলেও ফান্ড আছে,অথচ অধ্যক্ষ দেন না। গভর্নিং বডি এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
কলেজের অভিভাবক সদস্য আবু নাসের মিন্টু হিলালি বলেন,টাকা থাকলেও কেন বেতন দেওয়া হয় না,সেটা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষই বলতে পারবেন। তিনি সপ্তাহে একদিনও অফিস করেন না, ফোনও ধরেন না।
দাতা সদস্য প্রতম শ্রেনীর ঠিকাদার মোঃ- কামরুজ্জামান সোহেল বলেন,অধ্যক্ষ মাসের পর মাস কলেজে আসেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, এমনকি নিয়মিত মিটিংও করেন না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মোছাঃ-নূরু নাহার চায়না বলেন,নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তা গ্রহণ করেননি এবং নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
গভর্নিং বডির সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম রতন বলেন,কলেজের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমি আসলে সমস্হ বিষয়গুলো জানতাম না। এখন জরুরি সভা ডেকে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের কারণে বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ায় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর চার মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছি।